পরকীয়ার কারণেই পিপিকে হত্যা করে স্ত্রী-প্রেমিক

  রংপুর ব্যুরো ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

নিহত রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা, স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা এবং প্রেমিক কামরুল ইসলাম

পরকীয়ার কারণেই রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও আওয়ামী লীগ নেতা রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনাকে (৫৮) হত্যা করা হয়।

ওই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) ১৩ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই আল-আমিন।

পিপির স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা এবং প্রেমিক একই স্কুলের শিক্ষক কামরুল ইসলামকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলার অভিযুক্ত দুই আসামি রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, মূলত পরকীয়া, পারিবারিক অশান্তি ও বিদ্বেষ থেকেই দুই মাস আগে বাবু সোনাকে হত্যার পরিকল্পনা হয়। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন তার স্ত্রী তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা স্নিগ্ধা সরকার দীপা এবং প্রেমিক একই স্কুলের শিক্ষক কামরুল ইসলাম। আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দুজনেই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।

হত্যাকাণ্ডে দুই কিশোর সবুজ ও রোকনের সম্পৃক্ততা না থাকায় এবং মিলন মোহন্ত এ মামলার আসামি হলেও গ্রেফতারের পর রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা যাওয়ায় তাদের এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঠাণ্ডামাথায় প্রেমিকযুগল তাদের পথের কাঁটা সরিয়ে দিতে দুই মাস ধরে বাবু সোনাকে খুনের ছক আঁকে। বাবু সোনা ছিলেন রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা, আওয়ামী লীগ জেলা কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক, রংপুরের আলোচিত জাপানি নাগরিক হোশিও কোনি ও মাজারের খাদেম রহমাত আলী হত্যা মামলার সরকারপক্ষের আইনজীবী ছিলেন। ওই মামলায় দুটিতে ১২ জন জেএমবির জঙ্গি সদস্যের ফাঁসি দেন আলাদত।

তাই বাবু সোনাকে খুনের পর ইসলামি জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ঘাড়ে ওই খুনের দায় চাপিয়ে দিতে তারা খুনের পর প্রচারণা চালায়, বাবু সোনাকে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে অপহরণ করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত অপহরণকারী। এ জন্য দুই মাস আগে লাশ বহনের জন্য বিশেষ কায়দায় একটি স্টিলের আলমিরা তৈরি করে ঘরে রাখা হয়। গত ২৯ মার্চ রাতে খুনের পর ওই আলমিরায় লাশ বাড়ি থেকে বহন করে একটি নির্মাণাধীন বাড়ির ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন তারা।

গ্রেফতারকৃত দুই খুনি আদালতে তাদের জবানবন্দিতে অকপটে খুনের দায় স্বীকার করে বলেন, খুনের রাতে বাবু সোনাকে ডাল ও দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকেও একই কায়দায় ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর রাত গভীর হলে স্ত্রী স্নিগ্ধা সরকার দীপা এবং দুই ঘণ্টা আগে রুমের ভেতর লুকিয়ে থাকা প্রেমিক কামরুল ইসলাম দুজন মিলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে বাবু সোনাকে হত্যা করে। পরে তার লাশ লুকিয়ে রেখে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নিখোঁজ নাটক সাজানো হয়।

পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলেন, স্ত্রী দীপা যেখান থেকে ওষুধ কিনেছে সে দোকান শনাক্ত, তার লাশ বহনের কাজে ব্যবহৃত ভ্যান ও আলমিরাসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে।

বাবু সোনা নিখোঁজের পর ৩১ মার্চ কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি ও পরদিন রোববার থানায় জিডি করেন তার ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক সুবল। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাবু সোনার স্ত্রী দীপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন এবং লাশের অবস্থান সম্পর্কে জানান।

ওই দিন রাত ২টার দিকে বাবু সোনার নিজ বাড়ি তাজহাট বাবুপাড়া থেকে আধাকিলোমিটার দূরে তাজহাট মোল্লাপাড়া থেকে শিক্ষক কামরুল ইসলামের ঢাকায় বসবাসরত বড় ভাইয়ের নির্মাণাধীন বাড়ির ঘরের মাটি খুঁড়ে বাবু সোনার লাশ উদ্ধার করে র‌্যাব-পুলিশ। এ সময় গর্ত খোঁড়ার কাজে সহায়তা করার কারণে ওই এলাকার দুই কিশোর সবুজ ও রোকনকে আটক করা হয়।

এর আগে পুলিশের হাতে আটক হন শিক্ষক কামরুল ইসলাম ও বাবু সোনার ব্যক্তিগত সহকারী মিলন মোহন্ত। পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান মিলন মোহন্ত।

হত্যাকাণ্ডের ৫ মাস ১২ দিনের মাথায় ৮০০ পৃষ্ঠার বেশি নথীপত্র (চার্জশিট) আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। এই মামলায় মোট ৪০ জন সাক্ষী রয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে বাবু সোনার ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতে পান।

এই মামলার বাদী নিহত রথীশ চন্দ্র ভৌমিকের ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক বলেন, চার্জশিটে আমরা সন্তুষ্ট। এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন তিনি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter