Logo
Logo
×

সারাদেশ

ধর্ষণচেষ্টার সালিশে মারপিট, নারীসহ ৬ জন আহত

Icon

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৫, ১১:২৩ পিএম

ধর্ষণচেষ্টার সালিশে মারপিট, নারীসহ ৬ জন আহত

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় এক সালিশ বৈঠকে মারপিটের ঘটনায় নারীসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতদের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার বিকালে উপজেলার শুয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে এ মারপিটের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার শুয়াগ্রামের এক গৃহবধূর বাড়ির ঘরের বেড়া কেটে একই গ্রামের খগেন্দ্রনাথ মধুর ছেলে রিপন মধু ও সুরাত আলী বিশ্বাসের ছেলে রাজিবুল বিশ্বাস মুখোশ পড়ে ঘরে প্রবেশ করে। ওই গৃহিণী স্বামী রাতে বাড়িতে না থাকা সুযোগে রিপন মধু ও রাজিবুল বিশ্বাস গৃহবধূকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে হাত পা বেঁধে ফেলে। হাত-পা বাঁধার সময় ওই গৃহবধূর সঙ্গে হাতাহাতিতে রিপন মধুর মুখোশ খুলে যায়। ওই গৃহিণী রিপন মধু ও রাজিবুল বিশ্বাসকে চিনে ফেললে তারা ঘর থেকে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে রোববার বিকালে শুয়াগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশ বৈঠকে দুইপক্ষের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রিপন মধু ও রাজিবুল বিশ্বাস লোকজন নিয়ে ওই গৃহবধূর লোকজনকে মারপিট করে।

ওই গৃহিণী বলেন, গত শুক্রবার রাতে আমার স্বামী চাকরির সুবাদে বাহিরে ছিল। ঘরে আমি একা ঘুমিয়ে ছিলাম। আমাকে ঘরে একা পেয়ে এই এলাকার খগেন্দ্রনাথ মধুর ছেলে রিপন মধু ও সুরাত বিশ্বাসের ছেলে রাজিবুল বিশ্বাস মুখোশ পরে আমার ঘরে বেড়া কেটে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে আমাকে চেপে ধরে ওড়না দিয়ে হাত পা বাঁধে। হাত-পা বাঁধার এক পর্যায়ে আমি পা দিয়ে লাথি মারলে রিপন মধুর মুখোশ খুলে যায়। আমি রিপন মধুকে চিনে ফেলার কারণে তারা আমাকে রেখে পালিয়ে যায়।

বিষয়টি আমি এলাকায় লোকজনকে জানালে আজ রবিবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সালিশ বৈঠকে রিপন মধু ও রাজিবুল বিশ্বাস লোকদের নিয়ে আমাদের লোকজনকে মারপিট করে। আমি রিপন মধুসহ এ ঘটনায় জড়িত সকলের বিচার দাবি করছি।

মারপিটের ঘটনার পর রিপন মধু ও রাজিবুল বিশ্বাস পলাতক রয়েছে। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সালিশকারক রনজিত মধু, আলমগীর হাজরা, সালাম মেম্বর ও লোকমান হোসেন বলেন, সালিস বৈঠকের এক পর্যায়ে রিপন মধু ও রাজিবুল বিশ্বাস লোকজন নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজনকে মারধর করে। এ ঘটনার পরে আমরা বৈঠক থেকে চলে আসছি।

কোটালীপাড়া থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম