আবার সেই পরিবারকে সমাজচ্যুত করে রেখেছেন মাতব্বররা

  রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

আবার সেই পরিবারকে সমাজচ্যুত করে রেখেছেন মাতব্বররা

নওগাঁর রাণীনগরে মৃত ব্যক্তির মিলাদে অংশ না নেয়ার কারণে একটি পরিবারকে এক বছরের বেশি সময় ধরে গ্রামের মাতব্বররা সমাজচ্যুত (একঘরে) করে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যতই দিন যাচ্ছে ততই ওই পরিবারকে গ্রামের সবকিছু থেকে বিরত রাখার জন্য গ্রামের কতিপয় মাতব্বররা প্রতিনিয়তই জারি করছেন নতুন নতুন নিয়মকানুন। এতে করে অসহায় জীবনযাপন করছিল ওই পরিবার।

সেই পরিবার থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করলে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব বিষয়টি সমাধান করে দিলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার সেই পরিবাকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করে রেখেছেন গ্রামের কতিপয় মাতব্বররা।

রাণীনগর উপজেলার একডালা ইউনিয়নের যাত্রাপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. মুনছুর আলী প্রামাণিকের পরিবারকে সমাজচ্যুত (একঘরে) করে রাখা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১ বছর আগে যাত্রাপুর গ্রামে মৃত মহির উদ্দিন মণ্ডলের মিলাদে ব্যক্তিগত কারণে অংশগ্রহণ করতে পারেনি ওই গ্রামের মুনছুর আলী প্রামাণিকের পরিবার।

এ কারণে গ্রামের কতিপয় মাতব্বর আব্দুস সামাদ মণ্ডলসহ ওই গ্রামের আরও কিছু মাতব্বরদের নিয়ে গ্রামে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে মুনছুর আলীর পরিবারকে একঘরে (সমাজচ্যুত) করেন।

পরে মাতব্বররা ওই পরিবারটিকে গ্রামের কোনো কাজে বা কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেয় না। এমনকি মুনছুর আলীর শ্যালকের মেয়ের বিয়েতেও এই পরিবারকে দাওয়াত না দিতে এবং ওই বিয়েতে অংশগ্রহণ না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন মাতব্বররা।

দিন যতই যাচ্ছিল ওই পরিবারের প্রতি একঘরে করে রাখার অত্যাচারের মাত্রা ততই বাড়ছিল।

অবশেষে মুনছুর আলী প্রামাণিকের ছেলে মো. জহুরুল ইসলাম রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব দুপক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধান করে দেন।

আবার মঙ্গলবার যাত্রাপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ের মিলাদ মাহফিল ছিল। মুনছুর আলীর পবিবারকে দুদিন আগে দাওয়াত দেন আব্দুর রহমান। আবার মিলাদের দিন মঙ্গলবার সকালে মাতব্বরদের চাপে দাওয়াতটি ফেরত নিয়েছেন তিনি।

সেই যাত্রাপুর গ্রামের কতিপয় মাতব্বর এনামুল হক, মজিবর রহমান, আব্দুস সামাদ, আকব্বর, শহিনসহ সবাই মিলে আবার মঙ্গলবার থেকে ওই পরিবারকে একঘরে (সমাজচ্যুত) করে রেখেছেন।

মুনছুর আলীর ছেলে মো. জহুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের মাতব্বর নাজমুল হক, মজিবর রহমান, আব্দুস সামাদ, আকব্বর, শহিনসহ সবাই মিলে পরিকল্পনা করে আমাদের পরিবারকে আবার একঘরে (সমাজচ্যুত) করে রেখেছে। আসলে কী কারণে আমাদের পরিবারের ওপর এত অত্যাচার করা হচ্ছে তার সঠিক কারণ আমার জানা নেই।

এর আগে আমাদের পরিবারকে একঘরে রাখা হয়েছিল। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করলে ইউএনও সাহেব বিষয়টি সমাধান করে দেন। তবে ইউএনওর নির্দেশ অমান্য করে আবার আমাদের পরিবারকে মঙ্গলবার সকাল থেকে একঘরে করে রেখেছেন মাতব্বররা। আমরা ভেবেছিলাম তারা হয়তো বা আমাদের পরিবারের প্রতি সদয় হবেন কিন্তু দিন যাচ্ছে তত আমাদের পরিবারের প্রতি মাতব্বরদের অত্যাচারের মাত্রা বৃদ্ধিই পাচ্ছে। এমনকি তারা আমার মামাতো বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে পর্যন্ত আমাদের পরিবারকে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি। আমরা এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চাই। আমরা এই গ্রামের অত্যাচারী মাতব্বরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যাত্রাপুর গ্রামের মাতব্বর আব্দুস সামাদ মণ্ডল। তিনি বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া।

রাণীনগর থানার ওসি এএসএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব বলেন, বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখছি।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: jugantor[email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter