বিশ্বব্যাপী সম্ভাব্য মন্দার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি: একটি বিশ্লেষণ

  অধ্যাপক এম কামরুজ্জামান ১৪ মে ২০২০, ২২:৫২:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে ১৯২০ এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৩০ এর দশকের প্রথমদিকে সংঘটিত অর্থনৈতিক মন্দা পৃথিবীতে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দা হিসেবে বিবেচিত, যা ১৯২৯ সালের শেষের দিকে শুরু হয়ে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

এই মন্দা পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্রকে ঋণাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছিল। এর ফলে শিল্প উৎপাদন এবং উৎপাদিত দ্রব্যের দাম মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছিল, দারিদ্রের হারের ঊর্ধ্বগতি, ব্যাপক বেকারত্ব, এবং গৃহহারা মানুষের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।

১৯২৯-৩৩ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প উৎপাদন কমেছিল ৪৭%, জিডিপি কমেছিল ৩০% এবং বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়েছিল ২০% হারে। পরবর্তীতে বিশ্ববাসী দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক মন্দা অবলোকন করেছিল ২০০৭-০৯ সালে।

সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি কমেছিল ৪.৩% এবং বেকারত্বের হার পৌঁছে ছিল ১০% এ। এমন পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যদি ২০০৭-০৯ পূর্বের যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি পর্যালোচনা করি তাহলে দেখতে পাবো, যুক্তরাষ্ট্রে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ২০০১-এ ছিল ১%, ২০০৪ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল ৩.৮০%।

পরবর্তীতে হ্রাসমান গতিতে ২০০৭ এ জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ১.৮৮%। অর্থাৎ ২০০৭-০৯ এর অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির প্রবৃদ্ধি একরকম অস্থিতিশীলই ছিল। জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই অস্থিতিশীলতাই হয়ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সেই সময়ে নাড়া দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিয়েছিল।

২০০৭-০৯ অর্থনৈতিক মন্দার পরে বর্তমান করোনাভাইরাস সংকটকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের(আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সম্প্রতি বলেছেন যে, বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে গত শতকের যেকোনো মন্দার তুলনায় বড় সংকটের মধ্যে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি।

যদিও বিশ্ব অর্থনীতির নিম্নমুখী গতি নিয়ে করোনাভাইরাস সংকটের আগে থেকেই সতর্ক করে আসছিল আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ অন্যান্য দাতা সংস্থা।

এক্ষেত্রে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব অর্থনীতিতে নজিরবিহীন বিপর্যয় তৈরি করতে পারে বলে বিভিন্ন পর্যায় থেকে সতর্ক করা হচ্ছে। আইএম এফ প্রধান এ থেকে পরিত্রাণ পেতে ব্যাপক আকারের উদ্যোগের প্রয়োজন হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

বিশ্বব্যাপী সম্ভাব্য এ অর্থনৈতিক মন্দায় বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে অনেকে আশংকা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ তো কয়েক ধাপ এগিয়ে বলছেন বাংলাদেশের অর্থনীতি এক মহাদুর্যোগে পতিত হবে।

নানাবিধ আশংকার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে করোনাভাইরাস সংকট কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তার একটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরছি আজকের লেখনীতে।

আমরা যদি করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পূর্বের ৯ বছরের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন চলক বিবেচনা করি, তাহলে দেখতে পাবো বাংলদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৫৭ থেকে ৮.১০ তে উন্নীত হয়েছে।

পাশাপশি মোট ভোগ ৭৯.২ থেকে কমে ৭৬.০৭ হয়েছে যার মধ্যে সরকারি ভোগ ৫.১ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬.৩ এবং বেসরকারি ভোগ ৭৪.১ থেকে হ্রাস পেয়ে ৬৯.৭৭ ভাগ হয়েছে।

সামষ্টিক অর্থনীতির তত্ত্ব অনুযায়ী মোট জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারি ভোগ ব্যয় বেসরকারি ভোগ ব্যয় অপেক্ষা অনেক বেশি কার্যকর।

কেননা বেসরকারি পর্যায়ে ব্যক্তি তার আয় ভোগ ব্যয়ে খরচ করতেও পারে আবার নাও করতে পারে। এটি নির্ভর করে ব্যক্তির প্রান্তিক ভোগ প্রবণতা তথা ব্যক্তির সঞ্চয় প্রবণতা কিংবা তার ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর।

ব্যক্তির সঞ্চয় প্রবণতা বেশি হলে ভোগ ব্যয় কম হবে। ফলশ্রুতিতে অর্থের প্রবাহের গতি কম হবে এবং জাতীয় আয়ের উপর ঋণাত্বক প্রভাব পড়বে। এক্ষেত্রে সরকারি ভোগ ব্যয় একটি নিশ্চিত খরচ হিসেবে বিবেচিত হয়; যা অর্থনীতির গতি সঞ্চারে একটি কার্যকর রাজস্ব নীতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর স্ট্যাটিসটিক্যাল ইয়ার বুক অব বাংলাদেশ ২০১৯ এর তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, এই সময়ে অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় ২০.৯ ভাগ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৩.৯৩ ভাগ হয়েছে, মোট বিনিয়োগ ২৬.২ ভাগ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩১.৫৬ ভাগ হয়েছে। যার মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ ৪.৭ থেকে বেড়ে ৮.১৭ হয়েছে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ২১.৬ ভাগ থেকে বেড়ে ২৩.৪ ভাগ হয়েছে।

অর্থের সরবরাহ ৪৫.৫ ভাগ থেকে বেড়ে ৫২.৯ ভাগ হয়ে পুনরায় ৪৫.৮ এ স্থির হয়েছে। অর্থাৎ বিগত ১০ বছরের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চলকসমূহ বিশ্লেষণ করলে প্রতীয়মান হয় যে বাংলাদেশের মোট জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী সম্ভাব্য সকল চলকসমূহ ধনাত্বক আচরণ করছে বিধায় নিশ্চিত করে বলা যায় বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্ত ভিত্তির উপর ক্রিয়াশীল রয়েছে।

ফলশ্রুতিতে এটি আশা করা যায় করোনাভাইরাস সংকটের কারণে অর্থনীতির উপর যে ধরনের ঋণাত্মক প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে সেটা বাস্তবে খুব বেশি রূপায়িত হবে না।

বিশ্ব ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, আমরা যদি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বিগত ৯ বছরের অর্থাৎ ২০০৯-১০ অর্থবছর হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত অর্থনৈতিক চলকসমূহের মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি পযালোচনা করি, তাহলে দেখতে পাবো বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৫.৫৭ থেকে বেড়ে ৭.৮৬ শতাংশ হয়েছে , ভারতের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.৫০ থেকে হ্রাস পেয়ে ৬.৮১ হয়েছে, শ্রীলংকার প্রবৃদ্ধি ৮.০২ থেকে কমে ৩.২১ হয়েছে, মালদ্বীপের প্রবৃদ্ধি ৭.২৭ থেকে হ্রাস-বৃদ্ধি হয়ে কমে ৬.৮৯ শতাংশ হয়েছে।

অর্থাৎ মালদ্বীপের অর্থনীতির গতিধারা ছিল অস্থিতিশীল, নেপালের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৪.৮২ থেকে কমে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ০.৫৯ ভাগ হয়েছে। পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬.৬৬ ভাগ হয়েছে, যেটি একটি অস্থিতিশীল অর্থনীতির নির্দেশক।

ভুটানের প্রবৃদ্ধি যেখানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ছিল ১১.৯৫ সেখানে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা হ্রাস পেয়ে হয়েছে ৩.০৩। অন্যদিকে পাকিস্তানের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৫.৮৩, যা বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলংকার চাইতে অনেক কম।

আমরা যদি বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জিডিপির প্রবৃদ্ধির গতিধারা বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাবো বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি দক্ষিণ এশিয়ায় সবচাইতে বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ বৃদ্ধির হার ছিল ২২.২ শতাংশ।

অন্যদিকে ভারতের প্রবৃদ্ধির হারের বৃদ্ধি ছিল ১০.১ শতাংশ, শ্রীলংকার জিডিপির প্রবৃদ্ধির গতিধারা ছিল ঋণাত্মক। শ্রীলংকার জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিগত ৯ বছরে হ্রাস পেয়েছে ৬৯.৮ শতাংশ হারে।

মালদ্বীপ এবং ভুটানের জিডিপির প্রবৃদ্ধিও বিগত বছরগুলোতে কখনও হ্রাস পেয়েছে আবার কখনও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলশ্রুতিতে বিগত ৯ বছরে মালদ্বীপের জিডিপির প্রবৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে হ্রাস পেয়েছে ৬ শতাংশ হারে এবং ভুটানের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে ৫৮.৫ শতাংশ হারে।

উপরোক্ত আলোচনায় এটি স্পষ্টতই প্রতীয়মান যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি স্থিতিশীল এবং অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। ফলশ্রুতিতে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির উপর আঘাত বা যে কোন বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্ত দেয়াল হিসেবে বিবেচিত হবে যে দেয়াল ভেদ করে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করা খুবই দুরূহ একটি কাজ হবে।

বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী আমরা যদি বিশ্বব্যাপী আয় ভিত্তিক বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ২০০৯-১০ হতে ২০১৭-১৮ মেয়াদের জিডিপির প্রবৃদ্ধি বিবেচনা করি তাহলে দেখতে পাবো, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় সম্মিলিতভাবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৭০ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ৬.৬ শতাংশ হয়েছে।

নিম্ন উন্নত দেশ সমূহের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬.২৫ থেকে হ্রাস পেয়ে ৪.২৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, উচ্চ আয়ের দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ২.৯৬ থেকে কমে ২.২৪ শতাংশ হয়েছে, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৫২ থেকে অবনমিত হয়ে ৪.২৮ শতাংশ হয়েছে।

মধ্যম আয়ের দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৩৭ থেকে ক্রমশ হ্রাস পেয়ে ৪.৫৭ হয়েছে, নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশসমূহের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৩৬ থেকে কমে ৪.৫৭ শতাংশ হয়েছে।

নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশসমূহের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬.৮৪ থেকে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে ৫.৪৯ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ আয়ভিত্তিক বিভিন্ন রাষ্ট্রসমূহের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিবেচনাতেও দেখা যাচ্ছে আয় ভিত্তিক বিভিন্ন রাষ্ট্রসমূহের সম্মিলিত জিডিপি ক্রমশ হ্রাসমান হলেও বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে অর্থনীতির একটি শক্ত বুনিয়াদ রচনা করেছে।

বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, মূলধন কাঠামোর বিষয়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে বাংলাদেশের মূলধন গঠনের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২০০৯-১০ অর্থবছরে যেখানে মূলধন এর পরিমাণ ছিল জিডিপির ২৬.২৫ ভাগ, সেখানে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩১.২৩ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মূলধন গঠনের ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে ভারতের মূলধন গঠনের পরিমাণ ২০০৯-১০ অর্থবছরের ৪০.২২ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ৩১.১৩ শতাংশ হয়েছে, শ্রীলংকায় মূলধন গঠনের পরিমাণ ৩০.৩৫ শতাংশ থেকে ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়ে ২৮.৫৮ শতাংশ হয়েছে, ভুটানে এ হার ৬৩.২০ শতাংশ থেকে কমে ৪৭.৪৬ শতাংশ, পাকিস্তানে এর পরিমাণ ১৫.৮০ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৬.৭৪ শতাংশ হয়েছে।

অঞ্চলভিত্তিক মূলধন গঠনের হার পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশসমূহের মূলধন গঠন জিডিপির শতকরা ৩০.৭৮ থেকে কমে শতকরা ২৮.১৫ ভাগ, মধ্যম আয়ের দেশের মূলধন গঠন ৩২.৭৬ শতাংশ থেকে কমে ৩০.৩৭ শতাংশ, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে এ হার ৩৩.৩১ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ৩০.৯৯ শতাংশ, দক্ষিণ এশিয়ায় এ হার ৩৬.৬৩ থেকে কমে ৩০.০৩ শতাংশ হয়েছে।

মূলধন গঠনের ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হয়েছে উচ্চ আয়ের দেশসমূহের ক্ষেত্রে, এই দেশ সমূহে মূলধন গঠন ২০.৮৪ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২২.০৪ শতাংশ হয়েছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যতিত দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ, উচ্চ আয়ের দেশসমূহ ছাড়া আয়ভিত্তিক অন্যান্য সব অঞ্চলের মূলধন গঠনের হারে নিম্নমূখী প্রবণতা বিদ্যমান।

বাংলাদেশে মূলধন গঠনের এ উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কেননা মূলধনী দ্রব্যের অধিকতর উৎপাদন দেশের অবকাঠামো শক্তিশালী করতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের আর্থিক নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মজবুত অবস্থানের ফলে সেইসাথে অনুকূল অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় এবং বিনিয়োগের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় মূলধন গঠন প্রক্রিয়াকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে।

বাংলাদেশে সড়ক যোগাযোগের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি, বৃহদাকার সেতু নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রে ব্যাপক বিনিয়োগ বিশেষ করে পদ্মাসেতু, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, মেট্রোরেল নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, কর্ণফুলি টানেল নির্মাণ, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্বরোপ, নতুন নতুন সমুদ্র বন্দর নির্মাণ, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ ইত্যাদি মূলধন গঠন প্রক্রিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

এই সূচনা ভবিষ্যত উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। মুলধন গঠন শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নেই অবদান রাখে না, ব্যপক হারে উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, মানবসম্পদের গুণগত মান বৃদ্ধিকরণ, আধুনিক লাগসই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, কৃষি এবং শিল্প উন্নয়নে ব্যপকহারে অবদান রাখতে মূলধন গঠন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
উপরন্তু অধিকতর মূলধন গঠন মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখার মাধ্যমে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা কার্যকর চাহিদা সৃষ্টি করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে, মানুষের আয় বেড়ে যাওয়ার ফলে দারিদ্র দূরীকরণে অবদান রাখে, সেই সাথে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে।

এছাড়াও মূলধন গঠনের এ প্রক্রিয়ায় বৈদেশিক নির্ভরশীলতা হ্রাস করে আত্মসম্মানবোধ বৃদ্ধিতেও অবদান রাখে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি যেহেতু কম উন্নত দেশ থেকে উত্তরণ করে ইতিমধ্যে উন্নয়নশীল দেশে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা মধ্যম আয়ের দেশ, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং উন্নত অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হবে, সেহেতু অর্থনীতির প্রধান তিনটি খাতের মধ্যে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান প্রত্যাশিতভাবেই ক্রমহ্রাসমান হচ্ছে।

শিল্পের অবদান ক্রমবর্ধমান হচ্ছে এবং সেবা খাতের অবদানও ক্রমহ্রাসমান হচ্ছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান যেখানে ১৮.৩৮ ছিল, সেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা হ্রাস পেয়ে ১৩.৬১ হয়েছে, শিল্পের অবদান যেখানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২৬.৭৮ ভাগ ছিল সেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫.১৪ ভাগ হয়েছে।

একটি দেশের জিডিপির সামগ্রিক উল্লম্ফনে শিল্পখাত সবসময়েই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিশেষ করে কৃষিখাত নির্ভর শিল্পোন্নয়ন অনেক বেশি কার্যকর হয়। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর শিল্পোন্নয়নে আরো অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে। জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান ২০০৯-১০ অর্থবছরের ৫৪.৮৪ ভাগের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়ে ৫১.২৫ ভাগ হয়েছে।

এখানে যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হলো ধারাবাহিকতা। জিডিপিতে প্রতিটি খাতের অবদান বিগত বছরের তুলনায় পরবর্তী বছরে প্রত্যাশিত পর্যায়ে হয় ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে অথবা বৃদ্ধি পেয়েছে।

যা একটি দেশের স্থিতিশীল অর্থনীতির একটি অন্যতম প্রধান নির্ণায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়। সে বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর অবস্থান করছে।

অর্থনৈতিক ভিত্তি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিচারে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে অর্থ বাণিজ্যের সাময়িকী ইকোনমিস্ট, যেখানে করোনাভাইরাস সংকটে সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে থাকা দশটি দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নাম।

বিশ্বের ৬৬টি দেশের এই তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে নবম স্থানে, যা চীন ও ভারতের চেয়েও ভালো অবস্থান নির্দেশ করে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কেবল বাংলাদেশের নামই তুলনামূলক নিরাপদে থাকা দেশের তালিকার শীর্ষ দশে রয়েছে।

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনের আগে এপ্রিল ২০২০ মাসের প্রথম সপ্তাহে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) জানিয়েছিল, করোনায় বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ হবে। তবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হলে অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেছে সংস্থাটি।

অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় সরকারের ঘোষিত প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে বলেও সংস্থাটি অভিমত ব্যক্ত করেছে। ৩ এপ্রিল এডিবির আউটলুক ২০২০-এর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮.১০ শতাংশ থেকে কিছুটা কমে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে।

তবে প্রবৃদ্ধি কমলেও এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশে। এছাড়া আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আবার ৮ শতাংশে উন্নীত হবে বলে এডিবি প্রত্যাশা করছে। এদিকে এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধিও কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে এডিবি।

মহামারীর কারণে যেখানে গত বছর গড়ে ৫.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল সেখানে ২০২০ সালে এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ২ শতাংশ। বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনীতি এশীয় দেশগুলোর দুর্বল অর্থনীতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো বেগবান করার একটি সুযোগ অপেক্ষা করছে।

শুধু এশীয় দেশগুলোই নয় বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলোও এই সময়ে নাজুক সময় পার করছে যেটি কয়েক বছর ধরে চলতে পারে বলে আইএমএফসহ বিভিন্ন সংস্থা পূর্বাভাস দিচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও অস্বাভাবিক হারে হ্রাস পেয়েছে। ফলে আমদানি ব্যয় হ্রাস করে উৎপাদনশীলখাতে বিনিয়োগ করে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরো বেগবান করার একটি সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সামগ্রিক বিবেচনায় করোনাভাইরাস সংকটকালীন সময়ে বাংলাদেশে বিদ্যমান শক্তিশালী বুনিয়াদের অর্থনীতির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো একদফা গতিশীল করা লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-২০৪১), ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০২১-২০২৫) এবং বাৎসরিক বাজেট প্রণয়ন রীতিনীতি পুনর্মূল্যায়ন করা অতীব জরুরি।

সেই সাথে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসমূহকে অর্থনৈতিক কূটনীতি আরো সফলতার সাথে পরিচালনার জন্য এ টাস্কফোর্স গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ কিংবা বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিশেষজ্ঞবৃন্দের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল তৈরি করে অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরো অর্থবহ করা যেতে পারে।

উপরন্তু করোনাভাইরাসের এ যুগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্র বিশেষ করে রোবোটিকস, ম্যাশিন লার্নিং, তথ্য-উপাত্ত ব্যবস্থাপনা, ফ্রিল্যান্সিং ওয়েব ব্যবস্থাপনা, হাইটেক-পার্ক সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়াদিকে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করে একটি বিশেষ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করা হলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণে রপ্তানি আয়ের একটি বিশেষ দ্বার উন্মোচিত হবে, অন্যদিকে গুণগতমানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি হবে, যা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সমর্থ হবে।

যেহেতু চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সফলতার সাথে সম্পৃক্ত, সেজন্য শুধু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভর না করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় পরামর্শক পরিষদ গঠন করে রপ্তানি উৎসাহপ্রদ কার্যাবলী গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের যাবতীয় প্রস্তুতি এখনই গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এছাড়াও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণের উপর যথাযথ গুরুত্বরোপ করা হলে রপ্তানি আয়ের উপর একটি ধনাত্মক প্রভাব পরবে। ফলশ্রুতিতে শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের উপর রপ্তানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং সেই সাথে লেনদেনের ভারসাম্যে উন্নতি ঘটবে যা অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ামক হবে।

উপরোক্ত আলোচনায় এটি স্পষ্ট যে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরকারি ও বেসরকারি ভোগ ও বিনিয়োগ, অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়, অর্থের সরবরাহ, মূলধন গঠন সব চলকেই একটি ধনাত্মক আচরণ বিরাজমান রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ আয়ের দেশসমূহ ব্যতিত দক্ষিণ এশিয়ার সকল রাষ্ট্র, আয় ভিত্তিক বিভিন্ন অঞ্চলের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চলকসমূহের তুলনায় বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক চলকসমূহ অধিকতর ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে এবং চলকসমূহের এই ধনাত্মক আচরণ জিডিপির প্রবৃদ্ধিতেও কার্যকর অবদান রেখেছে।

যার ফলে ধারাবাহিকভাবে জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে একটি ঊর্ধ্বমুখী গতিধারা পরিলক্ষিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী বুনিয়াদের উপর দাঁড় করিয়েছে।

সুতরাং করোনাভাইরাস সংকটে অর্থনীতিতে মন্দার যে আশংকা করা হচ্ছে, সেই আশংকা বাস্তবে রূপ লাভ করার সম্ভাবনা খুবই কম। বরঞ্চ সংকটকে সুযোগে রূপান্তর করার যে সুযোগ বাংলাদেশের জন্য সৃষ্টি হয়েছে, বাংলাদেশ সেখানেই অতীতের ধারাবাহিকতায় পারঙ্গমতার পরিচয় দিবে।

পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্পের বাইরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুত্তি খাত এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা হলে কর্মসংস্থান, উৎপাদন, রপ্তানি আয়, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে আরেকদফা গতিশীলতা সৃষ্টি হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে।

লেখক: প্রফেসর এম কামরুজ্জামান, কৃষি অর্থনীতি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর এবং মহাসচিব, বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি
ইমেইল: [email protected]

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত