সোনাগাজীতে উচ্ছেদে বাধা, দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৬
সোনাগাজী (ফেনী) দক্ষিণ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫, ০৭:১০ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ড্রেন নির্মাণের জন্য সাবেক কৃষক দল নেতার সীমানা প্রাচীর উচ্ছেদে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দুপক্ষের সংঘর্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পৌর এলাকার বাখরিয়া ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, ফেনী জেলা কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সোনাগাজী বাজারের ব্যবসায়ী মাঈন উদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— ফেনী জেলা কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন, তার ছেলে কপিল উদ্দিন অভি, মেহের আহমেদ অমি, স্ত্রী ফরিদা ইয়াছমিন, সোহেল কামাল হৃদয়, শাহাদাৎ হোসেন মিশন, আবদুল শুক্কুর, গ্রামবাসী আবিদুর রহমান, আজিজ মোহাম্মদ দুলাল, জামশেদ আলম, মো. নিলয়, সাইফ উদ্দিন ও আজিম উদ্দিন।
পুলিশ, পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা জানান, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে বাখরিয়া গ্রামে ড্রেন ও সড়ক নির্মাণের জন্য ৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। হক ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পান। ওই কৃষক দল নেতার বাড়ির কাছে গেলে ড্রেনের জন্য আরও দুই ফুট জমির দরকার পড়ে। এতে তার সীমানা প্রাচীর ভাঙতে হয়। এতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাধার মুখে পড়ে।
কয়েক মাস ধরে এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে পৌর কর্তৃপক্ষ সীমানা প্রাচীর নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে তাকে চূড়ান্ত নোটিশ করেন। তা তিনি সরিয়ে না নিলে গত ২১ জুলাই পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন সরেজমিনে পরিদর্শনে যান।
পৌর আইনানুযায়ী পাঁচ ফুট দূরত্বে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না করার কারণে ইমারত আইনানুযায়ী সীমানা প্রাচীর পৌর কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে ভাঙবেন বলে জানান।
এ সময় মাঈন উদ্দিন মৌখিকভাবে নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিবেন বলে আগামী শনিবার (২৬ জুলাই) পর্যন্ত সময় চান। ইউএনও তাকে সময় দেন। এর মধ্যে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মাঈন উদ্দিন বুধবার (২৩ জুলাই) ফেনীর সহকারি জজ আদালতে মামলা করেন।
মামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নাজিয়া হোসেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হক ট্রেডার্সের মালিক ফজলুল হক বাবলু ও পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিবাদী করা হয়। আদালত তার মামলাটি আমলে নিয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও নোটিস প্রাপ্তির দশ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর আদেশ জারি করেন। এতে ইউএনও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ভেকু মেশিন নিয়ে সীমানা প্রাচীর উচ্ছেদ করতে গেলে মাঈন উদ্দিন তাকে আদালতের নোটিস দেখান। এ সময় তার ছেলের সঙ্গে গ্রামের কয়েকজন যুবকের সঙ্গে তর্কবিতর্ক শুরু হলে ইউএনওর সামনেই উত্তেজিত গ্রামবাসী ও মাঈন উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় মাঈন উদ্দিনের ঘর থেকে মরিচের গুঁড়া মিশ্রিত পানি নিক্ষেপ করা হয়।
ইউএনও মুঠোফোনে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিয়া হোসেন বলেন, পৌরসভার ইমারত উচ্ছেদ আইনানুযায়ী অভিযান চালানো হয়েছে এবং সীমানা প্রাচীরটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে মালিকের পক্ষ থেকে আদালত কর্তৃক তিনি কোনো নোটিস পাননি। তার সামনে সংঘর্ষের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সাবেক কৃষক দল নেতা মাঈন উদ্দিন বলেন, আমি পৌর আইন মেনে রাস্তা ও ড্রেনের জন্য জমি ছেড়ে দিয়ে পৌরসভা থেকে অনুমোদন নিয়ে প্রায় ১৫ বছর আগেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছি।
পৌরসভা থেকে নোটিস পাওয়ার পর আমি আইনের আশ্রয়ে গিয়েছি। ইউএনও এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বহিরাগত লোক নিয়ে উচ্ছেদ করতে গেলে তারা আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করে।
ওই গ্রামের বসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, দেড় বছর যাবৎ কাজটি পড়ে আছে। তার বাধার কারণে ড্রেন ও সড়ক নির্মাণ কাজ আটকে আছে। গ্রামবাসী সহ ইউএনও ঘটনাস্থলে গেলে মরিচের গুঁড়া মিশ্রিত পানি নিক্ষেপ করে গ্রামের লোকদের ওপর মাঈন উদ্দিনের পরিবারের লোকজন হামলা করে।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি বায়েজীদ আকন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
