চাকরি বাঁচাতে করোনা আতংকেও ঢাকামুখী মানুষের ঢল

  গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১৮:১০:২০ | অনলাইন সংস্করণ

ফেরিতে মানুষের ঢল। ছবি: যুগান্তর

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সারা দেশে চলছে লকডাউন। সরকারি ছুটির পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল। কিন্তু উল্টো চিত্র দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে।

এখানে শনিবার দুপুরের পর থেকে কর্মমুখী মানুষের ঢল নামে। করোনা আতঙ্ক মাথায় নিয়েই সবাই ছুটছেন রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি ছুটি বাড়িয়ে ৪ তারিখ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত করা হলেও গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কারখানার শ্রমিকের জন্য ছুটি বাড়েনি।

এ জন্য রোববার কর্মস্থলে যোগ দিতে দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ করোনা আতঙ্ক নিয়েই কর্মস্থলে ছুটছেন। তাছাড়া নিম্ন আয়ের এ সব মানুষের বাড়িতে বসে থাকারও উপায় নেই। তাই তো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কর্মের উদ্দেশে বেরিয়েছেন বলে কেউ কেউ জানান।

গোয়ালন্দ বাজার এলাকার বাসিন্দা ফরিদ হোসেন জানান, তিনি ঢাকায় একটি ছোট কারখানায় কাজ করেন। সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পরপর তিনি বাড়িতে চলে যান। এখন কারখানার মালিক ফোন করে জানিয়ে দিয়েছেন ৫ তারিখ কাজে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না। তাইতো স্ত্রী-সন্তানদের বাধা ও করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই অনেক ধকল সামলে ঢাকায় যেতে হচ্ছে।

ফরিদপুরের মধুখালী থেকে আসা গার্মেন্টস কর্মী রিনা খাতুন, স্মৃতি আক্তার, সুইটি আক্তার, বুলবুল হোসেন, মোস্তফাসহ অনেকেই জানান, আমরা বড়ই অভাগা। তাই তো সরকার ছুটি বাড়ালেও আমাদের বাড়েনি। সময় মতো কাজে যোগ না দিলে চাকরি বাঁচানো কঠিন।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, সরকারি আদেশে সারা দেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নৌপথে শুধু পণ্যদ্রব্য পারাপারের জন্য সীমিত আকারে ফেরি চালু রাখা হয়েছে। যানবাহন কমে যাওয়ায় এ নৌরুটের ১৬টি ফেরির মধ্যে ১১টি বসিয়ে রেখে আমরা মাত্র ৫টি ফেরি চালু রেখেছি।

কিন্তু শনিবার দুপুর থেকে মানুষের চাপে আমরা ঠিকমতো পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার করতে পারছি না। প্রতিটি ফেরিতেই মানুষের উপচে পড়া ভিড়। এরা সবাই বিভিন্ন গার্মেন্টস ও অন্যান্য ছোট-খাটো কারখানা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মী। করোনা ঝুঁকি থাকলেও ফেরিতে এদের এভাবে পারাপার ঠেকানো আসলে সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত