নবীগঞ্জে সুস্থ শিশুকে অসুস্থ সাজিয়ে হাসপাতালে ভর্তির তদন্তে কমিটি

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

  হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সুস্থ শিশুকে অসুস্থ সাজিয়ে হাসপাতালে ভর্তির ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা এ কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কমিটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুস সামাদকে আহ্বায়ক এবং মেডিকেল অফিসার ডা. ইফতেখার হোসেন চৌধুরী ও ডা. জান্নাত আরা চৌধুরীকে সদস্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের ফুলতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা শ্রমিক রুবেল মিয়া ও শিরিনা আক্তারের ৪০ দিন বয়সী শিশু ইসমত নাহার জিবা ঘনঘন হেঁচকি দিচ্ছিল। তাদের মনের সন্দেহ দূর করতে গত ৩১ আগস্ট সকালে জিবাকে নিয়ে স্থানীয় আউশকান্দি বাজারের অরবিট হসপিটালের নবজাতক ও শিশু রোগ চিকিৎসক ডা. এএইচএম খায়রুল বাশারের শরণাপন্ন হন তার মা শিরিন আক্তার।

ডাক্তার ৫০০ টাকা ভিজিট রেখে কিছু ওষুধ লিখে দেন এবং পরদিন শিশুর অবস্থা জানানোর জন্য পরামর্শ দেন। পরের দিন শিশুটি আগের মতোই রয়েছে এ কথা জানালে ডা. খায়রুল বাশার তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি দ্রুত মৌলভীবাজারের মামুন হাসপাতালে ভর্তি করে সেখানে ডা. বিশ্বজিতের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তাদের।

মামুন হাসপাতালে গিয়ে ডা. বিশ্বজিতের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেয়ার জন্যও ওই শিশুর মাকে বলেন। আর্থিক সঙ্গতি না থাকলেও শিশুর প্রাণরক্ষার্থে দ্রুত মৌলভীবাজার ছুটে যান শিশুর মা শিরিনা আক্তার। সেখানে যাওয়ার পর খুঁজে বের করেন ডা. বিশ্বজিতকে। এমনকি তার সঙ্গে শিরিনা আক্তারের মোবাইল ফোন দিয়ে কথা বলেন ডা. খায়রুল বাশার।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডা. বিশ্বজিত মোবাইল ফোনে ডা. খায়রুল বাশারকে জানান, ‘শিশু জিবা পুরো সুস্থ আছে।’ কিন্তু এ সময় সম্পূর্ণ সুস্থ জিবাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন ডা. খায়রুল বাশার।

তিনি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে ইনজেকশন দেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই যেন না বলে শিশুটি সুস্থ আছে। শিশুটি সুস্থ আছে সেটি নিজে জেনেই তার কাছে ভর্তি করার জন্য পাঠিয়েছেন বলেও ডা. বিশ্বজিতকে জানান।

তাদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়ে গেলেই যত বিপত্তি ঘটে। এ ঘটনার থেকে সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়। সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

এরপরই স্বাস্থ্য বিভাগ নড়েচড়ে বসে। তারা বিষয়টি তদন্তে উল্লিখিত কমিটি গঠন করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা জানান, বিষয়টি নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতেও আলোচনা হয়েছে। সিভিল সার্জনের নির্দেশে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।