করোনা উপসর্গ: হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণ পরই ২ বৃদ্ধের মৃত্যু

  ফেনী প্রতিনিধি ৩১ মে ২০২০, ১৫:০৩:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

করোনা উপসর্গ নিয়ে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তির কিছুক্ষণ পরই দুই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার রাতে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তির পর তাদের মৃত্যু হয়।

তারা দুজনই সদর উপজেলার ধলিয়া ও ফাজিলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। এদের একজনের বয়স (৮০), অন্যজন (৬২) বছরের বৃদ্ধ।

এ নিয়ে গত দুই মাসে জেলায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এদের বেশিরভাগের নমুনা পরীক্ষা করা হলে করোনা নেগেটিভ আসে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, শনিবার রাতে ফেনী সদর উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে এক ব্যক্তি (৬২) ফেনী জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকার বাসিন্দা।

একই দিন ধলিয়া ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামের এক বৃদ্ধ (৮০) ডায়েরিয়া নিয়ে আসেন। হাসপাতালে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তিনি মারা যান।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, করোনা উপসর্গ থাকায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

গত ২৮ মে ফেনী শহরে ইসলামপুর রোডের হাজী জালাল আহম্মদ চাল দোকানের ম্যানেজার সুমন সাহার (৪২) সকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে।

সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের আবুপুরের এক নারী (৬০) রাজধানীর জাতীয় কিডনি ডায়ালাইসিস ইনস্টিটিউটে মারা যান। গত ১৩ এপ্রিল করোনা সন্দেহে স্থানীয়রা নিজ গ্রামে কবর দিতে বাধা দিলে পরে ফেনী পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সদর উপজেলার ফাজিলপুরের দক্ষিণ শিবপুর গ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ৯ এপ্রিল এক ব্যক্তি (৬০) মারা যান। তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি মাছের আড়তে চাকরি করতেন।

গত ১ এপ্রিল সদর উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সিলোনিয়া গামের যুবক (৩০) জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যান। ওই যুবক ফেনী শহরের একটি গ্রিল ওয়ার্কশপে কাজ করতেন।

দাগনভূঞা পৌর শহরের ভাড়া বাসায় জ্বর-সর্দি শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ২৬ এপ্রিল মারা যান এক চা দোকানি (৪৫)। তিনি ফেনী শহরের লাভ মার্কেটের সামনে ফুটপাতে চায়ের দোকান করতেন। তার বাড়ি উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সেকান্তরপুর গ্রামে।

জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ২১ এপ্রিল দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে মারা যান এক ব্যক্তি (৬৮)। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।

গত ২৮ মে জ্বর ও কাশি নিয়ে সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের এক যুবক (৩০) মারা যান।

করোনার উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ মে সোনাগাজী উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়নের চান্দলা গ্রামের মসজিদের ঈমাম (৭৫) মারা যান। পরে তাকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সমাহিত করা হয়।

গত ১১ এপ্রিল পরশুরাম পৌরসভার কোলাপাড়া গ্রামের এক মাদ্রাসা ছাত্র (২০) জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যায়। তিনি পরশুরাম ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্র।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, শনিবার ১৪১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

এ পর্যন্ত এক হাজার ৫৩৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোয়াখালী আবদুল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ১৪১৮ জনের প্রতিবেদন আসে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত