কক্সবাজারে একদিনে মাদক ব্যবসায়ী-ডাকাতসহ নিহত ৬

  কক্সবাজার প্রতিনিধি ০১ অক্টোবর ২০১৮, ২০:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

বন্দুকযুদ্ধ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা সম্রাট ও মহেশখালীর আরেক ইয়াবা ব্যবসায়ী কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। রামুর বাইশারীতে দুই ডাকাতদলের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ৩ ডাকাতসহ ৫ জন নিহত হয়েছে।

এছাড়া টেকনাফ সদর ইউনিয়নের জাঁহালিয়াপাড়া এলাকায় পরকীয়ার জের ধরে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন হয়েছে।

রোববার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পৃথকভাবে এসব ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজারে পৃথক ঘটনায় নিহতরা হলো- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী হ্নীলার পুতুইয়া মিস্ত্রি, ছোট মহেশখালীর শাপলাঢেবার মাদক ব্যবসায়ী করিম, বাইশারী লম্বাবিল ঘোনার পাড়ার আনোয়ার হোসেন ওরফে আনাইয়্যা ডাকাত, ঈদগড় কোনারপাড়ার পারভেজ প্রকাশ বাপ্পি ডাকাত, গর্জনিয়ার বড়বিল এলাকার হামিদ হোসেন প্রকাশ হামিদ্যা ডাকাত।

এ সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হরেক রকম দেশীয় তৈরি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

সূত্রমতে, টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম সিকদার পাড়া এলাকার আজিজুল হকের পুত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি ইমরান প্রকাশ (পুতুইয়া মিস্ত্রি) দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায়। তাকে ধরার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা দীর্ঘদিন চেষ্টা চালায়।

সর্বশেষ রোববার গভীর রাতে টেকনাফ হ্নীলা ইউনিয়নের দরগারছড়া এলাকা ইয়াবা পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইয়াবা কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পরে আত্মরক্ষার্তে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুতুইয়া মিস্ত্রির লাশ, ২টি অস্ত্র, গুলি ও ৭ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, মাদক পাচারকারীরা যত বড় শক্তিশালী ব্যক্তি হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নিহত পুতুইয়া মিস্ত্রি ইয়াবা তালিকার শীর্ষস্থানে অবস্থানকারী।

এদিকে রোববার ভোরে মহেশখালীর ছোট মহেশখালী শাপলাঢেবা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে করিম নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহত করিম শাপলাঢেবা এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে থানায় হত্যাসহ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানান পুলিশ।

মহেশাখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ যুগান্তরকে বলেন, রোববার ভোর ৫টার দিকে মহেশখালী উপজেলার শাপলাঢেবা এলাকায় সন্ত্রাসীদের অবস্থানের খবরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি চালায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ইয়াবা ব্যবসায়ী করিমের লাশ এবং দেশীয় তৈরি অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের জাঁহালিয়াপাড়া এলাকায় পরকীয়ার জের ধরে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাইন খুন হয়েছেন। ৩০ সেপ্টেম্বর রোববার ভোররাত ২টার দিকে টেকনাফ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জাঁহালিয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোহাম্মদ ইসমাইল (২৮) টেকনাফ ইউনিয়নের জাঁহালিয়াপাড়ার মৃত নজির আহমদের ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থল হতে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাবি নুর আয়েশাকে আটক করেছে পুলিশ।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, খুনের ঘটনা তদন্তের স্বার্থে খুনের সঙ্গে জড়িত বড় ভাই ফরিদের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়া পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীর গহিন পাহাড়ে আনোয়ার বাহিনীর প্রধান আনাইয়্যা ও তার দুই সহযোগীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকাল ৮টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নের আলীক্ষ্যং মৌজার এক রাবার বাগান থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনটি একনলা বন্দুক, একটি শটগান, ৮ রাউন্ড কার্তুজ, ৪টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন বাইশারী ইউনিয়নের লম্বাবিল ঘোনার পাড়া এলাকার মৃত আব্দুস সোবহানের ছেলে আনাইয়া বাহিনীর প্রধান আনোয়ার হোসেন ওরফে আনাইয়্যা ডাকাত (২৮), রামুর ঈদগড় ইউনিয়নের কোনারপাড়া এলাকার ছৈয়দ হোসেনের ছেলে পারভেজ প্রকাশ বাপ্পি ডাকাত (৩০) ও রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল এলাকার মৃত নুরুল হাকিমের ছেলে হামিদ হোসেন (২৫) প্রকাশ হামিদ্যা ডাকাত।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোর ৫টার দিকে বাইশারী ইউনিয়নের আলীক্ষ্যং মৌজার দিল মোহাম্মদের বাগানে গোলাগুলির শব্দ শুনে ঘটনাটি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক একেএম হাবিবুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গেলে অন্যান্য ডাকাত সদস্যরা পালিয়ে যায়। ওই সময় তল্লাশি চালিয়ে দিল মোহাম্মদের রাবার বাগানের স্টাফ কোয়ার্টারের পাশে ৩ ডাকাতের গুলিবিদ্ধ লাশ, অস্ত্র, গুলি ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি শেখ মো. আলমগীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ডাকাত দলের সদস্যদের মাঝে হয়তো টাকার ভাগভাটোয়ারা নিয়ে মনোমালিন্য হওয়ায় নিজেদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থল থেকে ৪টি দেশীয় তৈরি বন্দুক, ৮টি কার্তুজ, ৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাকি ডাকাতদের ধরতে পুলিশ-বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং উক্ত ঘটনাটি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম সাংবাদিকদের জানান, আনোয়ার বাহিনীর প্রধান আনাইয়্যাসহ তার দুই সহযোগী নিহত হওয়ায় তার ইউনিয়নের ৩০ হাজার মানুষের মাঝে ফিরেছে স্বস্তি। পাশাপাশি হাজার হাজার রাবার বাগানের শ্রমিকরা এখন নির্বিঘ্নে বাগানের কষ আহরণ করার জন্য যেতে পারবে।

চেয়ারম্যান বলেন, ডাকাত আনাইয়্যা দীর্ঘ ৭ বছর ধরে বাইশারী-ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়ক, বাইশারী, ঈদগড়, গর্জনীয়ার বিভিন্ন রাবার বাগানে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, খুন-খারাবি, নারী ধর্ষণসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। তার বাহিনীর অত্যাচারে তিন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ অতিষ্ঠ ছিল।

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×