নদীভাঙনের কবলে গাবুরার ৪০ হাজার মানুষ, বাঁচার তাগিদে স্বেচ্ছাশ্রম

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

নদীভাঙনের কবলে গাবুরা। ছবি-যুগান্তর

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানাধীন গাবুরা ইউনিয়ন। নদীবেষ্টিত ইউনিয়নটিতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। ঘূর্ণিঝড় সিডর এবং আইলার ঘা শুকাতে না শুকাতে আবারো নদীভাঙনের কবলে পড়েছে ওই ইউনিয়নের মানুষ। 

মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ করে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ইউনিয়নটির নজরুল সরদারের বাড়িসংলগ্ন ১০০ ফিট রাস্তা। কপোতাক্ষ নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া স্থান দিয়ে ইউনিয়নে নোনা পানি ঢুকে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাঠাৎ নদীভাঙনের কবলে পড়তে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ইউনিয়নটির মানুষ। 

গাবুরা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. গোলাম মোস্তফা বুধবার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ইউনিয়নটির মূলবেষ্টনী অপদারাস্তায় প্রায় ১০০ মিটার ভেঙে গেছে। যে কোনো সময় ইউনিয়নটি প্লাবিত হতে পারে। আমরা বিকল্প হিসেবে স্বেচ্ছাশ্রমে রিং বাঁধ দিয়েছি। সেটা কতক্ষণ থাকবে বলা যাচ্ছে না। সরকারিভাবে এখানো কোনো অর্থসহায়তাও দেয়া হয়ানি। 

তিনি আরও জানান ব্যক্তি উদ্যোগে প্রায় আড়াই হাজার বস্তা ফেলা হয়েছে। যাতে বেড়িবাঁধটা রক্ষা করা যায়।

জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জি এম আব্দুল মুমিন যুগান্তরকে বলেন, টেকনিক্যাল সহযোগিতা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা লোকজন নিয়ে বাঁধ রক্ষায় কাজ করছে। 

তিনি জানান, যেখানে ভাঙন লেগেছে তার পাশে দুটি পুকুর রয়েছে। ওই পুকুর ভরাট করে বাঁধ নির্মাণের কাজ করা হবে।

গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারমান জি এম মাসুদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি ডিসিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে একজন প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আশা করছি দ্রুত সরকারিভাবে সহয়তা পাওয়া যাবে।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ (এমপি) সদস্য এস এম জগলুল হায়দার যুগান্তরকে বলেন, নদীভাঙনের কথা আমি শুনেছি। বর্তমানে ঢাকাতে আছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এলাকায় গিয়ে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলায় প্লাবিত হয় গাবুরা ইউনিয়ন। এরপর থেকে গাবুরার চারপাশের অপদা রাস্তা সরকারিভাবে সংস্কার করা হয়নি। যার কারণে বেড়িবাঁধের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে।