মাশরাফির সুখ-দুঃখের সঙ্গী সেই ব্রেসলেট ৪২ লাখ টাকায় বিক্রি
jugantor
মাশরাফির সুখ-দুঃখের সঙ্গী সেই ব্রেসলেট ৪২ লাখ টাকায় বিক্রি

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৮ মে ২০২০, ০২:০১:২০  |  অনলাইন সংস্করণ

মাশরাফির সুখ-দুঃখের সঙ্গী সেই ব্রেসলেট ৪২ টাকায় বিক্রি
ছবি: সংগৃহীত

মাশরাফি বিন মুর্তজার আঠারো বছরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী সেই ব্রেসলেটটি নিলামে ৪২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ‘অকশন ফর অ্যাকশন’ পেজে নিলাম শেষে সোমবার বিজয়ীর নাম ঘোষণা দেয়া হয়। 

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বিএলএফসিএ ব্রেসলেটটি কিনে নিয়েছে। স্টিলের সামান্য ব্রেসলেটটি মাশরাফির সঙ্গী হওয়ায়, সেটিই হয়ে উঠেছে অসাধারণ।

নিলামে সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ৪০ লাখ টাকা। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাড়িয়ে দিয়েছে আরও ৫ ভাগ।

এতে ৪২ লাখ টাকা মূল্য ওঠে। মাশরাফির ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই টাকা দিয়ে বৈশ্বিক মহামারীর এই দুঃসময়ে অসহায়দের সহায়তা করা হবে।

নিলামে বিক্রি হলেও ব্রেসলেটটি মাশরাফির হাতেই থাকছে। বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান মমিন উল ইসলাম বলেন, এটি কিনে নিয়ে তারা আবার মাশরাফিকেই উপহার দিতে চান।

দেড় যুগ আগে কাছের এক বন্ধুর মামাকে দিয়ে ব্রেসলেটটি মাশরাফি বানিয়ে নিয়েছিলেন। এরপর এই দীর্ঘ সময়ে খুবই কম সময়ের জন্য সেটি হাত থেকে খুলেছেন তিনি। 

নিলামে তোলার সময় গণমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, এই ব্রেসলেট তার জীবনের কতটা জুড়ে আছে।

বললেন, গত ১৮ বছরে খুব কম সময়ই এটি হাত থেকে খুলেছি। অপারেশনের সময়, এমআরআই করানোর সময় খুলতে হয়েছে।

‘আর কয়েকটি ম্যাচ বা কিছু সময়ের জন্য খুলেছি শুধু। তবে যখনই খুলেছি, কখনোই স্বস্তি বোধ করিনি। মনে হতো, কী যেন নেই, খালি খালি লাগত। আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, এটি আমার সৌভাগ্যের প্রতীক।’

এই ক্রিকেট কিংবদন্তি বলেন, আমার ক্যারিয়ারের সব উত্থান-পতনের স্বাক্ষী এই ব্রেসলেট। যত লড়াই করেছি, মাঠের ভেতরে-বাইরে যত কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে, সব কিছুর স্বাক্ষী এটি।

‘আমার ১৮ বছরের সুখ-দুঃখের সাথী। আমার অনেক আবেগ-ভালোবাসা জড়িয়ে আছে এটিতে, এই ব্রেসলেটকে আসলে ব্যাখ্যা করা আমার জন্য খুব কঠিন।’

করোনা সংকটের কথা ভেবে দীর্ঘ সময়ের সেই সঙ্গীকে বিসর্জন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাশরাফি। বললেন, আমি আমার সাধ্যমতো করার চেষ্টা করেছি। এখনও করছি। কিন্তু সেটিরও তো শেষ আছে, আমার তো অঢেল টাকা নেই। যতটুকু বুঝতে পারছি, এই সংকট অনেক দিন থাকবে। 

তিনি আরও জানান, আমার তো মনে হয়, আমাদের জীবদ্দশার সবচেয়ে বড় ক্রাইসিস চলছে এখন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মনে হয় গোটা বিশ্ব এত বড় সঙ্কটে পড়েনি। 

নিলামে মাশরাফির এ ব্রেসলেটের ভিত্তিমূল্য ছিল ৫ লাখ টাকা। ক্যারিয়ারের ‍শুরুতে তিনি লাল-সবুজ রঙে 'বাংলাদেশ' লেখা রিস্ট ব্যান্ড পরে মাঠে নামতেন।

পরে ব্যান্ড বদলে ব্রেসলেট পরা শুরু করেন এ পেসার।

মাশরাফির সুখ-দুঃখের সঙ্গী সেই ব্রেসলেট ৪২ লাখ টাকায় বিক্রি

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৮ মে ২০২০, ০২:০১ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মাশরাফির সুখ-দুঃখের সঙ্গী সেই ব্রেসলেট ৪২ টাকায় বিক্রি
ছবি: সংগৃহীত

মাশরাফি বিন মুর্তজার আঠারো বছরের সুখ-দুঃখের সঙ্গী সেই ব্রেসলেটটি নিলামে ৪২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ‘অকশন ফর অ্যাকশন’ পেজে নিলাম শেষে সোমবার বিজয়ীর নাম ঘোষণা দেয়া হয়।

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বিএলএফসিএ ব্রেসলেটটি কিনে নিয়েছে। স্টিলের সামান্য ব্রেসলেটটি মাশরাফির সঙ্গী হওয়ায়, সেটিই হয়ে উঠেছে অসাধারণ।

নিলামে সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ৪০ লাখ টাকা। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাড়িয়ে দিয়েছে আরও ৫ ভাগ।

এতে ৪২ লাখ টাকা মূল্য ওঠে। মাশরাফির ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এই টাকা দিয়ে বৈশ্বিক মহামারীর এই দুঃসময়ে অসহায়দের সহায়তা করা হবে।

নিলামে বিক্রি হলেও ব্রেসলেটটি মাশরাফির হাতেই থাকছে। বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান মমিন উল ইসলাম বলেন, এটি কিনে নিয়ে তারা আবার মাশরাফিকেই উপহার দিতে চান।

দেড় যুগ আগে কাছের এক বন্ধুর মামাকে দিয়ে ব্রেসলেটটি মাশরাফি বানিয়ে নিয়েছিলেন। এরপর এই দীর্ঘ সময়ে খুবই কম সময়ের জন্য সেটি হাত থেকে খুলেছেন তিনি।

নিলামে তোলার সময় গণমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, এই ব্রেসলেট তার জীবনের কতটা জুড়ে আছে।

বললেন, গত ১৮ বছরে খুব কম সময়ই এটি হাত থেকে খুলেছি। অপারেশনের সময়, এমআরআই করানোর সময় খুলতে হয়েছে।

‘আর কয়েকটি ম্যাচ বা কিছু সময়ের জন্য খুলেছি শুধু। তবে যখনই খুলেছি, কখনোই স্বস্তি বোধ করিনি। মনে হতো, কী যেন নেই, খালি খালি লাগত। আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, এটি আমার সৌভাগ্যের প্রতীক।’

এই ক্রিকেট কিংবদন্তি বলেন, আমার ক্যারিয়ারের সব উত্থান-পতনের স্বাক্ষী এই ব্রেসলেট। যত লড়াই করেছি, মাঠের ভেতরে-বাইরে যত কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে, সব কিছুর স্বাক্ষী এটি।

‘আমার ১৮ বছরের সুখ-দুঃখের সাথী। আমার অনেক আবেগ-ভালোবাসা জড়িয়ে আছে এটিতে, এই ব্রেসলেটকে আসলে ব্যাখ্যা করা আমার জন্য খুব কঠিন।’

করোনা সংকটের কথা ভেবে দীর্ঘ সময়ের সেই সঙ্গীকে বিসর্জন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাশরাফি। বললেন, আমি আমার সাধ্যমতো করার চেষ্টা করেছি। এখনও করছি। কিন্তু সেটিরও তো শেষ আছে, আমার তো অঢেল টাকা নেই। যতটুকু বুঝতে পারছি, এই সংকট অনেক দিন থাকবে।

তিনি আরও জানান, আমার তো মনে হয়, আমাদের জীবদ্দশার সবচেয়ে বড় ক্রাইসিস চলছে এখন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মনে হয় গোটা বিশ্ব এত বড় সঙ্কটে পড়েনি।

নিলামে মাশরাফির এ ব্রেসলেটের ভিত্তিমূল্য ছিল ৫ লাখ টাকা। ক্যারিয়ারের ‍শুরুতে তিনি লাল-সবুজ রঙে 'বাংলাদেশ' লেখা রিস্ট ব্যান্ড পরে মাঠে নামতেন।

পরে ব্যান্ড বদলে ব্রেসলেট পরা শুরু করেন এ পেসার।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস