টেকনাফে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

  যুগান্তর ডেস্ক ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

টেকনাফে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
টেকনাফে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত। ছবি-সংগৃহীত

দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা পৃথিবীর উন্নত বিশ্বে বিশেষভাবে সমাদৃত হলেও সাম্প্রতিক সময়ের রোহিঙ্গা সংকট তাতে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষ সমন্বয়ের প্রয়োজন বলে মনে করছেন উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সদস্যরা।

বুধবার টেকনাফ উপজেলা মিলনায়তন কেন্দ্রে উপজেলার ইমার্জেন্সি কন্ট্রোলরুমের উদ্যোগে ঘূর্ণিঝড়বিষয়ক প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা আয়োজিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব রবিউল হাসানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব জাফর আহমদ।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন টেকনাফ উপজেলার সহকারী কমিশনার জনাব প্রণয় চাকমা, ক্যাম্প-ইনচার্জ মো. আবদুর রহমান, ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মুক্তাদির, আইএসসিজির ইমার্জেন্সি ইউনেটর প্রধান মার্কো বুনো।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহেরা আক্তার মিলি, ভারপ্রাপ্ত মেয়র আব্দুল্লাহ মনিরসহ উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কমিটির সদস্যরা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে সফলভাবে কীভাবে মোকাবেলা করেছেন, তা তুলে ধরেন। দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার সাধারণত স্থানীয় জনগণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা করে থাকে। কিন্তু স্থানীয় জনগণের দ্বিগুণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমন সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এক্ষেত্রে উভয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পারিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা। কেননা রাখাইন রাজ্যের গণহত্যা ও বর্বরোচিত নির্যাতনের কারণে যে মানুষজন জীবনবাজি রেখে বাংলাদেশে এসেছিলেন তাদের প্রাথমিকভাবে আশ্রয় দিয়েছেন এই স্থানীয় জনগণই।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেই দিকে খেয়াল রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন আলোচকরা। একই সঙ্গে বাস্তবায়নকারী সংস্থাসমূহের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় উদ্যোগের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্বাগত বক্তব্যে টেকনাফের সহকারী কমিশনার জনাব প্রণয় চাকমা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার প্রতি যত্নশীল হয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইএসসিজির ইমার্জেন্সি ইউনিটের প্রধান জনাব মার্কো বলেন, ইতিমধ্যে টেকনাফে ইমার্জেন্সি কন্ট্রোলরুমের কার্যক্রম শুরু হয়েছে যা উপজেলা নির্বাহী অফিস, শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন, বাংলাদেশ আর্মি এবং আইএসসিজির সমন্বয়ে গঠিত। দুর্যোগকালীন সময়ে উপজেলার জরুরি সাড়া প্রদানে যা কার্যকর সমন্বয়ে ভূমিকা রাখবে।

ক্যাপ্টেন মুক্তাদির তুলে ধরেন দুর্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদান ঐতিহাসিক এবং টেকনাফ উপজেলার যে কোনো প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে সর্বদা প্রস্তুত।

ক্যাম্প-ইনচার্জদের পক্ষ থেকে জনাব আবদুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের সক্ষমতা সর্বত্র প্রশংসিত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাগুলোকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দরকার এবং বিশেষত দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতিমূলক সব ধরনের উদ্যোগকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় নিতে অনুরোধ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ‘টেকনাফ ঘোষণা’-এর মধ্য দিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সক্ষমতা এবং সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য করণীয়গুলো এ ঘোষণাপত্রে উঠে আসে।

আয়োজনের সামগ্রিক সঞ্চালনায় ছিলেন- আইএসসিজির ইমার্জেন্সি কো-অর্ডিনেটর অফিসার, জনাব তাহের খান।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×