যশোরে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা

  যশোর ব্যুরো ২৬ মার্চ ২০২০, ০০:৩০:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

করোনা আতঙ্কে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা। ছবি-যুগান্তর

করোনাভাইরাসের কারণে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। বেশির ভাগ রোগী করোনা আতঙ্কে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

হাসপাতাল প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগে নেই নিত্যদিনের ভিড়। আগে হাসপাতালে একটি সিট পেতে ধরনা দিতে হয়েছে দিনের পর দিন। কিন্তু এখন অধিকাংশ ওয়ার্ড প্রায় ফাঁকা।

২৫০ শয্যা বেডের এ হাসপাতালে সব সময়ই রোগী ভর্তি থাকেন সাড়ে ৬শ’র মতো। কিন্তু সম্প্রতি করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালে কমতে শুরু করেছে রোগীর সংখ্যা।

হাসপাতালের দেয়া তথ্যমতে, ১ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছিল ৬১৫ জন। ২০ মার্চ তা কমে আসে সাড়ে ৩শ’ জনে। আর ২৫ মার্চ ভর্তি রোগী আছে ১০৮ জন। বহির্বিভাগে ১ মার্চ সাড়ে ৭শ’ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে এলেও শনিবার আসেন মাত্র ১৫০ জন। রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের রোগী আসছে। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েও কেউ কেউ হাসপাতালে আসতে পারেন। তাই বাড়িতেই নিরাপদ মনে করে চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে তারা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

মণিরামপুর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সালমা আক্তার বলেন, সন্তান প্রসবের জন্য গত ২২ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। প্রথমে বেড পাইনি। মেঝেতে কাটাতে হয়েছে। কিন্তু করোনার আতঙ্কে হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে তেমন রোগী নাই। আমিও আজই রিলিজ নিয়ে চলে যাব।

হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স নাসরিন আক্তার জানান, হাসপাতালে ২৫০ শয্যার জায়গায় তিনগুন রোগী ভর্তি থাকে। চিকিৎসা দিতে হিমশিম লেগে যেত। কিন্তু বর্তমানে মনে হচ্ছে ‘মাছি মারতে হচ্ছে’। আমার চাকরির জীবনে এরকম দৃশ্য প্রথম।

তিনি আরও বলেন, রোগীদের সঙ্গে আমরাও করোনা আতঙ্কে রয়েছি। কারণ সেবিকারও ঠিকমতো নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দীলিপ কুমার রায় বলেন, করোনা আতঙ্কে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমেছে; যা নজিরবিহীন ঘটনা।

তিনি বলেন, হাসপাতালে ভাইরাসজনিত জ্বর-সর্দিতে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে। তাছাড়া আমরা রোগীদের করোনা বিষয়ে সচেতন করছি।

যশোর জেলা সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালসহ সব উপজেলা হাসপাতালে সাড়ে চারশ’ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড, সেবিকা, রোগী পরিবহনের জন্য আলাদা অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত