চুয়াডাঙ্গার সীমান্তে ৩ দফায় নারী-শিশুসহ ৫৯ জনকে পুশইন বিএসএফের
জীবননগর ও দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৫, ০৪:১৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্ত দিয়ে তিন দফায় ৫৯ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এদের মধ্যে পুরুষ ১৪ জন, ২১ জন নারী ও শিশু রয়েছে ২৪ জন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার নোনাগঞ্জ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে পুশইন করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ
(বিজিবি)। পুশইন করা সবাই বাংলাদেশি এবং
তাদের আটক করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
রোববার রাতে বিজিবির মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক
সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জীবননগরের হরিহরনগর সীমান্তের নবদুর্গাপুর
মাঠ থেকে ভারত হতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে প্রথম দফায় ৪৫ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে আটজন পুরুষ, ১৬ জন নারী ও ২১
জন শিশু রয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, নড়াইল জেলার বেষ্টপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের
মেয়ে রিয়া খাতুন (২২), রফিকুল ইসলামের ছেলে শাওন মল্লিক (১১), মৃত লাল মিয়ার মেয়ে
ছকিনা খাতুন (৫৫), মিরাজুল ইসলামের ছেলে আহম্মেদ (১১ মাস), মোহাম্মদ (৫) ও রাব্বি
গাজি (৮), মালেক হোসেনের ছেলে মনি (২৮), ইরাই গাজীর ছেলে শাহিন (১৩) ও কোরবান আলী
(১৫), কেরামত শেখের মেয়ে শরিফা বেগম (৩২), আপন মল্লিকের ছেলে ইয়ামিন (৩), ইব্রাহীম
মল্লিক (৪), গফফার শিকদারের মেয়ে নিকলা বেগম (৪৩), শরীফ হোসেনের ছেলে আপন মল্লিক
(৫১), খুলনা জেলার কামার খোলা গ্রামের হাকিম শিকদারের ছেলে শাহজাহান শিকদার (২১),
হাকিম শিকদারের মেয়ে মরিয়ম খাতুন (২০), আসমা খাতুন (১১), জামিলা শিকদার (৩), ছেলে
সামির উল্লাহ (৬), শাহ পরান (৪) ও শাহিন আলম (১৭), স্ত্রী খুরশিদা বেগম (৪০),
শামসুর রাহমানের ছেলে হাকিম শিকদার (৫৮), রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব শেখ (৭),
সিদ্দিকের মেয়ে পলি ইয়াসমিন (৩৪), কিশোরগঞ্জ জেলার সাতিরচর গ্রামের মুর্শিদ মিয়ার
মেয়ে নুরনাহার (২২), ঝিনাইদহ জেলার দামদরপুর গ্রামের ইউনুস শেখের ছেলে আশরাফুল শেখ
(১১), গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে আবু গুরায়রা (১৩), আবুল কালামের মেয়ে নার্গিস বেগম
(২৮), কেরামত শেখের মেয়ে কাকুলি বেগম (৩৯) এবং আজহারীর মেয়ে রিজিয়া বেগম (৫৮)।
আটককৃতরা বিজিবির কাছে জানিয়েছেন, তারা ভারতের গুজরাট থেকে
বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য আসছিল। শনিবার বিকাল ৪টায়
বিএসএফের কাছে আটক হয় তারা। পরে বিএসএফ শনিবার রাত আড়াইটার সময় সীমান্তের ৬২
নম্বর মেইন পিলারের কাছে কাঁটাতারের গেট খুলে দিয়ে তাদেরকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে
পুশইন করে। এ সময় কুসুমপুর বিওপির হাবিলদার শিশির হালদারের নেতৃত্বে বিজিবি
সদস্যরা তাদেরকে আটক করেন।
এদিকে, রোববার ভোর সাড়ে ৪টার সময় পৃথক আরেক অভিযানে হরিহরনগর
সীমান্তের ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নবদুর্গাপুর মাঠের মধ্যে থেকে বেনীপুর
ক্যাম্পের হাবিলদার রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা অনুপ্রবেশের দায়ে ৯
জনকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে।
আটককৃতরা হলেন, কুড়িগ্রাম জেলার তেলিপাড়া গ্রামের মজিবর আলীর
ছেলে আইয়ুব আলী (৫০), মোফাজ উদ্দিনের মেয়ে মোরশেদা বেগম (৩৭), আইয়ুব আলীর মেয়ে
আমেনা খাতুন (৭), ছেলে ইউসুপ আলী (২৬) ও জাকারিয়া হোসেন (২৮), মোস্তফা আলীর মেয়ে
লাবনী আক্তার (২৬) ও কাজুলি খাতুন (২৪), ইউসুপ আলীর মেয়ে ইথি মনি (২) এবং জাকারিয়া
হোসেনের মেয়ে জাহিদা (৩)।
আটককৃতরা বিজিবির কাছে জানিয়েছেন, হরিয়ানা পুলিশ গত শনিবার
রাতে জীবননগরের সীমান্তবর্তী বিএসএফ ক্যাম্পের সামনে নিয়ে আসে। এরপর বিএসএফের
উপস্থিতিতে সীমান্তের ৬২ নম্বর পিলারের কাছের কাঁটাতারের গেট খুলে দিয়ে তাদেরকে
বাংলাদেশে পুশইন করে। অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে তাদেরকে বিজিবি সদস্যরা
আটক করে। রোববার রাতে আটককৃতদের জীবননগর পাইলট হাইস্কুলের হলরুমে পুলিশি প্রহরায়
রাখা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে নড়াইল জেলার কালিয়ার বিষ্ণুপুর গ্রামের সুব্রত
মল্লিকের ছেলে বাবুল মল্লিক জানান, তিনি ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদ ও হরিয়ানা শহরে
দীর্ঘদিন ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে তাদের বাড়িঘর রয়েছে।
কয়েক দিন আগে তাদের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হলে তারা গৃহহীন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায়
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলে আসেন এবং নোনাগঞ্জ বিএসএফ ক্যাম্পে আত্মসমার্পন করেন।
বিএসএফ সদস্যরা রাত আড়াইটার দিকে গেট খুলে দিয়ে তাদেরকে বাংলাদেশে পুশইন করে।
জীবননগর থানার ওসি মো. মামুন হোসেন বিশ্বাস বলেন, ‘অনুপ্রবেশের
দায়ে ৫৪ জনকে জীবননগর থানায় সোপর্দ করেছে বিজিবি।’
অন্যদিকে, রোববার সন্ধ্যায় দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা
নিমতলী সীমান্তের বিজিবির হাতে পাঁচ নারী-পুরুষ আটক হয়।
আটককৃতরা হলেন মো. হাসান আলী (৫৭), মোছা. হাছনা বেগম (৪৩), মো. হান্নান মিয়া
(১৬), মোছা. আলেয়া বেগম (৪৬) ও মো. সাইদুর রহমান (৫১)। তারা সবাই কুড়িগ্রাম
জেলার নাগেশ্বরী ও সদর থানার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, এদের সবার কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট ছিল
না। বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে পুশইন করার পর বিজিবি দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর
গ্রামের পাকা রাস্তা থেকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাদের আটক করে।
বিজিবি জানায়, আটককৃতরা অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিল এবং ফিরতি পথে
আইন অনুযায়ী সঠিক পন্থা অবলম্বন না করে সীমান্ত অতিক্রম করেছিল। আটককৃতদের
বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দর্শনা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সোমবার সকালে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দর্শনা থানার ওসি
মোহাম্মদ শহীদ তিতুমীর বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
