Logo
Logo
×

সারাদেশ

গাইবান্ধার কাঞ্চনের হুংকার

একটা খুন করেছি আরও ১শ জনকে খুন করব

Icon

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫, ১১:০০ পিএম

একটা খুন করেছি  আরও ১শ জনকে  খুন করব

একটা খুন করেছি-দরকার হলে আরও ১০০ জনকে খুন করব। চাঁদা না দেয়ায় এভাবেই প্রতিবেশীকে হুমকি দিয়ে তাদের বাড়ির দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে দিয়েছে মাদক ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাঞ্চন মিয়া।

গত বৃহস্পতিবার এ হুমকির প্রেক্ষিতে প্রাণ ভয়ে কেউ তাকে বাধা দিতে আসেনি। কিন্তু এ হুমকির ভিডিও ভাইরাল হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা শহরজুড়েও তোলপাড় শুরু হয়েছে।

একজনকে খুনের মামলায় জামিনে বেড়িয়ে এসে মাদক সম্রাট, দাদন ও বালু ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ কাঞ্চন মিয়া দিনে-দুপুরে পাশের প্রতিবেশীকে হুমকি দিয়ে সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে দেয়। তার এই হুমকি দূর থেকে ভিডিও করেন পড়শিরা। সীমানা প্রাচীর ভাঙার পর ভুক্তভোগী আনিসুজ্জামান তুহিন কাঞ্চনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করেন। এরপর সটকে পড়ে কাঞ্চন বাহিনী।

শহরের পূর্বপাড়ার আজিজুল ইসলাম নবাবের ছেলে কাঞ্চন মিয়া পড়ালেখায় বেশিদূর না যেতে পারলেও অপরাধ জগতে তার নাম শীর্ষ। ছোট বেলা থেকেই বখাটে কাঞ্চন নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তার কুকর্ম গাইবান্ধা শহরে ছড়িয়ে বিস্তার লাভ করে ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া ও তিস্তা যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলেও। নিজে এক সময় মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন পথে মাদক এনে কাঞ্চন গাইবান্ধাজুড়ে নানা স্পটে মাদক পৌঁছে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্বপাড়ার দলের লোকজনের মাধ্যমে মাদক বিক্রির এজেন্টের দায়িত্ব পালন করতে থাকে। তারপর সে বালু ব্যবসা, দাদন ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অসমাজিক কার্যকলাপসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। এভাবেই চারদিক থেকে কাঁচা টাকা আসতে থাকে কাঞ্চনের হাতে। দলবল নিয়ে সে এরপর দাদন ব্যবসা ছড়িয়ে দেয় গাইবান্ধা থেকে চরাঞ্চল পর্যন্ত।

কাঞ্চনের বেপরোয়া এসব অপকর্মের বাধা হয়ে দাড়ায় ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জের আতিকুর রহমান সরকারের কলেজ পড়ুয়া ছেলে রকি। কাঞ্চনের অপকর্ম, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় কাঞ্চন বাহিনী রকিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ২০২১ সালের ১২ জুলাই রকিকে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রাখে।

এ ব্যাপারে আতিকুর রহমান বাদী হয়ে কাঞ্চনকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নামে গাইবান্ধা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে কাঞ্চনকে গ্রেফতার করে।

দীর্ঘদিন কারাভোগের পর কাঞ্চন জামিনে বেরিয়েই প্রতিবেশী আনিসুজ্জামান তুহিনের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ৩ জুলাই কাঞ্চন বাহিনী নিয়ে তুহিনের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় সে চিৎকার করে বলতে থাকে ১টা খুন করেছি, দরকার হলে আরও ১শ জনকে খুন করব। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ কাঞ্চনকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম