বগুড়ায় মাজারে তালাবন্দি করে ২ পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর
jugantor
বগুড়ায় মাজারে তালাবন্দি করে ২ পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর

  বগুড়া ব্যুরো  

২৬ মার্চ ২০২০, ০২:৪৬:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর

করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বগুড়ায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভাষা সৈনিক মরহুম গাজিউল হকের বাড়িতে ওরশের আয়োজন করাহয়েছে। নিষেধ করায় ভক্তরা দরজায় তালা দিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ফোর্সসেখানে গেলে ভক্তরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপরও চড়াও হন।

বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশ ওরশ অনুষ্ঠানের আয়োজক গাজিউল হকের ছেলে রাহুল গাজিসহ ২২-২৩ জনকে আটক করেছে।

কয়েকজন ভক্ত, সাবেক কাউন্সিলর ও এলাকাবাসীরা রাহুল গাজিকে আটকের দাবি করলেও সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান অস্বীকারকরেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মরহুম ভাষা সৈনিক গাজিউল হকের বাবা পীর সিরাজুল হক চিশতির মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিবছর ভক্তরা বাড়িতে থাকামাজারের পাশে নাচ, গানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে থাকেন।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ওরশে বুধবার বিপুল সংখ্যক নারী ও পুরুষ ভক্ত আসেন। করোনাভাইরাসের কারণে যে কোনো জনসমাগম নিষেধথাকার পরও এ আয়োজন করায় পুলিশ দুদফা নিষেধ করে যায়।

এরপরও ভক্তরা অবস্থান করায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নান্নু খান ও এএসআই জাহিদুল ইসলামআসেন। আবারও অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করায় ভক্তরা দরজা বন্ধ করে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বেদম মারপিট করেন।

খবর পেয়ে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান বিপুল সংখ্যকফোর্স নিয়ে গাজিউল হকের বাড়িতে আসেন।দরজা খুলতে বললে ভক্তরা লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন। পরে পুলিশ প্রধান দরজা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর তারাবিভিন্ন ঘরের সিটকি ও হ্যাজবল্ড ভেঙে পিটুনি দেয়ার পর ২২-২৩ জনকে আটক করে।

এছাড়া বেশ কয়েকজন নারী ভক্তকে স্থানীয় কাউন্সিলর সৈয়দ সার্জিল আহম্মেদ টিপু ও তরুণ চক্রবর্তীর জিম্মায় দেন।

বগুড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম নয়ন, কয়েকজন ভক্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ কয়েকটি ঘরেরদরজা ভেঙে মারপিটের পর রাহুল গাজি, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নুরুল আমিন নুরুসহ বেশ কয়েকজনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে।

রিতা পারভিন নামে এক ভক্ত জানান, পুলিশ ঘরের দরজা ভাঙচুর করার পর তার ‘পীর বাবা’ রাহুল গাজিকে মারপিট করে ধরে নিয়ে গেছে।সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীকে ভাষা সৈনিক গাজিউল হকের ছেলে রাহুল গাজিকে আটকের কথা বললে তিনিতাকে চেনেন না বলে জানান।

সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জানান, ২২ জনকে আটক করা হলেও এর মধ্যে রাহুল গাজি নেই।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশিরা দাবি করেন, পুলিশ ওরশের আয়োজক রাহুল গাজিকে আটক করলেও পরে অজ্ঞাত কোনো চাপবা তদবিরের মুখে তাকে ছেড়ে দিয়েছে।

বগুড়ায় মাজারে তালাবন্দি করে ২ পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর

 বগুড়া ব্যুরো 
২৬ মার্চ ২০২০, ০২:৪৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধর
গুড়ায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওরশ করায় ২২জনকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি-যুগান্তর

করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বগুড়ায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভাষা সৈনিক মরহুম গাজিউল হকের বাড়িতে ওরশের আয়োজন করা হয়েছে। নিষেধ করায় ভক্তরা দরজায় তালা দিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ফোর্স সেখানে গেলে ভক্তরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপরও চড়াও হন। 

বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। 

এ ঘটনায় পুলিশ ওরশ অনুষ্ঠানের আয়োজক গাজিউল হকের ছেলে রাহুল গাজিসহ ২২-২৩ জনকে আটক করেছে। 

কয়েকজন ভক্ত, সাবেক কাউন্সিলর ও এলাকাবাসীরা রাহুল গাজিকে আটকের দাবি করলেও সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান অস্বীকার করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মরহুম ভাষা সৈনিক গাজিউল হকের বাবা পীর সিরাজুল হক চিশতির মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিবছর ভক্তরা বাড়িতে থাকা মাজারের পাশে নাচ, গানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে থাকেন। 

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ওরশে বুধবার বিপুল সংখ্যক নারী ও পুরুষ ভক্ত আসেন। করোনাভাইরাসের কারণে যে কোনো জনসমাগম নিষেধ থাকার পরও এ আয়োজন করায় পুলিশ দুদফা নিষেধ করে যায়। 

এরপরও ভক্তরা অবস্থান করায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নান্নু খান ও এএসআই জাহিদুল ইসলাম আসেন। আবারও অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করায় ভক্তরা দরজা বন্ধ করে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বেদম মারপিট করেন। 

খবর পেয়ে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান বিপুল সংখ্যক ফোর্স নিয়ে গাজিউল হকের বাড়িতে আসেন। দরজা খুলতে বললে ভক্তরা লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হন। পরে পুলিশ প্রধান দরজা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর তারা বিভিন্ন ঘরের সিটকি ও হ্যাজবল্ড ভেঙে পিটুনি দেয়ার পর ২২-২৩ জনকে আটক করে। 

এছাড়া বেশ কয়েকজন নারী ভক্তকে স্থানীয় কাউন্সিলর সৈয়দ সার্জিল আহম্মেদ টিপু ও তরুণ চক্রবর্তীর জিম্মায় দেন।

বগুড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম নয়ন, কয়েকজন ভক্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ কয়েকটি ঘরের দরজা ভেঙে মারপিটের পর রাহুল গাজি, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নুরুল আমিন নুরুসহ বেশ কয়েকজনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে। 

রিতা পারভিন নামে এক ভক্ত জানান, পুলিশ ঘরের দরজা ভাঙচুর করার পর তার ‘পীর বাবা’ রাহুল গাজিকে মারপিট করে ধরে নিয়ে গেছে। সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীকে ভাষা সৈনিক গাজিউল হকের ছেলে রাহুল গাজিকে আটকের কথা বললে তিনি তাকে চেনেন না বলে জানান। 

সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জানান, ২২ জনকে আটক করা হলেও এর মধ্যে রাহুল গাজি নেই। 

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশিরা দাবি করেন, পুলিশ ওরশের আয়োজক রাহুল গাজিকে আটক করলেও পরে অজ্ঞাত কোনো চাপ বা তদবিরের মুখে তাকে ছেড়ে দিয়েছে।