পীরগঞ্জে আ’লীগ নেতার ভাইকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় সংঘর্ষে আহত ১০

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার ছোট ভাইকে গোপনে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া নিয়ে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের রায়পুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

সংঘর্ষের পর অর্ধশতাধিক বহিরাগত লাঠিসোঁটা নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। 

বিদ্যালয়টিতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়টির ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রায়পুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্প্রতি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম নান্নুকে নির্বাচিত করায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী ক্ষোভে ফুঁসে উঠে। একপর্যায়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে এবং শিক্ষকদের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে এলাকাবাসীর পাল্টাপাল্টি হামলা, সভা, সমাবেশও চলে। কয়েক দিন পরে ক্লাস শুরু হয়।

এরই মধ্যে ম্যানেজিং কমিটির ওই বিতর্কিত সভাপতি গোপনে পীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের ছোট ভাই খয়বার মিয়াকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেন। এ খবর প্রকাশ হলে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা আরও উত্তেজিত হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় চলাকালীন ম্যানেজিং কমিটির ওই সভাপতি ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক বহিরাগত ভ্যানযোগে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিদ্যালয়টিতে ঢুকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষের তালা ভেঙে গোপনে নিয়োগ দেয়া প্রধান শিক্ষককে চেয়ারে বসাতে যায়। এ সময় ক্লাসরত শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের দ্বিতীয়তলা থেকে নিচতলায় নেমে আসতে চাইলে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

পরে বিক্ষুব্ধ কয়েক শিক্ষার্থী বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে গেটের তালা ভেঙে দিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে সভাপতি রেজাউল করিম নান্নু, সাবেক ইউপি সদস্য আতোয়ার রহমান, গোলাপ মিয়াসহ ১০ জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে আতোয়ার রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় বহিরাগতরা পালিয়ে রক্ষা পায়। পরে এসে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মমিন মণ্ডল পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে ‘প্রধান শিক্ষক’ পদে নিয়োগ হয়নি বলে তিনি ঘোষণা দেন বলে জানা গেছে।

পীরগঞ্জ থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েছিল। এ ব্যাপারে আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি।