অস্তিত্ব বিলীনের পথে শতাধিক লাশের গণকবর

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

  রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

রাঙ্গাবালী উপজেলায় নৌদুর্ঘটনায় নিহতদের বেওয়ারিশ গণকবর।

নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় শতাধিক লাশের বেওয়ারিশ গণকবর।  সংরক্ষণের অভাবে এসব গণকবরের অস্তিত্ব এখন বিলীনের পথে।

তবু এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ৩ মে ঢাকার সদরঘাট থেকে রাঙ্গাবালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী এমভি সালাউদ্দিন-২ নামে লঞ্চ মেঘনা নদীর ষাটনলে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।

এ ঘটনার তিন দিন পর লঞ্চসহ তিন শতাধিক যাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ১২৪টি লাশ এমভি রহমান নামে একটি লঞ্চে করে রাঙ্গাবালীর খালগোড়া এলাকায় নিয়ে আসা হয়।

লাশগুলো পচে ও ফুলে যাওয়ায় পরিবার সদস্যরা শনাক্ত করতে পারেনি। তাই বেওয়ারিশ হিসেবে খালগোড়া বাজারসংলগ্ন খালের তীরে গণকবর দেয়া হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, অবহেলার কারণে মাটিতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এ গণকবর। কেউ না বলে দিলে সেখানে যে গণকবরের অস্তিত্ব আছে, সেটি বোঝার উপায় নেই এখন।

এ ছাড়া খালের পাড়ে হওয়ায় শতাধিক লাশের এ গণকবরের কিছু অংশ ইতিমধ্যে ভেঙে গেছে। অচিরেই সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া না হলে পুরো গণকবরটি খালে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, গণকবরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০১১ সালে সেখানে ‘রাঙ্গাবালী গণকবর হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং শিশু এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করা হয়।

তবে সেই প্রতিষ্ঠানের এখন আর তেমন কার্যক্রম নেই বলে তারা অভিযোগ করেন।

রাঙ্গাবালী গণকবর হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং শিশু এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং। ছবি: যুগান্তর

স্থানীয়রা আরও জানান, এমভি সালাউদ্দিন-২ এর লঞ্চডুবির মর্মান্তিক নৌদুর্ঘটনায় নিখোঁজদের পরিবারের অনেকে প্রায়ই এ গণকবরে ছুটে আসেন। স্বজনরা এখানেই শুয়ে আছেন ধারণায় জিয়ারত ও প্রার্থনা করে যান।

সেই স্বজনহারা বেদনার্তদের জন্য হলেও এ গণকবর সংরক্ষণে এখনই উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন স্থানীয়রা।

সে নৌদুঘর্টনার সময়কালীন রাঙ্গাবালী রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সভাপতি আমির হোসেন মল্লিক বলেন, ‘সেদিনের দৃশ্য দুঃস্বপ্নের মতো দুই চোখে আজও ভেসে ওঠে। সেদিন বেশ কিছু তরুণ এবং যুবক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে লাশগুলো গণকবর দেয়। সেই গণকবরের অস্তিত্ব সংকটে থাকায় বর্তমান প্রজন্মের কাছে এ ঘটনাটি অজানা।’

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ওই গণকবর দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় রয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে এসেছে। জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে ওই গণকবর রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশাপাশি এটিকে উপজেলা গণকবর স্থানে উন্নিত করা হবে।’