বেনাপোলে বন্দর দিয়ে ৩ দিনেও চালু হয়নি আমদানি-রফতানি

  বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:১০ | অনলাইন সংস্করণ

বেনাপোল স্থলবন্দর

যশোরের বেনাপোলে বন্দর দিয়ে গত ৩ দিনেও চালু হয়নি দুদেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য।

সোমবার সকালে দুদেশের ব্যবসায়ী,বন্দর শ্রমিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ৩ ঘণ্টার যৌথসভা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।

দুদেশের ব্যবসায়ী, বন্দর শ্রমিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আমদানি-রফতানি চালু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও ভারতের বনগাঁও পৌরসভার মেয়রের হস্তক্ষেপে তা বাতিল হয়ে যায়।

বেনাপোল বন্দরে লেবারদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদে শনিবার দুপুর থেকে ভারতীয় ট্রাক শ্রমিক সংগঠন এবং মালিক সমিতি বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়।

ধর্মঘটের কারণে বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় আমদানি-রফতানি পণ্যবোঝাই কয়েক হাজার ট্রাক আটকা পড়েছে। বেনাপোল থেকে কোনো পণ্যচালানও যায়নি ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে। যার অনেকগুলোতে রয়েছে বাংলাদেশি রফতানিমুখী গার্মেন্ট শিল্পের কাঁচামাল, মাছ, পানসহ বিভিন্ন ধরনের পচনশীল পণ্য।

তবে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য খালাসের ও দুদেশের মধ্যে পাসপোর্ট যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ভারতীয় ট্রাক শ্রমিকরা অভিযোগ করছেন, সে দেশ থেকে রফতানি করা পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে আসার পর তাদের ওপর শুরু হয় নানা হয়রানিসহ দুর্ব্যবহার। নিয়মমাফিক বকশিসের টাকা দিলেও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। এসব জটিলতা নিরসনে দুই দেশের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে সম্প্রতি দুটি আলোচনাসভা বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ট্রাকবিশেষ বকশিসের হার বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু বেনাপোল বন্দরের কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরা এই সিদ্ধান্ত না মেনে ইচ্ছামাফিক বকশিস আদায়ের ব্যাপারে অনড় রয়েছেন। সেই কারণে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় ট্রাকশ্রমিক ও মালিকদের সংগঠনগুলো। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কামাল উদ্দিন শিমুল জানান, ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে বনগাঁও পৌর মেয়রের যোগসাজশে কিছু লোকাল ট্রাক মালিক ও শ্রমিকনেতা পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অজুহাতে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে ট্রাক জট সৃষ্টি করে ট্রাকপ্রতি ২ হাজার টাকা করে ডেমারেজ আদায় করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। ডেমারেজের পুরো টাকা বাংলাদেশের আমদানিকারকদের কাছ থেকে নেয়া হয়।

ফলে এক ট্রাক পণ্য বেনাপোল বন্দরে পৌঁছাতে সময় লাগত ১৫-২০ দিন পর্যন্ত। প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৫-৬শ’ ট্রাক পণ্য আমদানি হয় ভারতে থেকে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ৩শ’ ট্রাক পণ্য রফতানি হয় ভারতে। প্রতিদিন বেনাপোল কাস্টমস হাউস ২৩ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে।

বর্তমানে বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরে কোনো ট্রাকজট না থাকায় ট্রাকগুলো দিনের দিন প্রবেশ করছে। সে কারণে ভারতীয় ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা কোনো ‘ডেমারেজ চার্জ’ পাচ্ছেন না। ফলে পরিকল্পিতভাবে বনগাঁও পৌরসভার সহায়তায় ক্ষোভে পড়ে তুচ্ছ ঘটনায় আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির নেতা আলহাজ নুরুজ্জামান জানান, বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। রোববার রাতে বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ডাইরেক্টর আমিনুল ইসলাম বলেন, দুই দেশের শ্রমিকদের কোন্দলের কারণে শনিবার দুপুর থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। সোমবার সকালে দুদেশের ব্যবসায়ী, বন্দর শ্রমিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ৩ ঘণ্টার যৌথসভায় কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়। তবে বন্দরে মালামাল খালাস প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে সরকার প্রতি বছর সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। এভাবে ঘন ঘন আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব নয়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×