বগুড়ায় নদীতে নারী মাদক ব্যবসায়ীর লাশ

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

  বগুড়া ব্যুরো

বগুড়ায় করতোয়া নদী থেকে পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী রিনা বেগমের (৩৪) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে শহরতলির মাটিডালি এলাকায় বেইলি সেতুর নিচে থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের ভাই ও স্বজনরা দাবি করেছেন, মঙ্গলবার মধ্য রাতে পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকে ৪-৫ জন ব্যক্তি তাকে শহরের চকসুত্রাপুর বাদুড়তলার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে নদীর কাদার মধ্যে মাথা ডুবিয়ে হত্যা করেছে।

তবে সদর থানা ও ডিবি পুলিশ দাবি করেছে, তারা রিনাকে গ্রেফতার বা আটক করেনি।

সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, রিনা বেগম শহরের চকসুত্রাপুর বাদুড়তলার মুক্তার হোসেনের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকসহ ১০টি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় তিনি দুবছরের সাজাও ভোগ করেছেন। তার মা এজেদা পাগলী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১ নম্বর তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী।

তিনি বলেন, বুধবার বেলা ১১টার দিকে জনগণ শহরতলির মাটিডালি এলাকায় বেইলি সেতুর নিচে করতোয়া নদীতে এক নারীর পঁচন ধরা লাশ ভাসতে দেখেন। দুপুরে নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। পরে স্বজনরা রিনা বেগমের লাশ সনাক্ত করেন। বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসি জানান, নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তিনি দাবি করেন, তাকে পুলিশ গ্রেফতার বা আটক করেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।

এদিকে বুধবার বেলা ৩টার দিকে শহরের চকসুত্রাপুর বাদুড়তলায় নিহত রিনা বেগমের বাড়ির সামনে গেলে স্বজনদের আহাজারি করতে দেখা যায়। স্বজনদের মাঝে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছিল।

নিহতের ভাই এবং ওই এলাকার ইয়াসিন আলীর ছেলে অটোরিকশাচালক ইউসুফ আলী জানান, তার বোন রিনা গত ৩ বছর মাদক ব্যবসা করেনি। তার বিরুদ্ধে থানায় ২-৩টি মাদকের মিথ্যা মামলা রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, পকেটে মাদক ঢুকিয়ে পুলিশ তাকেও গ্রেফতার করেছিল।

তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সাদা পোশাকে ৪-৫ জন পুলিশ তার বোনের বাড়িতে আসে। এ সময় তাদের সঙ্গে বাদুড়তলা এলাকার মৃত মকবুল পকেটমারের ছেলে রিংকু ছিল। এরপর তারা রিনাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে তারা রিনার লাশ উদ্ধারের খবর পেয়েছেন। তার বিশ্বাস পুলিশই তার বোনকে ধরে নিয়ে গুলি না করে মাথা নদীর কাদায় ডুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। তাছাড়া মাত্র কয়েক ঘণ্টায় লাশ ফুলে পঁচন ধরার কথা নয়।

ওই এলাকার ক্ষুদ্র হোটেল ব্যবসায়ী হাসেনা বেগম জানান, মঙ্গলবার রাতে ৪-৫ জন অপরিচিত ব্যক্তি রিনার বাড়িতে যায়। এরপর তারা রিনাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।

বগুড়া ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নূর-এ-আলম সিদ্দিকী জানান, তারা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রিনা বেগমকে গ্রেফতার বা আটক করেননি।