বাগেরহাটে কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত ৫০
বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৫, ১০:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দুইপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩ সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। রোববার বিকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের সন্ন্যাসী বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময়ে বিএনপির অফিসসহ উভয়পক্ষের ২০টি দোকান ও ১০টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে দুই সভাপতি প্রার্থী আব্দুল আলিম ও সাজারুল ইসলাম সাজুর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। এরই জের ধরে রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সন্ন্যাসী বাজারে দুই সভাপতি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
রোববার বিকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত দুইপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে তিন সাংবাদিকসহ বিএনপির অন্তত ৫০ নেতাকর্মী আহত হন। ভাঙচুর করা হয় স্থানীয় বিএনপি অফিসসহ উভয়পক্ষের ২০টি দোকান ও ১০টি বাড়ি। আহত বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েকজনকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এ সময়ে দৈনিক দিনকালের বাগেরহাট প্রতিনিধি হেদায়েত হোসেন লিটন, দৈনিক কালের কণ্ঠের বাগেরহাট প্রতিনিধি মামুন আহমেদ ও নাগরিক টেলিভিশনের বাগেরহাট প্রতিনিধি শেখ আহমেদ তারিক আহত হয়েছেন।
রামপাল থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে মোবাইল ফোনে জানান, উভয়পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ সংঘর্ষের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন সভাপতি প্রার্থী আব্দুল আলিমের পক্ষে তার ছেলে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি মেহেদী হাসান মিঠু। সোমবার বিকালে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান মিঠু দাবি করেছেন, মল্লিকেরবেড় ইউনিয়ন হচ্ছে বাগেরহাট জেলার গোপালগঞ্জ। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নে বিএনপি-জামায়াত জোট ধানের শীষ প্রতীকে ১৫৬ ভোট পেয়েছিল। এ কারণে আমাদের বাড়িঘরে হামলা লুটপাট করে আগুন জ্বালিয়ে দেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আমার পিতাসহ পরিবারের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার বাইরে থাকতে হয়েছে। আমাদের ত্যাগের কারণে জেলা বিএনপি আমার পিতাকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব দেয়। আমার পিতা শত প্রতিকূলতার মধ্যে দলকে সংগঠিত করে আসছেন। সম্প্রতি রামপালে ইউনিয়ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এলাকার সন্ত্রাসী ও মাদককারবারির সঙ্গে জড়িত একটি গোষ্ঠী আমার পরিবারের সুনাম নষ্ট করতে ও পরিকল্পিতভাবে কমিটি গঠন বন্ধ রাখার পাঁয়তারায় ব্যস্ত।
তিনি বলেন, এই চক্রের সদস্যরা রোববার বিকালে বহিরাগত লোকজন নিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ন্যাসী বাজারের বসতবাড়িতে ও দোকানে হামলা চালায়। একপর্যায়ে আমরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে পুলিশ ও সেনাবাহিনী আমাদের গভীর রাতে উদ্ধার করেছে। সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন মিঠু।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল আলিম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমাউন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিমসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতি প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজুর সমর্থক সাবেক যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, সভাপতি প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শামীম হাসান পলকের বিপুল জনপ্রিয়তা দেখে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী সভাপতি প্রার্থী নিজেদের ভরাডুবি ভেবে নির্বাচন বানচাল করার জন্য আমাদের লোকদের ওপর হামলা করে। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। তাদের হামলায় আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সাবেক ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান মিঠু ও মজনুর নেতৃত্বে এ হামলা হয়।
