খুন হওয়ার ১৫ দিন পর কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার!
jugantor
খুন হওয়ার ১৫ দিন পর কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার!

  পটুয়াখালী প্রতিনিধি  

০৬ অক্টোবর ২০১৮, ২২:০৩:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

খুন হওয়ার ১৫ দিন পর কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার!

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার আলীপুরা গ্রামের মৃত বাবুল মল্লিকের ১৫ বছরের কিশোরী কন্যা মরিয়ম মৃতের ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পটুয়াখালী পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মুগদা থানার মদিনাবাগের খালপাড়া এলাকার রুনা ফ্যাশন থেকে কর্মরত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

শনিবার দুপুরে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঈনুল হাসান এ তথ্য জানান। এর আগে মরিয়ম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলাসহ গোটা এলাকায় উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া কিশোরী মরিয়ম (১৫) পটুয়াখালীর মহিপুর থানাসংলগ্ন এলাকা আলীপুর গ্রামের মৃত বাবুল মল্লিকের মেয়ে।

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কিশোরী নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ধারণা করা হয় মরিয়ম অপহরণ, ধর্ষণ অথবা খুনের শিকার হয়েছে। ঘটনার দিন সকালে মরিয়মের মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে মহিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরিয়মের ঘর থেকে রক্ত, মাংসের টুকরো, রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র, পায়ে ব্যবহৃত নূপুরের টুকরো, চুলের কর্তিত অংশ, নিতম্বে ব্যবহৃত কইতন (তাগা), ফ্রকের গলাকাটা কর্তিত অংশ, স্যুকেস থেকে অর্থ লোপাট, ওড়নায় কৃত্রিম ফাঁসসহ একাধিক আলামত খুঁজে পায়।

এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলটি সম্পূর্ণভাবে কর্ডন করে রাখে। বিষয়টি উদঘাটনের জন্য পরিবারের সদস্যসহ কয়েকজনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেও ব্যর্থ হয় পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে একাধিক মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হলে এলাকাসহ সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

এর আগে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর এমন ঘটনায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরা নড়েচড়ে বসেন।
পরে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার বরিশাল সিআইডির ক্রাইম সিনের সহায়তা নেন। সিআইডির ক্রাইম সিন ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত মাংসসহ নানা আলামত উদ্ধার করে পরীক্ষাগারে পাঠায়। পরীক্ষার পরে সিআইডি পুলিশ জানতে পারে মাংসের আলামত রাজহাঁসের মাংস এবং বাকি কিছু আলামত রহস্যজনক।

পুলিশের দৃষ্টিতে ঘটনাটি ৫০ ভাগ সন্দেহের তালিকায় চলে যায়। এরপর পটুয়াখালী পুলিশের কয়েকটি দল পৃথকভাবে কাজ শুরু করে মাঠপর্যায়ে। ঘটনার কয়েক দিন অতিবাহিত হলে মরিয়মের মায়ের কাছে একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ফোনকল আসে। মরিয়মের প্রতিবেশীরা ফোনকলের বিষয়টি পুলিশ সুপারকে অবহিত করে।

এরপরে পুলিশ জোরালোভাবে তদন্ত শুরু করে। মরিয়মের মায়ের কাছে আসা কল অডিও রাখার ফলে পুলিশের নিরীক্ষায় নিশ্চিত হয় ওই কণ্ঠস্বর মরিয়মের। এরপর পুলিশ ওই নম্বর নিয়ে তদন্ত শুরু করে দেখে রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে কলটি করা হয়েছে।

পুলিশ ওই মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে গত ০৩ অক্টোবর রাজধানীর মুগদা এলাকার মদিনাবাগের খালপাড়া এলাকার রুনা ফ্যাশনে পৌঁছায়। এ সময় পুলিশ মরিয়মকে অক্ষত এবং কর্মরত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে নিয়ে আসা হয় পটুয়াখালীতে।

এদিকে পুলিশের কাছে মরিয়মের স্বীকারোক্তির বরাদ দিয়ে পুলিশ সুপার জানায়, সম্প্রতি তার পরিবার মরিয়মকে তার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিবাহ দেয়ার চাপ প্রয়োগ করে। মরিয়ম এ বিয়ে থেকে বাঁচতে ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নিজেই নাটক সাজায়।গত ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মরিয়ম গৃহপালিত একটি রাজহাঁসের হাত-পা বেঁধে নিজে জবাই করে তার দুই টুকরো মাংস পুকুর থেকে ধুয়ে ঘরের মেজেতে রেখে বাকি মাংসগুলো ফেলে দেয়।

এরপরে যা-যা আলামত ঘটনাস্থলে দৃশ্যমান ছিল তা মরিয়ম নিজেই তৈরি করেছে এবং ওই রাতেই নিজ বাড়ি থেকে কলাপাড়া পৌঁছে পরদিন ঈগল পরিবহনে ঢাকায় পৌঁছায়।

পরে নিকটতম একজনের সহায়তায় রুনা ফ্যাশনে কাজ জুটিয়ে নিয়ে মরিয়ম ১৫ দিন অতিবাহিত করে। শনিবার মরিয়মকে জেলে পাঠানো হবে এবং রোববার আদালতে মাধ্যমে তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হবে।

খুন হওয়ার ১৫ দিন পর কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার!

 পটুয়াখালী প্রতিনিধি 
০৬ অক্টোবর ২০১৮, ১০:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
খুন হওয়ার ১৫ দিন পর কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার!
ছবি: যুগান্তর

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার আলীপুরা গ্রামের মৃত বাবুল মল্লিকের ১৫ বছরের কিশোরী কন্যা মরিয়ম মৃতের ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

পটুয়াখালী পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মুগদা থানার মদিনাবাগের খালপাড়া এলাকার রুনা ফ্যাশন থেকে কর্মরত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। 

শনিবার দুপুরে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঈনুল হাসান এ তথ্য জানান।  এর আগে মরিয়ম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলাসহ গোটা এলাকায় উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। 

উদ্ধার হওয়া কিশোরী মরিয়ম (১৫) পটুয়াখালীর মহিপুর থানাসংলগ্ন এলাকা আলীপুর গ্রামের মৃত বাবুল মল্লিকের মেয়ে। 

পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কিশোরী নিখোঁজের ঘটনা ঘটে।  পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ধারণা করা হয় মরিয়ম অপহরণ, ধর্ষণ অথবা খুনের শিকার হয়েছে।  ঘটনার দিন সকালে মরিয়মের মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে মহিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরিয়মের ঘর থেকে রক্ত, মাংসের টুকরো, রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র, পায়ে ব্যবহৃত নূপুরের টুকরো, চুলের কর্তিত অংশ, নিতম্বে ব্যবহৃত কইতন (তাগা), ফ্রকের গলাকাটা কর্তিত অংশ, স্যুকেস থেকে অর্থ লোপাট, ওড়নায় কৃত্রিম ফাঁসসহ একাধিক আলামত খুঁজে পায়। 

এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলটি সম্পূর্ণভাবে কর্ডন করে রাখে।  বিষয়টি উদঘাটনের জন্য পরিবারের সদস্যসহ কয়েকজনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেও ব্যর্থ হয় পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে একাধিক মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হলে এলাকাসহ সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। 

এর আগে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর এমন ঘটনায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরা নড়েচড়ে বসেন। 
পরে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার বরিশাল সিআইডির ক্রাইম সিনের সহায়তা নেন।  সিআইডির ক্রাইম সিন ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত মাংসসহ নানা আলামত উদ্ধার করে পরীক্ষাগারে পাঠায়।  পরীক্ষার পরে সিআইডি পুলিশ জানতে পারে মাংসের আলামত রাজহাঁসের মাংস এবং বাকি কিছু আলামত রহস্যজনক। 

পুলিশের দৃষ্টিতে ঘটনাটি ৫০ ভাগ সন্দেহের তালিকায় চলে যায়। এরপর পটুয়াখালী পুলিশের কয়েকটি দল পৃথকভাবে কাজ শুরু করে মাঠপর্যায়ে।  ঘটনার কয়েক দিন অতিবাহিত হলে মরিয়মের মায়ের কাছে একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ফোনকল আসে।  মরিয়মের প্রতিবেশীরা ফোনকলের বিষয়টি পুলিশ সুপারকে অবহিত করে। 

এরপরে পুলিশ জোরালোভাবে তদন্ত শুরু করে। মরিয়মের মায়ের কাছে আসা কল অডিও রাখার ফলে পুলিশের নিরীক্ষায় নিশ্চিত হয় ওই কণ্ঠস্বর মরিয়মের। এরপর পুলিশ ওই নম্বর নিয়ে তদন্ত শুরু করে দেখে রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে কলটি করা হয়েছে। 

পুলিশ ওই মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে গত ০৩ অক্টোবর রাজধানীর মুগদা এলাকার মদিনাবাগের খালপাড়া এলাকার রুনা ফ্যাশনে পৌঁছায়। এ সময় পুলিশ মরিয়মকে অক্ষত এবং কর্মরত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পরে নিয়ে আসা হয় পটুয়াখালীতে। 

এদিকে পুলিশের কাছে মরিয়মের স্বীকারোক্তির বরাদ দিয়ে পুলিশ সুপার জানায়, সম্প্রতি তার পরিবার মরিয়মকে তার খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে বিবাহ দেয়ার চাপ প্রয়োগ করে।  মরিয়ম এ বিয়ে থেকে বাঁচতে ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নিজেই নাটক সাজায়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে মরিয়ম গৃহপালিত একটি রাজহাঁসের হাত-পা বেঁধে নিজে জবাই করে তার দুই টুকরো মাংস পুকুর থেকে ধুয়ে ঘরের মেজেতে রেখে বাকি মাংসগুলো ফেলে দেয়। 

এরপরে যা-যা আলামত ঘটনাস্থলে দৃশ্যমান ছিল তা মরিয়ম নিজেই তৈরি করেছে এবং ওই রাতেই নিজ বাড়ি থেকে কলাপাড়া পৌঁছে পরদিন ঈগল পরিবহনে ঢাকায় পৌঁছায়। 

পরে নিকটতম একজনের সহায়তায় রুনা ফ্যাশনে কাজ জুটিয়ে নিয়ে মরিয়ম ১৫ দিন অতিবাহিত করে। শনিবার মরিয়মকে জেলে পাঠানো হবে এবং রোববার আদালতে মাধ্যমে তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হবে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন