পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আতিথেয়তায় আপ্লুত আটকেপড়া কাশ্মীরিরা

  যুগান্তর ডেস্ক ১৪ মে ২০২০, ০৯:২০:০২ | অনলাইন সংস্করণ

প্রতি বছর কলকাতার মতো হাওড়ার বিভিন্ন প্রান্তে শীতবস্ত্র, কম্বল ও কার্পেট বিক্রি করতে আসেন কাশ্মীরিরা। নভেম্বর মাসে আসেন তারা, আবার এপ্রিলের শুরুতে কাশ্মীরে ফিরে যান।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের কবলে পড়ে এবার আর ঈদের আগে বাড়ি ফেরা হচ্ছে না উলুবেড়িয়ায় আটকেপড়া কাশ্মীরি শালওয়ালাদের। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

উলুবেড়িয়ার বাজারপাড়ায় ভাড়ায় নেয়া বিভিন্ন বাড়িতে আছেন তারা। কিন্তু লকডাউনের কারণে ৩০ কাশ্মীরি এখন উলুবেড়িয়ার ভাড়াবাড়িতে বন্দি। হাতে টাকাপয়সা না থাকায় খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

সাধারণত নভেম্বর থেকে বিভিন্ন দোকানে কাশ্মীরিরা যেসব জিনিস বিক্রি করেন, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে তার বকেয়া টাকা আদায় করতে শুরু করেন। কিন্তু লকডাউনে দোকানপাট সব বন্ধ থাকায় টাকা আদায় হয়নি এবার।

আবার যেসব বাড়িতে কাশ্মীরিরা ভাড়া আছেন, সেখানেও গত তিন মাস ধরে ভাড়া মেটাতে পারেননি তারা। এখন বাড়িওয়ালা ও আশপাশের গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা উদ্যোগী হয়ে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিচ্ছেন তাদের হাতে। যেমন রাজখোলা গ্রামের হিন্দু ও মুসলিম যুবকরা একজোট হয়ে চাঁদা তুলে অনাহারে থাকা কাশ্মীরিদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন।

শ্রীনগরের হজরতবাল এলাকার বাসিন্দা মুজফ্ফর আহমেদ শাহ গত ৪০ বছর ধরে এ রাজ্যে শীতবস্ত্র বিক্রি করতে আসছেন। ক্রেতাদের কাছ থেকে তার পাওনা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

লকডাউনের জেরে ওই টাকা না পাওয়ায় কাশ্মীরে থাকা স্ত্রী-ছেলেমেয়েদের টাকা পাঠাতে পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়। এখন ওরা ধারকর্জ করেই সংসার চালাচ্ছে। কিন্তু কত দিন আর ধার নেয়া যাবে?

কথা বলতে বলতে গলা ধরে আসছিল প্রৌঢ়ের। কিছুক্ষণ থেমে বললেন, হাতে টাকাপয়সা না থাকলেও শুভঙ্কর, তন্ময়, শামসুদ্দিন ভাইয়েরা আমাদের পাশে সবসময়ে আছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের আতিথেয়তা ভোলার নয়।

আটকেপড়া আর এক কাশ্মীরি রিয়াজ আহমেদ বাট বলেন, গত কয়েক বছরে কাশ্মীরের পরিবেশ ক্রমেই অশান্ত হয়েছে। খুব কাছ থেকে সেই তাণ্ডবের ছবি দেখেছি। লকডাউনের জন্য আমরা প্রায় নিঃস্ব। এ অবস্থার মধ্যেও উলুবেড়িয়া ও আশপাশের গ্রামের মানুষেরা যেভাবে আমাদের আপন করে নিয়েছেন, তা ভাবা যায় না। এটিই কিন্তু আমাদের আসল ভারতবর্ষ।’

যেসব বাড়িতে তারা ভাড়া থাকেন, তারই একটির মালিক হাসেম আলি। তিনি বলেন, তারা চার পুরুষ ধরে আমার এখানে আসছেন। ছয় মাস থাকেন। তার পরে চলে যান। এই দুঃসময়ে তো তাদের বের করে দিতে পারি না।

পাশের রাজখোলা গ্রামের বাসিন্দা শুভঙ্কর চৌধুরী, তন্ময় গঙ্গোপাধ্যায়রা বলেন, প্রতি বছরই চাচারা কয়েক মাসের জন্য আমাদের এখানে অতিথি হয়ে আসেন। তাদের কাছ থেকে প্রতি বছর সস্তায় শীতের জামাকাপড় কিনি। এই দুঃসময়ে তো চাচাদের পাশে থাকাটাই কর্তব্য।

রমজান মাসের প্রায় পুরোটা এখানে কেটে গেলেও ঈদটা কাশ্মীরেই কাটাতে চান শাল বিক্রেতারা। তাদের আটকেপড়ার কথা শুনে উলুবেড়িয়ার এমপি সাজদা আহমেদ বলেন, উলুবেড়িয়ায় আটকেপড়া কাশ্মীরিদের পাশে অবশ্যই থাকব। কীভাবে সাহায্য করা যায়, দেখছি।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত