বাবা-সৎমা-ভাই মিলে কিশোরীকে চেয়ারে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৫, ১০:৫০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বাবা, সৎমা ও ভাই মিলে এক কিশোরীকে চেয়ারে বেঁধে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিত কিশোরীর নানা আমজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি রোববার ধনবাড়ী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ধনবাড়ীর কয়াপাড়া গ্রামের মৃত সেকান্দর আলীর ছেলে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ে সাথী আক্তারের বিয়ে হয় প্রায় ১৫ বছর আগে। এটি ছিল সম্পর্কের বিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছেন মেয়েটির মামা রাব্বি। এর আগে শফিকুলের স্ত্রী-সন্তান ছিল। দ্বিতীয় বিয়ের পর স্বল্প দিনের সংসার জীবনে তাদের একটা মেয়েসন্তান হয়। সন্তান হওয়ার পরই তাদের সংসারে ঝামেলার কারণে বিয়েটি টেকেনি। প্রায় ১৪ বছর আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তখন থেকেই ওই মেয়েটি বিলাসপুর গ্রামের নানা আমজাদের পরিবারে লালিত পালিত হয়। ফাতেমাতুজ জোহরা (১৪) নামের ওই মেয়ে এখন সাকিনা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী।
এদিকে ভরণ-পোষণ না দেওয়ায় মেয়ে ফাতেমাতুজ জোহরা নানার বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করতে থাকে। গত প্রায় ৪ মাস পূর্বে তাকে লালন-পালন করবেন মর্মে কথা দিয়ে বাড়িতে নিয়া যায় বাবা শফিকুল।
আমজাদ জানান, তার নাতনি সৎ সন্তান হওয়ায় কারণে-অকারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা শুরু করে। গত ৩০ এপ্রিল বিকাল ৫টার দিকে ফাতেমাতুজ জোহরাকে কাঠের চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত ও নিলাফুলা জখম করা, প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখায়। চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
বাবা শফিকুলের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ধনবাড়ী থানার ওসি এসএম শহীদুল্লাহ অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, বাবা-মায়ের সান্নিধ্যে না থাকায় সন্তানদের বখে যাওয়া স্বাভাবিক। কথা না শোনায় ফাতেমাতুজ জোহরাকে পেটানোর সত্যতা মিলেছে। বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
