হটস্পট নারায়ণগঞ্জে অসচেতন মানুষকে সচেতন করার লড়াইয়ে প্রশাসন
jugantor
হটস্পট নারায়ণগঞ্জে অসচেতন মানুষকে সচেতন করার লড়াইয়ে প্রশাসন

  রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ  

১৩ মে ২০২০, ২৩:৪৩:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

হটস্পট নারায়ণগঞ্জে অসচেতন মানুষকে সচেতন করার লড়াইয়ে প্রশাসন

করোনার ‘এপি সেন্টার’ নারায়ণগঞ্জে লকডাউন বলতে এখন কিছুই নেই। সামাজিক দূরত্বের বালাই তো দূরের কথা।

বুধবার পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ হাজার ৪০০। সেই রেডজোন নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণ কেন্দ্রেই ভোর রাত থেকে বসছে কয়েক হাজার মানুষের পাইকারী সবজির বাজার আর দিনের আলো ফুটলেই দলে দলে বেরিয়ে আসছেন প্রায় সাড়ে ৪শ কল-কারখানায়।

কয়েক লাখ শ্রমিককে অসচেতন করবে কে? মানুষের ঢল মার্কেটগুলোতেও। এগুলো খোলার সিদ্ধান্তের পরপরই বিপণি বিতানগুলোতে শুরু হয়েছে ঈদ কেনাকাটার আমেজ।

এরই মধ্যে সরকারি লকডাউনের আদেশ বাস্তবায়নে লড়াই করে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ-র‌্যাব, জেলা ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের প্রতিটি সদস্য।

প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নগরবাসীর আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে আমেরিকা বা ইতালির মতো করোনা মহামারী গ্রাস করবে শিল্প ও বন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জকে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে (সিপিএইচ) ৫ জন ও ইমপালস হাসপাতালে আছেন ৩ সদস্য।

বাকিরা সকলেই জেলা পুলিশ লাইনস ও বাড়িতে বিশেষ ব্যবস্থায় আইসোলেশনে রয়েছেন। ৮৭ জনের মধ্যে একজন অফিস স্টাফ ছাড়া বাকিরা পুলিশ সদস্য।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতালে (খানপুর ৩শ শয্যা হাসপাতাল) এ নিয়ে মোট ৪৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন। এদের মধ্যে ৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী সুস্থ হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৩২৯ জন স্বাস্থ্যকর্মী। যার মধ্যে ৩৮ জন ডাক্তার, ১৬৪ জন নার্স এবং ১২৭ জন স্টাফ রয়েছেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনে ৪ জন সহকারী মাজিস্ট্রেটসহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ জন কর্মকর্তা। উপসর্গ ছাড়াই করোনায় মারা গেছেন এক কর্মকর্তা।

এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন জানান, জেলা প্রশাসনের প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারী শুরু থেকেই মাঠে কাজ করছেন। করোনা আক্রান্ত হয়েও তারা মনোবল ভাঙেননি।

সাধারণ মানুষকে সচেতন করা থেকে শুরু করে ত্রাণ দেয়া, বন্টন করা, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাসহ রাষ্ট্রীয় সব কাজই করছি আমরা।

জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, পুলিশ আইন শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে। আক্রান্তের সংখ্যাই বলে দিচ্ছে পুলিশ মাঠে কাজ করার কারণেই আক্রান্তের সংখ্যাটি বেশ বড়।

তারপরও আমরা জনগণের পাশে আছি। কিন্তু জনগণের যতোটুকু সচেতন হওয়া প্রয়োজন ছিল সে পরিমাণ সচেতনতা আমরা দেখছি না।

নারায়ণগঞ্জ জেলা করোনা সমন্বয় কমিটির ফোকাল পার্সন ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি, সিভিল সার্জন ডা.ইমতিয়াজ আহমেদ, করোনা হাসপাতালের সুপার ডা. গৌতমসহ অর্ধশত স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছি।

কিন্তু আমরা ঘরে বসেও দিনরাত কাজ করে চলছি। সুস্থ্য হয়ে আমরা ৩ জনসহ বাকিরাও আবার কাজে যোগ দিয়েছি। কিন্তু আমাদের দ্বায়িত্বপালন ও ত্যাগ তখনই স্বার্থক হবে যখন সাধারণ মানুষ সচেতন হবে।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এনিয়ে পুরো জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৩২ জনে।

হটস্পট নারায়ণগঞ্জে অসচেতন মানুষকে সচেতন করার লড়াইয়ে প্রশাসন

 রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ 
১৩ মে ২০২০, ১১:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
হটস্পট নারায়ণগঞ্জে অসচেতন মানুষকে সচেতন করার লড়াইয়ে প্রশাসন
লকডাউন উপেক্ষা করে এভাবেই মার্কেটগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়

করোনার ‘এপি সেন্টার’ নারায়ণগঞ্জে লকডাউন বলতে এখন কিছুই নেই। সামাজিক দূরত্বের বালাই তো দূরের কথা।

বুধবার পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ হাজার ৪০০। সেই রেডজোন নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণ কেন্দ্রেই ভোর রাত থেকে বসছে কয়েক হাজার মানুষের পাইকারী সবজির বাজার আর দিনের আলো ফুটলেই দলে দলে বেরিয়ে আসছেন প্রায় সাড়ে ৪শ কল-কারখানায়।

কয়েক লাখ শ্রমিককে অসচেতন করবে কে? মানুষের ঢল মার্কেটগুলোতেও। এগুলো খোলার সিদ্ধান্তের পরপরই বিপণি বিতানগুলোতে শুরু হয়েছে ঈদ কেনাকাটার আমেজ। 

এরই মধ্যে সরকারি লকডাউনের আদেশ বাস্তবায়নে লড়াই করে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ-র‌্যাব, জেলা ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের প্রতিটি সদস্য। 

প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নগরবাসীর আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে আমেরিকা বা ইতালির মতো করোনা মহামারী গ্রাস করবে শিল্প ও বন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জকে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে (সিপিএইচ) ৫ জন ও ইমপালস হাসপাতালে আছেন ৩ সদস্য। 

বাকিরা সকলেই জেলা পুলিশ লাইনস ও বাড়িতে বিশেষ ব্যবস্থায় আইসোলেশনে রয়েছেন। ৮৭ জনের মধ্যে একজন অফিস স্টাফ ছাড়া বাকিরা পুলিশ সদস্য। 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতালে (খানপুর ৩শ শয্যা হাসপাতাল) এ নিয়ে মোট ৪৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন। এদের মধ্যে ৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী সুস্থ হয়েছেন। 

নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৩২৯ জন স্বাস্থ্যকর্মী। যার মধ্যে ৩৮ জন ডাক্তার, ১৬৪ জন নার্স এবং ১২৭ জন স্টাফ রয়েছেন। 

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনে ৪ জন সহকারী মাজিস্ট্রেটসহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ জন কর্মকর্তা। উপসর্গ ছাড়াই করোনায় মারা গেছেন এক কর্মকর্তা। 

এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন জানান, জেলা প্রশাসনের প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারী শুরু থেকেই মাঠে কাজ করছেন। করোনা আক্রান্ত হয়েও তারা মনোবল ভাঙেননি।  

সাধারণ মানুষকে সচেতন করা থেকে শুরু করে ত্রাণ দেয়া, বন্টন করা, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাসহ রাষ্ট্রীয় সব কাজই করছি আমরা। 

জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, পুলিশ আইন শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে। আক্রান্তের সংখ্যাই বলে দিচ্ছে পুলিশ মাঠে কাজ করার কারণেই আক্রান্তের সংখ্যাটি বেশ বড়। 

তারপরও আমরা জনগণের পাশে আছি। কিন্তু জনগণের যতোটুকু সচেতন হওয়া প্রয়োজন ছিল সে পরিমাণ সচেতনতা আমরা দেখছি না। 

নারায়ণগঞ্জ জেলা করোনা সমন্বয় কমিটির ফোকাল পার্সন ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি, সিভিল সার্জন ডা.ইমতিয়াজ আহমেদ, করোনা হাসপাতালের সুপার ডা. গৌতমসহ অর্ধশত স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। 

কিন্তু আমরা ঘরে বসেও দিনরাত কাজ করে চলছি। সুস্থ্য হয়ে আমরা ৩ জনসহ বাকিরাও আবার কাজে যোগ দিয়েছি। কিন্তু আমাদের দ্বায়িত্বপালন ও ত্যাগ তখনই স্বার্থক হবে যখন সাধারণ মানুষ সচেতন হবে। 

এদিকে, নারায়ণগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এনিয়ে পুরো জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৩২ জনে। 

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস