মেহেরপুরে করোনা আতঙ্কে হাসপাতাল রোগী শূন্য!

  মেহেরপুর প্রতিনিধি ২৪ মার্চ ২০২০, ২১:৩০:২১ | অনলাইন সংস্করণ

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের ফাঁকা বেড

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে যন্ত্রণায় রোগীদের কাতরানোর কোনো শব্দ নেই। হাসপাতালে রোজকারমতো চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীর ভিড় নেই। হাতেগোনা যে কয়েকজন রোগী আছেন তারা অতি দুস্থ পরিবারের।

ওষুধ কেনার সামর্থ্যহীন রোগীরা শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সামর্থ্যবানরা পারিবারিকভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন নিজ বাড়িতে।

করোনার কারণে প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার চিকিৎসকদের চাহিদা বেড়েছে। ১০ দিন আগেও রোজই এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য প্রায় এক হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়ে বাড়ি ফিরত।

মঙ্গলবার হাসপাতালে দেখা যায়, সব ওয়ার্ডেই অধিকাংশ বেড খালি। সেবিকারা বসে খোশগল্প করছেন। তবে যে কয়েকজন রোগী ভর্তি আছেন তারা মহানন্দেই আছেন। রোগী কম থাকার কারণে ডাক্তার, সেবিকাদের যত্ন পাচ্ছেন। ঠিক সময়ে এসে ওষুধ খাইয়ে যাচ্ছে।

অথচ কয়েকদিন আগেও ২৫০ বেডের এ হাসপাতালের ওয়ার্ড, ওয়ার্ডের ফ্লোর ও খোলা বারান্দা, সিঁড়ির নিচ ভরে থাকত ৪ থেকে ৫শ’ রোগী। এমন বিপরীত চিত্রের কারণ করোনা আতঙ্ক। এ আতঙ্ক ছুঁয়েছে চিকিৎসকদেরও।

সরেজমিন মঙ্গলবার হাসপাতালে কথা হয় কয়েকজন ডাক্তারের সঙ্গে। তারাও করোনা প্রতিরোধ সরঞ্জাম না পাওয়ায় ভীতিকর অবস্থায় আছেন বলে জানান।

বিষয়টি স্বীকার করে একজন চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আইসিইউ বেড প্রস্তুত রেখে কী হবে যদি রোগটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জামই না থাকে?

সোমবার এ হাসপাতালে সব ওয়ার্ড মিলে ভর্তি ছিল ৩০ জন। মঙ্গলবার হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ১২ জন, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৩ জন, মেডিসিন ও গাইনি ওয়ার্ডে ১৮ জন, শিশু ও সার্জারি ওয়ার্ডে ২৭ জন মিলে মাত্র ৬০ জন।

পুরুষ ওয়ার্ডের সেবিকা নাসিমা খাতুন জানান, মারাত্মক অসুস্থ ছাড়া কেউ হাসপাতালে থাকছেন না। আমরাও আতঙ্ক নিয়ে কাজ করছি। শুধু মাস্ক ছাড়া করোনা প্রতিরোধক কোনো কিছু নেই।

আউটডোরে টিকিট দেয়া রফিকুল হোসেনকে দেখা গেল কাউন্টারে বসে থাকতে। তিনি জানান, মাঝেমধ্যে দুই একজন করে রোগী আসছেন। প্রতিদিনের সেই লম্বা লাইন আর নেই।

এ বিষয়ে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মোখলেসুর রহমান বলেন, চিকিৎসাসেবার অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা প্রস্তুত করোনা মোকাবেলায়। তবে প্রতিরোধক সরঞ্জাম না থাকায় আমরাও আতঙ্কে আছি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. তাহাজ্জেল হোসেন জানান, করোনা আতঙ্কে সাধারণ রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ হাসপাতালেই চিকিৎসা হবে করোনা রোগীদের এ আতঙ্কে। আইসোলেশন ওয়ার্ড খুলেছি। কিন্তু এ পর্যন্ত রোগ প্রতিরোধক সরঞ্জাম আসেনি।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত