বাবা-মায়ের খোঁজে পাবনার পথে পথে ঘুরছেন ডেনিশ নাগরিক মিন্টো

  পাবনা প্রতিনিধি ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:২২ | অনলাইন সংস্করণ

ডেনিশ নাগরিক মিন্টো কারস্টেন সোনিক ও তার স্ত্রী এনিটি হোলমিহেভ
ডেনিশ নাগরিক মিন্টো কারস্টেন সোনিক ও তার স্ত্রী এনিটি হোলমিহেভ। ছবি: যুগান্তর

৪১ বছর পর হারিয়ে যাওয়া বাবা-মার সন্ধানে স্ত্রীকে নিয়ে পাবনার পথে পথে ঘুরছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডেনিশ নাগরিক মিন্টো কারস্টেন সোনিক। ছয় বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া মিন্টো জানেন না তার বাবা-মা এমনকি গ্রামের নাম।

শুধু এটুকু মনে আছে তার-পাবনার নগরবাড়ি ঘাট থেকে সে হারিয়ে যায়। ছোটবেলার একটি ছবিকে সম্বল করে নিজের পরিবার ফিরে পেতে পাবনার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি।

হারিয়ে যাওয়ার সময়কার তার ছবি দেখিয়ে জানতে চাইছেন কেউ এই ছেলেটিকে চেনেন কিনা?

মিন্টোর বিলি করা লিফলেট থেকে জানা যায়, ১৯৭৭ সালে ছয় বছর বয়সে পাবনার নগড়বাড়ি ঘাটে হারিয়ে যান মিন্টো। সেখান থেকে চৌধুরী কামরুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি মিন্টোকে পৌঁছে দেন ঢাকার এক আশ্রমে। ১৯৭৮ সালে ওলে ও বেনফি নামের ডেনিশ দম্পতি দত্তক নিয়ে ডেনমার্ক নিয়ে যান মিন্টোকে।

বুধবার পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে মিন্টো বলেন, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে সস্ত্রীক পাবনায় আসেন তিনি। কিছুদিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন পাবনায় স্বাধীন বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। আত্মপরিচয় অনুসন্ধানে চলে আসেন বাংলাদেশের পাবনায়।

জানান, ছেলেবেলার কোনো স্মৃতিই মনে নেই মিন্টোর। জানেন না বাংলা ভাষা। তবে, পেশায় চিত্রশিল্পী মিন্টোর গায়ের রং জানান দেয় তার বাঙালি পরিচয়।

মিন্টো জানান, পুরনো কাগজ ঘেঁটে জেনেছেন মাত্র ৬ বছর বয়সে পাবনার বেড়া উপজেলার নগরবাড়ি ঘাট এলাকা থেকে হারিয়ে যান তিনি। সেখান থেকে ঢাকার ঠাঁটারীবাজার টেরিডেস হোমস নামের শিশুসদনে ছিলেন। পরে শিশুসদন থেকে ১৯৭৮ সালে ডেনমার্কের এক নিঃসন্তান দম্পতি মিন্টোকে দত্তক নিয়ে যায়। সেখানেই তার শৈশব-কৈশোর কাটে। বিত্ত বৈভবের মাঝে লেখাপড়া শিখে বড় হন। পেশায় একজন চিত্রশিল্পী তিনি।

ডেনমার্কের নাগরিক এনিটি হোলমিহেভ নামের এক চিকিৎসককে বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে।

মিন্টোর স্ত্রী এনিটি হোলমিহেভ বলেন,আগে মিন্টোর তেমন সমস্যা ছিল না। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তিনি হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করেন। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে খুবই দুর্ব্যবহার করতেন। মাঝেমধ্যেই মেজাজ খিটমিটে হয়ে যেত, কোনো কিছুই ভালো লাগত না তার। অবশেষে পরিবারের সবার সিদ্ধান্তে ছোটবেলার একটি ছবিকে অবলম্বন করে ছুটে আসেন পাবনায়।

মিন্টো বলেন, ডেনমার্কে আমার পালক বাবা-মা ও স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে খুব সুখেই আছি, তবুও আমার অন্তর এখনো বারবার কেঁদে ওঠে বাংলাদেশের বাবা-মা ও স্বজনদের জন্য। মনে হয় স্বজনদের পেলে তার জীবনটা সম্পূর্ণ হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, বাবা-মা ও স্বজনদের কথা মনে হলে আমি প্রচণ্ড শূন্যতা অনুভব করি। যদি বাবা, মায়ের খোঁজ পাই তাহলে সেটা অসাধারণ হবে। না পেলে মৃত্যুর আগে জানব তাদের খুঁজে পেতে আমি চেষ্টা করেছিলাম।

বাংলাদেশে এসে কেমন লাগছে জানতে চাইলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডেনিশ নাগরিক মিন্টো বলেন, প্রতিটি মানুষকে আমার আপন মনে হচ্ছে, আমার চেহারার সঙ্গে তাদের মিল। যেন আমি আয়নায় নিজেকেই দেখছি।

মিন্টোর স্ত্রী এনিটি হোলমিহেভ বলেন, মিন্টোর এ দেশে কাটানো শৈশবের কোনো স্মৃতিই মনে নেই। যে আশ্রমে সে ছিল তারও অস্বিত্ব খুঁজে পাইনি। ছোটবেলার দুই একটি ছবি ছাড়া কোনো সূত্র নেই। জানি তার স্বজনদের খুঁজে পাওয়া এটা খুব কঠিন কাজ।এরপরও এক বুক আশা নিয়ে পাবনার পথে পথে মিন্টোর শেকড় খুঁজে বেড়াচ্ছি।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। পুলিশের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করার আমরা করছি। ইতিমধ্যেই তিনি পাবনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আমাদের পাশাপাশি দেশের গণমাধ্যমগুলোরও মিন্টুর পাশে দাঁড়ানো দরকার।

 

 

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter