রাঙ্গাবালীর ৮ চরে কোনো ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নেই

পানি উডলে কেউ গাছে উডে, কেউ আল্লাহর উফরে ভরসা কইরা ঘরের মধ্যেই থাহে

  রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

রাঙ্গাবালীর ৮ চরে কোনো ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নেই
এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন রাঙ্গাবালী উপজেলার চরকাশেমের বাসিন্দারা

চরের নাম ‘চরকাশেম’। আট শতাধিক মানুষের বসবাস। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন বঙ্গোপসাগরঘেঁষা চরটিতে নেই কোনো বেড়িবাঁধ। নেই কোনো সাইক্লোন সেল্টার।

ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মৌসুমে পানি বাড়লে চরের বাসিন্দাদের গাছে উঠে আল্লাহর নাম নেয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।

এমন দৃশ্য শুধু চরকাশেমেই নয়, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার আরও আটটি চরের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে চরম সংকটাপন্নে কাটে এসব চরের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জীবন।

চরগুলো হল- উপজেলার রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের কলাগাছিয়াচর, চরকানকুনি, ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চরইমারশন, চরনজির, চরতোজাম্মেল, কাউখালীচর ও চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতা।

এসব চরে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়নি। অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় আটটি চরই কমবেশি প্লাবিত হয়। তখন জোয়ারের পানিতে অনেকের সহায়সম্বল ভেসে যায়।

চরকাশেমের বাসিন্দা হাওয়া বেগম যুগান্তর প্রতিনিধিকে বলেন, ‘অবদা (বেড়িবাঁধ) না থাহায় চরে জোয়ার-ভাডার পানি উডলে ফোলা-মাইয়া লইয়া আল্লাহর দিকে চাওন ছাড়া আর কিছু করার নাই। আমাগো চরে সেন্টার নাই। হেই লাইগ্যা কেউ গাছে উডে। কেউ আল্লাহর উফরে ভরসা কইরা ঘরের মধ্যেই থাহে।’

কাউখালীচরের রহিম মিয়া বলেন, ‘এখানে আশ্রয় কেন্দ্র নেই বলে পানি বাড়লে উঁচু জায়গায় গিয়া ছেলেসন্তান নিয়া থাকি। কিন্তু বড় ধরনের ঝড়-বন্যা হলে বাঁচার আর সম্ভাবনা নাই।’

সরেজমিন দেখা গেছে, বিচ্ছিন্ন ওই আটটি চরের মধ্যে কোথাও বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নেই। সামান্য জোয়ারেই চরে পানি উঠে যায়। কালো মেঘের গর্জন শুনলেই চরের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

আর সমুদ্রে আইলা, সিডরের মতো ঝড়ের সৃষ্টি হলে বিধাতার কাছে প্রাণ সপে দেন তারা।

আইলা, সিডরে এসব চরে ব্যাপক ক্ষতিসহ অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

এভাবেই বর্ষা মৌসুমের পাঁচ-ছয় মাস প্রকৃতির বিরূপ আচরণের সঙ্গে একরকম যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হচ্ছে এসব চরবাসীকে।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন চরগুলোতে আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান।

আশ্রয়কেন্দ্র কেন নেই? এ প্রশ্নে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তকর্তা তপন কুমার ঘোষ বলেন, ‘ওইসব চরে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় আমরা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র দিতে পারছি না।’

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম সগির বলেন, ‘যেসব চরে স্কুল নেই, সেগুলোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তখন প্রকল্প ছিল না। এখন এক হাজার স্কুল তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার। কাজ শুরু হলে এসব চরে স্কুল হবে বলে আশা করছি।’

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter