পটুয়াখালীতে পরীক্ষাকক্ষে ঢুকে কলেজশিক্ষার্থীকে মারধর

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

  পটুয়াখালী (দক্ষিণ) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীতে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে পরীক্ষার কক্ষে ঢুকে আফজাল হোসেন নামে (২২) নামে এক পরীক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে। এ সময় এক অন্তঃসত্ত্বা পরীক্ষার্থীসহ আরও কয়েক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

রোববার দুপুরে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে কার্যব্যবস্থাপনা টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো আইনি প্রক্রিয়া না নেয়ায় কলেজের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে পরবর্তী হামলা আতঙ্কে অন্তত শতাধিক পরীক্ষার্থী সোমবার পরীক্ষা দিতে কলেজে আসেনি বলে জানা গেছে। 

আহত আফজাল পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনায় অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

আহত আফজাল জানান, রোববার কলেজে কার্যব্যবস্থাপনা টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে আফজাল ওই পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিছুক্ষণ পরে আফজাল পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে টয়লেট রুমে আসে। এ সময় আফজালের টয়লেটে অতিরিক্ত বেগ পাওয়ায় টয়লেটের ভেতরে থাকা ব্যক্তিকে দ্রুত বের হতে অনুরোধ করে। এ সময় টয়লেটের অপেক্ষায় ছিল আরও কয়েক ছাত্রছাত্রী।

কিন্তু টয়লেটের ভেতর থেকে প্রাণীবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হিমেল বেড় হলে উভয়েই মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হিমেল আফজালকে দেখে নেয়ার হুমকি দিলে আফজাল টয়লেট কক্ষ ত্যাগ করে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেয়।

কিছুক্ষণ পর হিমেল ৩০-৪০ জনের একটি বাহিনী নিয়ে পরীক্ষার রুমে এসে শিক্ষক সুখেন্দু বিশ্বাস পাইককে ধাক্কা দিয়ে আফজালকে ব্যাপক মারধর করে। এতে আফজাল জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।  এ সময় শিপ্রা নামে এক অন্তঃসত্ত্বা পরীক্ষার্থীসহ আরও এক ছাত্রী আহত হন।

হামলা থেকে রেহাই পেতে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করে পরীক্ষাস্থল ত্যাগ করেন পরীক্ষার্থী ও কলেজের সাধারণ ছাত্ররা। ফলে বন্ধ হয়ে যায় চলমান পরীক্ষা। পরে সহপাঠীসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আফজালকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পটুয়াখালী সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আল মামুন যুগান্তরকে জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছে, তাই পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

পটুয়াখালী সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ জয়দেব সজ্জন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আফজালকে মারধরের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও আহতের যাবতীয় চিকিৎসা হামলাকারীরা বহন করবে বলে লিখিত মুচলেকা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অপরাধ করবে না হামলাকারীরা।

পটুয়াখালী সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এই প্রথমবার পরীক্ষাকক্ষে পরীক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলেজের অন্যান্য শিক্ষকও শিক্ষার্থীরা।