নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান খুলে ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ
সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৫, ১০:১৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কর্মচারীর নামে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান খুলে ১৫ কোটি টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।
বৃহস্পতিবার সকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাইনউদ্দীন চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেছেন। দুদক চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদ ছাড়া অন্য আসামিরা হচ্ছেন- জাবেদের স্ত্রী ও ‘ইউসিবিএল’ ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, তার দুই ভাই সাবেক পরিচালক আনিসুজ্জামান চৌধুরী, আসিফুজ্জামান চৌধুরী এবং বোন রোকসানা জামান চৌধুরী ও আফরোজা জামান।
আসামি হিসেবে ইউসিবিএলের কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও আছেন- আবু হেনা মো. ফখরুল ইসলাম, মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী, জিয়াউল করিম খান, মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন, আব্দুল হামিদ চৌধুরী, বজল আহমেদ বাবুল, সাবেক পরিচালক আখতার মতিন চৌধুরী, এম এ সবুর, ইউনুছ আহমদ, নুরুল ইসলাম চৌধুরী, বশির আহমেদ প্রমুখ।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্বাস ভঙ্গ করে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬১, ৪৬৮ ও ৪৭১ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪ (২) ও (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়- আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তারা নামসর্বস্ব তিনটি প্রতিষ্ঠান খুলেন। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- মডেল ট্রেডিং, ইম্পেরিয়াল ট্রেডিং ও রিলায়েবল ট্রেডিং। ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর রিলায়েবল ট্রেডিংয়ের নামে ইউসিবিএলের বন্দর শাখায় ২৩ কোটি টাকার টাইম লোনের আবেদন করা হয়। ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ এ ঋণ চাওয়া হয়েছিল।
ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ আবেদনকারীর ব্যবসা, মালিকানা, পণ্য, শো-রুম, গোডাউন, সেলস, স্টক, কর্মচারী, ব্যাংক পারফরম্যান্সের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সন্তোষজনক পরিদর্শন রিপোর্ট দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনে ৩৬০ দিনের জন্য ১৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু ইউসিবিএলের করপোরেট ব্যাংকিং ও ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের গঠিত ক্রেডিট কমিটি ৯টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দেয়।
সেই পর্যবেক্ষণ আমলে না নিয়ে ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর ব্যাংকের ৪৫৪তম বোর্ড সভায় ১৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়। ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর ব্যাংকের বন্দর শাখায় রিলায়বেল ট্রেডিংয়ের হিসাব নম্বরে ১৫ কোটি টাকা জমা হয়।
এরপর ৭ ডিসেম্বর ৮টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ইউসিবিএলের ঢাকার কারওয়ানবাজার শাখা থেকে মডেল ট্রেডিংয়ের হিসাব নম্বরে সাড়ে ৬ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ওই হিসাব থেকে ৬টি চেকের মাধ্যমে ইউসিবিএলের চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট শাখা থেকে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্টের দায়-দেনা পরিশোধ করা হয়।
একইভাবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পাচারের অভিযোগে গত ২৪ জুলাই সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক।
আওয়ামী লীগ নেতা সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে তিনি লন্ডনে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
