রাবি অধ্যাপিকা জলির অস্বাভাবিক মৃত্যুর দ্রুত বিচার দাবি

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

  রাজশাহী ব্যুরো

রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির অস্বাভাবিক মৃত্যুর দ্রুত বিচারের দাবিতে রোববার ক্যাম্পাসে পদযাত্রা বের হয়। ছবি-যুগান্তর

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির অস্বাভাবিক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে মৌন পদযাত্রা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে রবীন্দ্র ভবনের সামনে থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। 

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিভাগের ১২৩ নম্বর কক্ষে দ্বিতীয় প্রয়াণ দিবসে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। 

স্মরণ সভায় বিভাগের সভাপতি আল মামুন বলেন, জলির মৃত্যু প্রশ্নবিদ্ধ যা এখনও আমাদেরকে পীড়া দেয়।  যতদিন এর সঠিক সুরাহা না হবে ততদিন পর্যন্ত আমরা এ দাবি জানিয়ে যাব।

শিক্ষক সাজ্জাদ বকুল বলেন, সহকর্মী জলির মৃত্যুটি আত্মহত্যা নয়।  তার মৃত্যুটি পীড়াদায়ক।  অস্বাভাবিক মৃত্যুর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সত্য ঘটনা উন্মোচন হয়নি।  

এক্ষেত্রে পুলিশের অবহেলাকে দায়ী করেন তিনি।  সেই সঙ্গে তার অস্বাভাবিক মৃত্যুর দ্রুত সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান। 
  
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক মশিহুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক সাজ্জাদ বকুল, আব্দুল্লাহ বাকী, কাজী মামুন হায়দার রানা, মাহবুবুর রহমান রাসেল, এ বিএম সাইফুল ইসলাম প্রমুখসহ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

জলির মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিভাগের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে জানান, পুলিশ যে তদন্ত করেছে তা সঠিক তদন্ত হয়নি।  তদন্তে অনেক অসঙ্গতি ও ক্রটি রয়েছে।  তাই আইনজীবী পুনরায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। 

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনের নিজ কক্ষ থেকে আকতার জাহান জলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।  কক্ষ থেকে কীটনাশকের বোতল ও সুইসাইডাল নোট উদ্ধার করে পুলিশ। 

ওই ঘটনার পর দিন শিক্ষিকা জলির ছোট ভাই কামরুল হাসান বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ এনে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে নগরীর মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন 

জলির আত্মহত্যায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে ওই বছরের ৫ নভেম্বর একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতিকুর রহমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

এরপর চাকরির বিধিমালা অনুসারে ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হওয়া ওই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬৯তম সিন্ডিকেট সভায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।