যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর রাঙ্গাবালীতে খাবার পাচ্ছেন ভারসাম্যহীন ভবঘুরেরা

  রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ১৩ মে ২০২০, ০৬:৪১:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

রাঙ্গাবালীতে পথে ঘুরে ঘুরে ভারসাম্যহীনদের খাবার বিতরণ করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান। ছবি: যুগান্তর

হিতাহিত জ্ঞান নেই, নেই জীবনের অর্থ বোঝার সক্ষমতা। তারা বোঝে না করোনা, বোঝে না লকডাউন। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার এমন মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে মানুষগুলোর দিন কাটছিল অনাহারে-অর্ধাহারে।

কিন্তু এখন সেই ভারসাম্যহীনরা প্রতিদিন খাবার পাচ্ছেন। তাদের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাশফাকুর রহমান।

এর আগে গত ২৯ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন ভার্সনে ‘রাঙ্গাবালীতে করোনা ঝুঁকি নিয়ে অনাহারে ভুগছে অর্ধশতাধিক ভারসাম্যহীন’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনটি নজরে এলে ইউএনও মো. মাশফাকুর রহমান নিজ উদ্যোগে উপজেলা সদরের ভারসাম্যহীনদের একবেলা খাবারের দায়িত্ব নেন। প্রতিদিন গাড়িতে ঘুরে ঘুরে ভারসাম্যহীনদের খুঁজে খাবার প্যাকেট ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে এখন।

তাদের ওই খাবারের মেন্যুতে থাকছে কখনও খিচুড়ি, কখনও সাদা ভাতের সঙ্গে মাছ কিংবা মাংস।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, গাড়িতে ঘুরে ঘুরে নিজেই ভারসম্যহীনদের জন্য খাবার নিয়ে পথেঘাটে ছুঁটছেন ইউএনও। যেখানে যাকে পাচ্ছেন তার হাতেই খাবার প্যাকেট ও পানির বোতল তুলে দিচ্ছেন। অনেকে আবার খাবারের অপেক্ষায় প্রতিদিন নির্দিষ্টস্থানে দাঁড়িয়েও থাকেন। তারা বুঝতে পারে, তাদের খাবার এসেছে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, ইউএনওর এ উদ্যোগটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘লকডাউন পরিস্থিতিতে কোনো হোটেল-রেস্তোরাঁ কিংবা খাবার দোকান খোলা নেই। ভারসাম্যহীনরা ওইসব দোকান থেকেই চেয়ে খায় বা অনেকে খাওয়ায়। এখন দোকানপাট বন্ধ থাকায় তারা খেতে পারছিল না। আমি অনেক আগে থেকেই প্রায়ই তাদেরকে শুকনো খাবার দিতাম। পরবর্তীতে যুগান্তর পত্রিকায় একটি নিউজ হয়েছিল। তখন বিষয়টি আমার আরও নজরে এলো। আমি ব্যক্তিগতভাবে সদরে প্রতিদিন ১০-১২ জনকে খাওয়াচ্ছি। এটা আমার নিজস্ব ভাল লাগা থেকে করছি। এটা প্রচার বা প্রসারের জন্য নয়।

এদিকে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খালিদ বিন ওয়ালিদকেও সম্প্রতি একদিন ভারসম্যহীনদের খুঁজে খুঁজে খাবার বিতরণ করতে দেখা গেছে।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যুগান্তরের সংবাদটি দেখে মনে হয়েছে, এই মুহূর্তে ভারসাম্যহীনদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তাই নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই নিজ উদ্যোগে খাবার দিচ্ছি। সাধ্যমত অন্যদেরও এগিয়ে আসতে আহ্বান জানাচ্ছি।’

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত