‘শেষবারের মতো বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলাম’

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৯:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

‘শেষবারের মতো বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলাম’
ছবি- সংগৃহীত

‘মনে হয় আজকের মধ্যে সব নদীর কবলে যাবে। বাবা-মায়ের কবর হয়তো আর জিয়ারত করতে পারব না। তাই শেষবারের মতো কবর জিয়ারত করতে এলাম।’- মঙ্গলবার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ব্যবসায়ী মো. ইউনুস আলী শেখ মা-বাবার কবর জিয়ারত শেষে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বড় ভাই, চাচা- সবাই এখানে থাকতেন। ভাঙনের খবর শুনে এখানে ছুটে আসি। দেখি মা-বাবার কবর প্রায় ডুবে যাওয়ার পথে। দ্রুত তাদের কবর জিয়ারত করলাম।

ইউনুস আলীর মতো এমন হাহাকারের গল্প এখন ওই এলাকাজুড়ে।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিন সপ্তাহ ধরে অতিমাত্রায় ভাঙনে মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে হাহাকার।

জলিল সরদারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন, প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। শতাধিক পরিবারের বসতভিটা, একটি মাজার শরিফ ডুবে গেছে। ঢল্লাপাড়া জামে মসজিদ নদীতে বিলীন হচ্ছে। যে কোনো মুহূর্তে পদ্মার পেটে চলে যাবে।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক ভাঙন শুরু হওয়ায় ২ নম্বর ওয়ার্ড ঢল্লাপাড়া, ৩ নম্বর ওয়ার্ড আফছের শেখেরপাড়া ও লালু মণ্ডলপাড়ার প্রায় ৩০০ পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী এবং জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু নাসার উদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়ায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার ৭০০ পরিবারের তালিকা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে জিআরের চাল ও শুকনা খাবার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

দেবগ্রাম ও ছোটভাকলা ইউনিয়নের পর দৌলতদিয়ায় ব্যাপক আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় লোকজনের মতে, গত দুই সপ্তাহে প্রায় ৪০০ পরিবারের বসতভিটা পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। ঘর হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে লোকজন। এ ছাড়া ঝুঁকিতে বসবাস করছে প্রায় এক হাজার ৫০০ পরিবার।

দৌলতদিয়ার ঢল্লাপাড়া গ্রামে দেখা যায়, পদ্মার পাড়ে ঢল্লাপাড়া জামে মসজিদের কিছু অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন আশঙ্কা করছেন, দিনশেষে পুরো মসজিদ বিলীন হয়ে যাবে।

গত সোমবার মসজিদ থেকে কয়েক গজ দূরেই ছিল ঢল্লাপাড়া মাজার শরিফ। সন্ধ্যার পর সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। অনেকে তাদের বাড়িঘর দ্রুত সরিয়ে ফেলছেন। নদীর কাছে অধিকাংশ বসতভিটা শূন্যে পড়ে আছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×