৫ সপ্তাহ সংজ্ঞাহীন ছিলেন করোনাজয়ী হোসেন

এক মাসের কোনো স্মৃতি তার মাথায় নেই!

  যুগান্তর ডেস্ক ১৯ মে ২০২০, ১৫:৪১:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

ইংল্যান্ডে করোনাভাইরাস রোধে লকডাউন শুরুর আগে গত মার্চ মাসে ব্র্যাডফোর্ড শহরে মারা গিয়েছিলেন ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তান থেকে ব্রিটেনে আসা নূর হোসেন।

তার জানাজায় সমাগম হয়েছিল বহুলোকের। দুঃখজনকভাবে সেই জানাজায় আসা অনেকের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটে। নূর হোসেনের পরিবারের তিনজন মারা যান এবং গুরুতর অসুস্থ হলেও শেষ পর্যন্ত বেঁচে যান নূর হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন। খবর বিবিসির।

স্থানীয় হাসপাতালের ডাক্তার জনরাইট গণমাধ্যমকে বলেন, পাঁচ সপ্তাহ ধরে সংজ্ঞাহীন ছিলেন মোহাম্মদ হোসেন।

মোহাম্মদ হোসেনের বয়স ৫১, তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। পাঁচ সপ্তাহ সংজ্ঞাহীন থাকার পর যখন তার জ্ঞান ফিরল, তখন তার মানসিক অবস্থা একেবারেই তালগোল পাকানো ছিল।

তার চারপাশে মাস্ক, জীবাণু-প্রতিরোধী ঢাকনা, আর গাউনপরা লোকজন দেখে নিশ্চয়ই তার মনে হচ্ছিল তিনি এক বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জগতের মধ্যে এসে পড়েছেন।

তিনি মনেই করতে পারছিলেন না– কীভাবে তিনি এখানে এলেন। পুরো এপ্রিল মাসটার কোনো স্মৃতি তার মাথায়ই ছিল না।

ব্র্যাডফোর্ডে কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর আমাদের হাসপাতালের আইসিইউতে নিতে হয় ৪৯ জনকে। তার মধ্যে অধিকাংশকেই ভেন্টিলেশন দিয়ে রাখতে হয়।

এর মধ্যে সাতজন এখন পর্যন্ত ভেন্টিলেশন থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। মোহাম্মদ হোসেন তাদের মধ্যে একজন।

হোসেন বলেন, তাকে যখন অচেতন করে রাখা হয়েছিল, তখন তিনি স্বপ্ন দেখছিলেন যে তার পরিবারের ওপর একটা সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। সংজ্ঞা ফিরে আসার পর তিনি অস্থির হয়ে উঠেছিলেন।

আমার মনে একটা সন্দেহ বাতিক কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল- এই লোকগুলো আমাকে একটা ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে। কী হচ্ছে? এসবের মানে কী?

সংকটজনক অবস্থা থেকে চেতনা ফিরে আসার পর এ ধরনের বিভ্রান্ত মানসিক অবস্থা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়– বলছিলেন ব্র্যাডফোর্ড হাসপাতালের আইসিইউ কনসালট্যান্ট ডা. ডেবি হর্নার।

তাদের চারপাশে কী হচ্ছে তা নিয়ে রোগীর মধ্যে নানা রকম সন্দেহ-উদ্বেগ দেখা দেয়। খুবই স্বাভাবিক। যদি রোগী জেগে উঠে জানতে পারে যে এর মধ্যে এক মাস পার হয়ে গেছে এবং তার চারপাশে অদ্ভুত পোশাক পরা কিছু লোক ঘোরাঘুরি করছেন– তখন এটি হতেই পারে।

অনেক সময় রোগীদের এ ব্যাপারে ভেন্টিলেটর দেয়ার আগেই জানিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু মোহাম্মদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব ছিল না। তার অবস্থা অত্যন্ত দ্রুত খারাপ হয়ে পড়েছিল।

তিনি অসুস্থ হন মার্চ মাসে, তার বাবা নূর হোসেনের জানাজার পরই। মৃত্যুর সময় নূর হোসেনের বয়স ছিল ৯০-এর কোঠায়। তিনি ব্রিটেনে এসেছিলেন ১৯৬০-এর দশকে, ব্র্যাডফোর্ডে কারখানায় কাজ করতেন তিনি। তার পরিবারকে ব্রিটেনেই বড় করেছেন তিনি।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত