প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণের আগেই ইউপি চেয়ারম্যানের অনিয়ম, তদন্ত কমিটি

  বগুড়া ব্যুরো ১৭ মে ২০২০, ১৫:০৮:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

বগুড়ার শিবগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণের আগেই তাতে ভাগ বসিয়েছেন ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম রূপম। তিনি বিকাশ ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খুলে দেয়ার নামে অসহায় মানুষের কাছে ৫০০ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তখন চেয়ারম্যান কয়েকজনকে টাকাগুলো ফেরত দিতে বাধ্য হন। পুলিশ বিকাশ এজেন্টকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির রোববার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান রূপম ফোন না ধরায় অনেক চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোবাইল ব্যাংকিং পরিসেবার মাধ্যমে করোনার কারণ কর্মহীন হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে নগদ এককালীন আড়াই হাজার টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

জনপ্রতিনিধিরা এসব দরিদ্রের তালিকা তৈরি করেন। বগুড়া জেলার অন্যান্য স্থানের মতো শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান এসএম রূপম তালিকা তৈরি করেন।

যেসব দরিদ্র মানুষের ব্যাংক হিসাব নেই, তাদের হিসাব খুলে দিতে দাড়িদহ বন্দরে রাহি টেলিকমের মালিক রায়হানকে দায়িত্ব দেন। তিনি প্রতি দুস্থকে ব্যাংক হিসাব খোলা ও সিমের দাম হিসেবে ২২০ টাকা ও ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স ২৮০ টাকা করে মোট ৫০০ টাকা করে আদায় করতে বলেন। ধারদেনা করে ১৬৫ জন দুস্থ ওই দোকান থেকে ৫০০ টাকা ব্যাংক হিসাব খোলেন।

ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের বালুপাড়া গ্রামের মিনা, চাঁদনগর গ্রামের লাইলী বেগম, বুম্বপাড়ার মঞ্জুরী, বেলী, নিয়ামতপুর গ্রামের আঞ্জুয়ারা জানান, চেয়ারম্যান রূপম তাদের ওই দোকানে ৫০০ টাকা করে জমা দিয়ে ব্যাংক হিসাব খুলতে বলেছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আড়াই হাজার টাকা উপহার পেতে ধারদেনা করে ৫০০ টাকা দিয়ে হিসাব খুলেছেন।

এদিকে চেয়ারম্যানের এ টাকা আদায়ের বিষয়টি জানাজানি হলে সচেতন মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, শনিবার দাড়িদহ বন্দরের বিকাশ এজেন্ট রাহি টেলিকমের মালিক রায়হানকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ সত্যতা পাওয়া যায়। পরে চেয়ারম্যান ১৬৫ জনের মধ্যে ১১২ জনকে টাকাগুলো ফেরত দিয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, বিষয়টি জানার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মুজাহিদকে প্রধান এবং মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক চৌধুরী ও পিআইও জিন্দার আলীকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ময়দানহাট্টা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে। চেয়ারম্যান ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত এপ্রিলে ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে শিবগঞ্জের ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম রূপমের ভাই মশিউর রহমানের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়। দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম তার তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

ইউনিয়নের সদস্য শাহনাজ বেগম চাল বিক্রিতে অনিয়ম ও পাচারের ঘটনা ফাঁস করায় তাকে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন মারধর করেন। পরে রূপম চেয়ারম্যান পরিষদে ওই নারী ইউপি সদস্যের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত