যারা গুজব ছড়ায় তাদের বয়কট করুন

  রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে ১৩ মে ২০২০, ২২:৫১:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

ভয় আমাদের সবার একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কোনও কারণে আমাদের বিপদের আশঙ্কা থাকলে সহজাতভাবেই আমাদের ভয় হয়। অনেকেই অন্ধকারে বা সাপ দেখে বা প্লেনে চড়তে ভয় পায়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের এই ভয় বা ফোবিয়া অযৌক্তিক এবং এর ফলে কোন ব্যক্তি সাংঘাতিক আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

এতে অবাক হবার কিছু নেই। মানুষ ভয়, আতঙ্ক নিয়েই বাঁচে, ভয়কে জয় করেই বাঁচে। কেউ অফিসের বসের আতঙ্কে আছে, কেউ প্রেমিকের আতঙ্কে ভুগছে কখন সে মোবাইল চেক করে বা ফেববুক দেখে। স্কুলের বাচ্চারা পরীক্ষার আতঙ্কে ভীতু। এই রকম সব ভয় আর আতঙ্ক কোনো মানুষের মধ্যে যদি খুব তীব্র আকার ধারণ করে তখন সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের কাছে যেতে হতে পারে।

ভয় পেয়ে ভীতু হয়ে গুটিয়ে না থেকে ভয় থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে চলাই জীবন। আতঙ্ক যে কাউকে পঙ্গু করতে পারে (panic can make anyone paralysed) তাকি আমরা জানি। ভয়, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ যদি একই সঙ্গে কারও মনকে গ্রাস করে এবং তার মন এই তিনটি নেতিবাচক অনুভূতির বিরুদ্ধে যদি কোনো প্রতিরোধ-দেয়াল তুলতে না পারে, তবে সে যেকোনো সময় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে তার বিবেক, বুদ্ধি, বোধ, যুক্তি—কিছুই ঠিকঠাক কাজ করে না। আর এসব বিষয় সঠিকভাবে কাজ না করলে সে সহজেই গুজবের শিকারে পরিণত হতে পারে। যেকোনো বিষয়ে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত, স্থির থাকতে হবে এবং সামগ্রিক বিষয়টা বোঝার জন্য নিজেকে সময় দিতে হবে। তাহলে গুজবে অথবা আতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

জনসাধারণের অতি উৎসাহ, ফ্যান্টাসি, যৌন অবদমন ও হতাশা, প্রতিশোধপরায়ণ অনুভূতির প্রতিফলন, যা ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া সুপ্ত ইচ্ছা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন, সমসাময়িক ভয় ও উদ্বেগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের গুজব তৈরি হয় এবং ছড়িয়ে পড়ে।

এ ছাড়া মানুষ যে সমাজে বাস করে, সেই সমাজের সামাজিক অবকাঠামো বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (থানা, আইন আদালত ইত্যাদি) ওপর মানুষের আস্থা না থাকলে, মানুষের সঙ্গে মানুষের মানবিক সম্পর্ক না থাকলে, সেই সমাজের মানুষের যেকোনো গুজবে সহজেই আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

স্ত্রীর সর্দি-জ্বর হয়েছে। ডাক্তারের কাছে গিয়ে বলতেই ডাক্তার না দেখে বলেছে করোনা হয়েছে তোমার। তুমি দূরে থাকবে কারও সংস্পর্শে যাবে না কিন্তু। খুব ছোঁয়াচে রোগ তোমার কারণে অনেকই মারা যাবে যদি নির্দেশ মেনে না চল। স্ত্রী বাড়িতে না গিয়ে জঙ্গলে ঢুকে গলায় দড়ি নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণা, অপরাধবোধ ও আত্মগ্লানিই মানুষটিকে সরে যেতে বাধ্য করেছে। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের শারীরিক আক্রমণের অনেকগুলো ঘটনা যে ঘটেছে, সেসব সংবাদ মহিলাটির জানা। তাই তার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এমন একটি ঘটনা আমার এলাকা থেকে ফোন করে আমেরিকার লসএঞ্জলসে আমার ছোট বোনকে জানিয়েছে। স্বামী-সন্তানদের না হারানোর আশঙ্কা ও তাড়নাতেই হয়তো তেমনটি করেছে, নিজের পরিবারসহ অন্যদের যাতে সংক্রমিত করতে না হয়। সে জন্য দায়িত্ববান মহিলাটি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। আমার বোন বিষয়টি আমার সঙ্গে শেয়ার করেছে।

আমি ঘটনাটির সত্যতা জানার জন্য এলাকার সৃজনশীল ছেলে শাহজাহানকে ফোন করি। শাহজাহান বেশ অবাক হয়ে জানলো এমন একটি ঘটনা অথচ আমি জানলাম না! সে তৎক্ষণাৎ তদন্ত করে জানাল এমন কোন ঘটনা ঘটেনি আমাদের এলাকায়। যারা এই ধরণের গুজব ছড়ায় এরা কলেজের শিক্ষক এবং কলেজ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সঙ্গে জড়িত। এরা নানা ভাবে গুজব ছড়াতে অভ্যস্ত।

দেশে কাঠগড়ায় ওঠানোর মতো মন্দ মানুষের অভাব নেই। তবে অভাব আছে সংবেদনশীলতার। আমি বর্তমানে অবাক হচ্ছি নিজের বেশ কাছের মানুষদের সংবেদনশীলতার অভাব দেখে। মানুষগুলো নিজেরাই নিজেদেরকে দানবরূপে তৈরি করছে।

অনেকে সহজ অনুধাবন, কাণ্ডজ্ঞান এবং বিবেচনাবোধও হারিয়ে ফেলছে। যার কারণে তারা ভাবতেই পারছে না যে তারা দানব হয়ে গেছে। মুক্ত করো ভয় এবং নিজ শক্তি দ্বারা নিজেরে করো জয়। সমাজে যারা গুজব ছড়ায় তাদের বয়কট করুন।

রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে, [email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত