আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা
সাফাই সাক্ষী দিতে রাজি না হলেও সুবিচারের দাবি আসামিদের
মাগুরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৫, ০৭:৪৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাগুরার চাঞ্চল্যকর শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা শেষে তারা সাফাই সাক্ষী দিতে রাজি না হওয়ায় আদালতের পক্ষ থেকে ১২ মে আইনজীবীদের যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টায় মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে পরীক্ষার জন্যে মামলাটির অভিযুক্ত চার আসামি হিটু শেখ, তার স্ত্রী জাহেদা বেগম এবং তাদের দুই ছেলে সজীব শেখ ও রাতুল শেখকে হাজির করা হয়।
এদিন বিচার কার্যের শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল ২৭ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত মোট ২৯ জন সাক্ষীর দেয়া বক্তব্য আসামিদের পড়ে শোনান। পরে নিজেদের পক্ষে কোনো সাক্ষী উপস্থাপন করবেন কিনা কিংবা সাফাই সাক্ষী দেবেন কিনা এমন প্রশ্নে আসামিরা অনিচ্ছা প্রকাশ করে এ ঘটনায় জড়িত নন এবং নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করেন।
মামলাটির দিনের বিচার কার্য শেষে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল বলেন, আসামিরা সাফাই সাক্ষী দিতে রাজী না হওয়ায় বিচারক এ মামলার যুক্তিতর্কের জন্যে ১২ মে তারিখ ধার্য করে দিয়েছেন। আশা করছি যুক্তিতর্ক শেষে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। দেশব্যাপী একটি দৃষ্টান্তমূলক ন্যায় বিচার দেখতে পারবে।
তবে দুপুর দেড়টার দিকে আদালত থেকে বেরিয়ে আসার সময় আসামী পক্ষ সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বরাবরের মতোই চিৎকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। মামলাটির প্রধান আসামী হিটু শেখ বলেন, বিটার বউ বিনাদোষে আমাদের ফাঁসাইছে। সেই আসল অপরাধী। আমরা নির্দোষ। আমাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই।
অন্যদিকে হিটু শেখের ছেলে সজীব শেখ বলেন, ঘটনা নাকি ঘটেছে সকালে। তখন সবাই কাজে বাইরে ছিলাম। বাড়িতে শুধু আমার বউ ছিল। সেই সব করিছে।
১৩ মার্চ ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আছিয়া। এর আগে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে ৬ মার্চ ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। ঘটনার পর প্রথমে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটায় নেওয়া হয় ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।
৬ মার্চ শিশুটির ধর্ষণের ঘটনার খবর প্রচার হলে মাগুরাসহ সারা দেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। সড়ক অবরোধ, থানা ও আদালত ঘেরাও করে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে অপরাধীর শাস্তি দাবি করেন সর্বস্তরের মানুষ। স্থানীয় আইনজীবীরাও এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার দাবির পাশাপাশি আসামী পক্ষকে কোনো প্রকার আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা দেন।
সরকারের পক্ষ থেকেও মামলাটিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়িত্বরত সরকার পক্ষের আইনজীবীকে সহায়তা দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিযুক্ত স্পেশাল প্রসিকিউটার অ্যাডভাইজার (এটর্নি জেনারেল পদমর্যাদা) অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আসামিপক্ষে সোহেল আহমেদ নামে একজন আইনজীবীকে নিয়োগ করা হয়।
ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির মা আয়েশা আক্তার ৮ মার্চ শিশু আছিয়ার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ, শাশুড়ি জাহেদা বেগম, বোন জামাই সজিব শেখ এবং সজিবের বড় ভাই রাতুল শেখকে আসামি করে মাগুরা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় অভিযুক্ত ৪ জন আসামিই পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাদের উপস্থিতিতেই চলছে বিচারিক কার্যক্রম।
এ মামলাটিতে ধর্ষণের ঘটনার সময় রাত ১টা ৩০ মিনিট উল্লেখ করা হয়। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাগুরা সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আলাউদ্দিন সরকার ১৩ এপ্রিল আদালতে যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন সেখানে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় সকাল ৮টা ২০ থেকে ৯টা ৩০ মিনিটের কথা বলা হয়েছে। যে বিষয়টির প্রতি নজর দিয়ে আসামিপক্ষ প্রথম থেকেই তদন্তের দাবি জানিয়ে এসেছেন। যদিও ১৫ মার্চ মামলার মূল আসামি হিটু শেখ এ ঘটনায় একাই জড়িত বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
