স্কুলছাত্র জনি হত্যা, মা গ্রেফতার

  কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:১১ | অনলাইন সংস্করণ

স্কুলছাত্র জনি হত্যা, মা গ্রেফতার
স্কুলছাত্র জনি। ছবি: সংগৃহীত

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই কেন্দুয়া গগডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র জনিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর গুম করার জন্য লাশ বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে রাখা হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গগডা গ্রামের তমিজ উদ্দিন ফকিরের (তমু ফকির) ছেলে সবুজ মিয়া (৩০) এ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। পরে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেও সবুজ মিয়া স্কুলছাত্র জনি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।

জনি হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানা পুলিশের এসআই সামেদুল হক বুধবার জানান, সবুজ মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তথ্যের সূত্র ধরে স্কুলছাত্র জনির মা মেহেরা আক্তার এবং একই গ্রামের মৃত আবু ফকিরের ছেলে সনতু মিয়াকে (৪৫) মঙ্গলবার আটক করা হয়েছে। তাদের দুজনকেই জিজ্ঞাসাবাদের পর অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে।

বুধবার দুপুরে তাদেরকে নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে। জনির মা মেহেরা ও তার সহযোগী সনতু মিয়াকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা।

চলতি বছরের গত ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় বলে সবাইকে জানান জনির মা মেহেরা আক্তার। নিখোঁজ সন্তানের সন্ধান পেতে জনির বাবা আব্দুস সোবহান ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে শনিবার সারা দিন এলাকায় মাইকে প্রচার করেন।

রোববার সকালে জনির বড় বোন রত্না আক্তার (১৬) তাদের বাড়ির সামনে আব্দুল বারেকের পুকুরে একটি চটের বস্তা ভেসে থাকতে দেখে বাড়ির লোকজনকে খবর দেয়।

লোকজন বস্তাটিকে পাড়ে ভিড়াতে টান দেয়া মাত্রই বস্তার মুখ খুলে একটি মানুষের হাত বেরিয়ে আসে। এ ঘটনাটি পুলিশকে জানালে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়ার নেতৃত্বে ওই দিন দুপুরে আব্দুল বারেকের পুকুর থেকে একটি বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

লাশ দাফনের পর জনির বাবা আব্দুস সোবহান বাদী হয়ে ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার কেন্দুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় উল্লেখ করেন, একই গ্রামের মৃত শাহেদ বেপারীর ছেলে বাচ্চু, বাবুল, মাজু মুন্সি ও মৃত আরাফাত আলীর ছেলে রইছ উদ্দিন এবং সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে জমি জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের ঘটনায় তাদের সঙ্গে শত্রুতা চলে আসছিল। এর জের ধরেই তারা জনিকে হত্যা করতে পারে বলে তার সন্দেহ।

পুলিশ বাবুল, বাচ্চু, মাজু মুন্সি, রইছ উদ্দিন, সাইফ উদ্দিন ও সবুজ মিয়াকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর ৫ জনকে ছেড়ে দিলেও সবুজ মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়।

সবুজ মিয়া পুলিশের কাছে ও আদালতে স্কুলছাত্র জনিকে হত্যার ঘটনার তথ্য দেয়। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে জনিকে হত্যা করে তার লাশ বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে রাখা হয় বলে সে জানায়।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া বলেন, জনির মা মেহেরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তাকে এবং তার অপর সহযোগী সনতু মিয়াকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১১ বছর আগে জনির জন্মের একদিন পর তার নিঃসন্তান চাচা আব্দুল ক্বারীর হাতে তাকে তুলে দেয়া হয়। জনির বাবা আব্দুস সোবহান কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের গগডা আটকান্দিয়া গ্রামে বসবাস করেন। আর জনির পালিত বাবা আব্দুল ক্বারী কেন্দুয়া পৌর এলাকার চন্দগাতী গ্রামে বসবাস করেন।

জনির পালিত মা ঝরনা আক্তার তাকে সন্তানের স্নেহে এতদিন লালন পালন করেন। ৬ মাস আগে তিনি জনিকে তার গর্ভধারিনী মা মেহেরা আক্তারের কাছে রেখে তিনি সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে চলে যান।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মোবাইল ফোনে তিনি জনি হত্যার খবর পেয়ে দেশে ফিরছেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×