গাজীপুরে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক আটক

  গাজীপুর প্রতিনিধি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

স্ত্রী ও ছাত্র খুনের ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক আটক

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার চান্দনা পূর্বপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় এক শিশুশিক্ষার্থী ও মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী খুন হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্বামী মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা ইব্রাহিম খলিলকে আটক করেছে।

নিহতরা হলেন হুফফাজুল কোরআন মাদ্রাসার পরিচালকের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার (২১) ও মাদ্রসার হিফজ বিভাগের ছাত্র মামুন (৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুই বছর আগে মাদ্রাসাটি ওই এলাকায় স্থাপিত হয়। এর পরিচালক মাওলানা ইব্রাহিম খলিল নিজেই এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে মাদ্রাসার ভেতরে একটি কক্ষে সপরিবারে বসবাস করেন। মাদ্রাসাটিতে ৩৫ জন আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ইব্রাহিম খলিল নিজেও ওই শিক্ষার্থীদের কোরআন শরিফ শিক্ষা দিতেন।

মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা ঘুম থেকে ওঠে পড়াশোনা করে। ফজরের আজান দিলে শিক্ষার্থীরা সবাই পার্শ্ববর্তী মসজিদে নামাজ আদায় করতে যায়। সবার শেষে মাদ্রাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিল মাদ্রাসার বাইরে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে মসজিদে নামাজে যান।

ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাদ্রাসার পরিচালকের ছোট ছেলে হুরাইয়াবা (২) মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে রক্তমাখা শরীর নিয়ে কান্নাকাটি করতে থাকে। পরে পথচারীরা শিশুটিকে রক্তাক্ত দেখে এগিয়ে যান।

এ সময় শিশুটি তাদের জানায়, তার মাকে এবং মামুনকে মেরে ফেলেছে। তারা মাদ্রাসার ভেতরে গিয়ে গলাকাটা করা দুটি রক্তাক্ত লাশ দেখে চিৎকার করতে থাকলে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং নামাজ শেষে মসজিদ থেকে পরিচালক ও শিক্ষার্থীরা ছুটে আসে।

খবর পেয়ে বাসন থানার পুলিশ, র‌্যাব, গাজীপুরের সিআইডি, পিবিআই, গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে ঘটনার বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ এবং তদন্তকাজ শুরু করেন।

নিহত মাহমুদা আক্তারের বাবা হানিফ গাজী জানান, তার বাড়ি চাঁদপুর সদরের খলিশাডুলি গ্রামে। তার দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে মাহমুদা সবার বড়। তিনি ২০১২ সালে গাজীপুর সদরের রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন। সে সময় তার ছেলে ইব্রাহিম শিক্ষক ইব্রাহিম খলিলের কাছে লেখাপড়া করত। সে পরিচয়ের সূত্র ধরে মেয়ে মাহমুদা আক্তারের সঙ্গে ইব্রাহিম খলিলের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে হুজায়ফা (৫) ও হুরায়রা (২) নামে দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইব্রাহিম খলিলের (৩৫) বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার বাঁশজানা মালতি গ্রামে। তার বাবার নাম রবিউল আলম তালুকদার। ইব্রাহিম খলিল এর আগে একটি বিয়ে করেছিল বলে গত ৬-৭ মাস আগে তারা জানতে পেরেছে।

নিহত মামুনের বাবা শাহিদ জানান, তাদের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকায়। তিনি ওই এলাকায় একটি গরুর খামারে চাকরি করেন। তার ছেলে মামুন গত এক বছর ধরে ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাদ্রাসা থেকে ফোন পেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি গাজীপুরে ছুটে আসেন। এসে ছেলের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান।

ইব্রাহিম জানান, মঙ্গলবার ভোরে স্ত্রী মাহমুদা এবং তার দুই সন্তান হুযায়ফা (৫) ও আবু হুরায়রাকে (৩) বসতঘরে রেখে তিনি পাশের মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য বের হয়ে যান। নামাজ শেষে ঘরে ফিরে বিছানার ওপর স্ত্রী মাহমুদা এবং দরজার কাছে মামুনের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। এ বিষয়ে তিনি আর কিছুই জানেন না।

মাদ্রাসার ছাত্র সাব্বিরের বরাত দিয়ে বাসন থানার এসআই আল আমিন জানান, সোমবার রাতে হুজুরকে (ইব্রাহিমকে) উদ্ধার হওয়া দা ধার দিতে দেখেছে। আর মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজে যাওয়ার আগে সাব্বিরকে দিয়ে নিহত মামুনকে মাদ্রাসার অন্য কক্ষ থেকে হুজুরের কক্ষে ডেকে পাঠায়।

এ ব্যাপারে বাসন থানার ওসি মুক্তার হোসেন জানান, নিহত মাহমুদার গলায়, গালে ও কানে এবং মামুনের ঘাড়ে মাথায় ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তিনি জানান, মাদ্রাসার ভেতর থেকে রক্তমাখা একটি দা, ধার দেয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি কাঠের খণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে। কী কারণে তাদের হত্যা করা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা ইব্রাহীম খলিলকে থানায় আনা হয়েছে।

এদিকে জোড়া খুনের খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থলে থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন, পিআইবি ও র‌্যাব সদস্যরা এসেছেন। তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। আমি আশা করি খুব দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হবে। কিছু সম্ভাবনা আমরা দেখতে পেয়েছি। ওই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই তদন্তকাজ করা হচ্ছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×