মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে রোগী দেখা সেই পল্লী চিকিৎসক জেলে

  ভোলা প্রতিনিধি ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে রোগী দেখা সেই পল্লী চিকিৎসক জেলে
আটককৃত ভুয়া ও প্রতারক পল্লী চিকিৎসক কামরুল আলম। ছবি: যুগান্তর

এমবিবিএস ডাক্তার না হয়েও তিনি ডাক্তার, এফসিপিএস (কোর্স) ডিগ্রি না নিয়েও বুক উচিয়ে লেখেন এফসিপিএস ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। ৮শ থেকে এক হাজার টাকা ফি নিতেন রোগীদের কাছ থেকে। এমন এক ভুয়া ও প্রতারক পল্লী চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে। তার নাম কামরুল আলম।

শুক্রবার দুপুরে ভোলার দৌলতখান উপজেলার লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড কনসাল্টেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানে বসে রোগী দেখা ও উচ্চহারে ফি নেয়ার সময় শুক্রবার তাকে আটক করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জীতেন্দ্র কুমার নাথ।

তদন্তে প্রমাণিত হয় তিনি ভুয়া সনদ ব্যবহার করছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকারও করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তার এক বছরের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

কামরুল আলম এমবিবিএস ও এফসিপিএস সনদধারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন রোগীদের চিকিৎসাপত্র দিয়ে আসছিলেন। এমনকি তার নামের আগে যৌনরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ উল্লেখ রয়েছে।

তিনি নিজেকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে কর্মরত বলে প্রথমে দাবি করেন।

তদন্তে জানা গেছে, ওই নামের এবং নিবন্ধনে কোনো ডাক্তার নেই। প্রতারক কামরুল আলমের বাড়ি কুমিল্লা জেলার চান্দিনা এলাকায়। তিনি শুক্র ও শনিবার দৌলতখানের ওই ডায়গনস্টিক সেন্টারে এসে ৮শ টাকা ফি নিয়ে রোগী দেখতেন। এমনকি একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে হাতিয়ে নিতেন বিপুল অংকের টাকা।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্র নাথ মজুমদার যুগান্তরকে জানান, দুই মাস আগে তিনি ওই ডায়গনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ওই ডাক্তারের মূল সনদপত্র তাকে দেখানোর জন্য নির্দেশ দিয়ে এলেও সেন্টার মালিকপক্ষ তা করেনি।

সির্ভিল সার্জন আরো জানান, জেলায় বেসরকারিভাবে ১৬টি ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে। এছাড়া লাইসেন্সধারী ডায়গনস্টিক সেন্টার রয়েছে ৪৪টি। এই ৬০টি প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষকে দুই দফা চিঠি দিয়ে জানানো হয়, ঢাকা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেসব ডাক্তার এসে রোগী দেখেন, তাদের প্রত্যেকের মূল সনদ সিভিল সার্জন কর্তৃক যাচাই করে নেয়ার জন্য। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এ কাজ করেনি। ওইসব প্রতিষ্ঠানকে সর্তক করা হচ্ছে বলেও জানান সির্ভিল সার্জন।

ডাক্তার নন, এমন কিছু প্রতারক নামের আগে উচ্চ ডিগ্রি ব্যবহার করে রোগীদের প্রতারিত করছেন- এমন অভিযোগ থাকায় শুক্রবার দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অভিযানে নামেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জীতেন্দ্র কুমার নাথ যুগান্তরকে জানান, আটক কামরুল আলম স্বীকার করেন তিনি এমবিবিএস ডাক্তার নন। তিনি মূলত একজন পল্লী চিকিৎসক। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের যোগসাজশে তিনি তার নামের আগে এমবিবিএস ও এফসিপিএস ডিগ্রি ব্যবহার ও বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করে প্রতারণা করেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter