কুতুপালং বৃহত্তর রোহিঙ্গা ক্যাম্প লকডাউন

  শফিক আজাদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ১৭ মে ২০২০, ০৩:৩৬:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ছে। ফলে ঝুঁকির মুখে পড়েছেন বৃহত্তর এই ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গারা। গত তিনদিনে এই ক্যাম্পের ৪ জন রোহিঙ্গার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে।

তাই আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ১ হাজার ২৭৫ পরিবারকে লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। ক্যাম্পগুলোতে গাদাগাদি করে থাকা লাখো রোহিঙ্গার মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রথম একজন কোভিড-১৯ রোগী ধরা পড়ে।

এ নিয়ে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার করোনা পজিটিভ হওয়া ব্যক্তি ও তার পরিবারের ছয় সদস্যকে মেডিসিন স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি ওই ক্যাম্পের এফ ব্লকের বাসিন্দা। সংক্রমণ রোধে ওই ব্লকের এক হাজার ২৭৫টি ঘর রেড মার্ক করে লাল পতাকা দিয়ে লকডাউন করা হয়েছে। এসব ঘরে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ রয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে মসজিদসহ আরও যেসব জায়গায় আক্রান্ত ব্যক্তি চলাচল করেছেন সেগুলো লকডাউন করা হবে।’

সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বৃহস্পতিবার দুই জন ও শুক্রবার একজন এবং শনিবারে আরো একজন আক্রান্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যে আক্রান্তসহ তাদের পরিবারকে আইনসোলেশনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পে আরও যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর আগে আড়াইশ’র বেশি রোহিঙ্গার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে।’

এদিকে শরণার্থীদের ক্যাম্পগুলোতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই গত ১১ মার্চ থেকে রোহিঙ্গা শিবিরে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। এর মধ্যেই করোনা সংক্রমণ ঘটলো।

কুতুপালং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মাঝে করোনার ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার পর থেকে তাদের পাশাপাশি ক্যাম্পের অভ্যন্তরে বসবাসরত স্থানীয় লোকজনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। কারণ রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে কোনও প্রকার স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব কিছু মানছে না।

পরিকল্পিত উখিয়া চাই’র আহ্বাবায়ক সাংবাদিক নুর মুহাম্মদ সিকদার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা সংক্রমণ মানে এটি আমাদের জন্য ভয়ের বিষয়। কারণ, ক্যাম্পে অসংখ্য মানুষ কাজ করছেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি অনেক সংস্থায় মানুষ চাকরি করেন। এ সুবাদে ক্যাম্পে আসা-যাওয়া করেন তারা। ফলে দ্রুতই স্থানীয়দের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘করোনা রোধে ক্যাম্পে সামাজিক দূরত্ব, লকডাউন নিশ্চিতে পুলিশ সেখানে আরও টহল বৃদ্ধি করবে। এরই মধ্যে করোনা আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের সংস্পর্শে আসা পরিবার এবং অন্য ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতসহ জায়গাগুলো লকডাউন করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আশ্রয় নিয়েছিল চার লাখ। সব মিলিয়ে বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি শিবিরে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখের বেশি।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত