শিশুর জিন ছাড়ানোর নামে তুলা রাশির জাতক নৈশপ্রহরীকে হত্যা

  বগুড়া ব্যুরো ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

বগুড়া

বগুড়ার গাবতলীতে জ্বরে আক্রান্ত এক শিশুকন্যাকে জিনে ধরেছে এমন প্রচারণা চালিয়ে ওই জিন ছাড়ানোর নামে কবিরাজরা মোফাজ্জল হোসেন মক্কা (৫০) নামে তুলা রাশির জাতক নৈশপ্রহরীর বুকের ওপর উঠে লাফালাফি করায় তিনি মারা গেছেন।

বুধবার রাতে গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ধোড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে দুই কবিরাজ এবং ওই শিশুর পরিবার বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে।

নিহতের ছেলে বাবু মিয়া বৃহস্পতিবার দুপুরে গাবতলী থানায় ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে বাদল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে।

গাবতলী থানার ওসি খায়রুল বাশার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গাবতলীর বাগবাড়ি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক সোহেল রানা ও অন্যরা জানান, উপজেলার ধোড়া পূর্বপাড়া গ্রামের বাদশার মেয়ে জেমির (১২) জ্বর হয়। ডাক্তারের ওষুধ খাবার পরও তিন দিনে জ্বর না ছাড়ায় বাদশা মহিষাবান পূর্বপাড়ার আজিজার রহমানের ছেলে কবিরাজ নজরুল ইসলাম ভেটুর শরণাপন্ন হন।

ভেটু মেয়েকে দেখে জানান, তাকে জিনে ধরেছে। একজন তুলা রাশির জাতক পেলে তার মাধ্যমে ওই জিন ছাড়ানো সম্ভব হবে। তখন ধোড়া গ্রামের মৃত বছির প্রামাণিকের ছেলে বাদল চকমরিয়া গ্রামের মৃত আনসার আলীর ছেলে গোলাবাড়ি বণিক সমিতির নৈশপ্রহরী তুলা রাশির জাতক মোফাজ্জল হোসেন মক্কাকে অবহিত করেন।

মক্কা হাঁপানি রোগে অসুস্থ হলেও একটি শিশুকে বাঁচানোর স্বার্থে তিনি রাজি হন। কবিরাজ ভেটু জিন ছাড়াতে অপর কবিরাজ ধোড়া পূর্বপাড়ার মৃত ইসমাইলের ছেলে জয়নাল আবেদীনসহ ৮-১০ জনকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার রাত ১০টার দিকে ধোড়া গ্রামে বাদশার বাড়িতে যান।

কবিরাজরা শিশু জেমি ও মক্কাকে পাশাপাশি শুইয়ে রেখে জিন ছাড়ানোর উদ্যোগ নেন। কবিরাজরা মন্ত্র পড়তে শুরু করলে অসুস্থ মক্কা আরও অসুস্থ হয়ে ছটফট করতে থাকেন।

এ সময় কবিরাজরা বলেন, শিশু জেমির জিন মক্কার শরীরে ঢুকেছে। একটু পর তাকে ছেড়ে চলে যাবে। তখন কবিরাজ ভেটু ও জয়নাল তার (মক্কা) বুকের ওপর উঠে লাফালাফি করতে থাকেন। এ সময় ৭-৮ জন তাকে শক্ত করে ধরে রাখেন। একপর্যায়ে মক্কা মারা যান। টের পেয়ে দুই কবিরাজ ও শিশু জেমির পরিবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

সাহেলা বেগম নামে প্রতিবেশী এক নারী মক্কাকে উদ্ধার করে রাত ১২টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মক্কাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিদর্শক সোহেল রানা আরও জানান, মক্কার লাশ উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পা-সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter