সচেতন থাকুন সুস্থ থাকুন

  আঞ্জুমান আরা ০২ জুন ২০২০, ১৭:১৩:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

ফাইল ছবি

একটানা দীর্ঘদিন সাধারণ ছুটি শেষে ৩১ মে থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালতসহ প্রায় সবধরনের কর্মস্থলে প্রাণচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে।

চালু হয়েছে গণপরিবহন। যদিও করোনা ঝুঁকি এতটুকু কমেনি বরং বেড়েছে। তাই এখন আমাদের ঝুঁকি নিয়েই নিত্যদিনের কাজকর্ম ও যাতায়াত করতে হবে।

আর এটিই স্বাভাবিক। কারণ করোনার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। তাই ভয় না পেয়ে ভালো থাকার চেষ্টা করুন। নিয়মের মধ্যে থাকুন– সচেতন থাকুন। একমাত্র ব্যক্তিগত সচেতনতাই পারে এখন আমাদের নিরাপদ রাখতে।

করোনাকালে যেসব ব্যক্তিগত সচেতনতা আমাদের মেনে চলা প্রয়োজন

যেহেতু এখন আপনাকে প্রতিদিন কর্মস্থলে যেতে হবে তাই কর্মক্ষেত্রে বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুতে চেষ্টা করুন (সাবান যত ক্ষারযুক্ত হয় তত ভালো) এবং অবশ্যই ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে।

সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। বাইরে গেলে পকেটে বা ব্যাগে স্যানিটাইজার রাখুন। আধ ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা পর পর হাতে মাখুন। বাইরে থেকে ঘরে ফিরেও বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন।

শারীরিক দূরত্ব মেনে চলুন। এটি এখন ৩ ফুট নয়– ৬ ফুট মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

যাতায়াতে এবং কর্মক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করুন। বাইরে বেরোলে সম্ভব হলে মাস্কের সঙ্গে ফেস শিল্ড ব্যবহার করুন। এটি খুব কার্যকর।

বাড়িতে বয়স্ক সদস্য থাকলে আপনারা যারা বাইরে যাচ্ছেন; তারা ঘরেও যতটা সম্ভব মাস্ক ব্যবহার করতে চেষ্টা করুন। পাশাপাশি বয়স্ক সদস্যকে নিরাপদে রাখতে তার থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন।

বাইরে বের হলে চশমা/রোদচশমা ব্যবহার করতে পারেন।

কর্মক্ষেত্রে খাবার বা পানি শেয়ারিং বন্ধ করুন। নিজের প্লেট, গ্লাস ও পানির বোতল আলাদা রাখুন।

গণপরিবহন পারতপক্ষে পরিহার করুন। হাঁটুন অথবা সাইকেল, মোটরসাইকেল, নিজের গাড়ি ব্যবহার করতে চেষ্টা করুন।

আংটি, চুড়ি, ঘড়ি ও ব্রেসলেট ইত্যাদি এক্সেসরিজ এখন ব্যবহার করবেন না। বিশেষ করে মেটালজাতীয় অনুষঙ্গ। কারণ মেটালে করোনাভাইরাস প্রায় ৩ দিন পর্যন্ত জীবিত থাকে।

বাইরে গেলে মোবাইল একটি পলিব্যাগে রাখুন। স্পিকার মোডে কল রিসিভ করতে চেষ্টা করুন। আপাতত হেডফোন এড়িয়ে চলুন।

বাইরে কারও কাছ থেকে টাকা গ্রহণের পর টাকায় সামান্য জীবাণুনাশক স্প্রে করে দিন এবং টাকাটা পকেটে রাখতে হলে পলিব্যাগে ভরে রাখুন। টাকা লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ব্যবহার্য জিনিসপত্র পরিষ্কারের জন্য হেক্সিসল আর মোবাইল, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, মাউসসহ অন্যান্য ডিভাইসগুলো পরিষ্কারের জন্য অ্যালকোহল ওয়াইপস ব্যবহার করতে পারেন (Alcohol pad স্যালাইন দেয়ার জন্য হাসপাতালে যা ব্যবহার করে)।

করোনাভাইরাস কাপড়ে খুব বেশি সময় জীবিত না থাকলেও প্লাস্টিক এবং স্টেইনলেস স্টিলে ৩ দিন এবং কার্ডবোর্ডে ১ দিনের কম থাকতে পারে। সুতরাং এগুলো স্পর্শ করা যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ জীবাণুমুক্ত রাখুন। সবসময় লাইজল অথবা ব্লিচিং-পানি মিশিয়ে প্রস্তুত রাখুন।

অফিস ডেস্ক পরিষ্কার করে বসুন। প্রতিবার অতিথি বিদায় করে ডেস্ক পরিষ্কার করুন হেক্সিসল বা ব্লিচিং মিশ্রিত পানি দিয়ে।

অফিস রুমের দরজা-জানালা খোলা রাখুন। এসি ব্যবহার না করতে চেষ্টা করুন। এসিওয়ালা বদ্ধঘরে করোনাভাইরাস বেশিদিন বাঁচে।

অফিসের কমনরুম, কমনস্পেন বা মিটিংরুম যথাসম্ভব পরিহার করুন। প্রয়োজনে ব্যবহারের আগে হেক্সিসল, লাইজল দিয়ে অফিস ওয়াশরুমের কল, দরজার হাতল, কমোড নিজে পরিষ্কার করে নিন।

বাইরের খাবার পরিহার করুন। অফিসে ঘরে তৈরি খাবার নিয়ে যান। খাওয়া শেষে নিজের ব্যবহৃত গ্লাস ও প্লেট নিজেই পরিষ্কার করুন। অফিসে চা, কফি ও নাশতা এখন যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

আপনি যদি অফিসপ্রধান হয়ে থাকেন তবে অফিসে একটি শিডিউল তৈরি করুন। প্রতিদিন প্রত্যেকের উপস্থিতি পরিহার করুন। আপনার নিজের বাঁচার স্বার্থেই বাইরে থেকে ঘরে ফিরে সরাসরি গোসলে যান।

গোসলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে চেষ্টা করুন এবং পরিধেয় পোশাক একঘণ্টা ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে দিন। চেষ্টা করুন ফুলহাতা জামা পরতে।

এখন ওয়াশেবল ব্যাগ ব্যবহার করুন এবং কর্মস্থল থেকে ঘরে ফিরে প্রতিদিন ব্যাগ ধুয়ে ফেলুন।

বাইরে ব্যবহৃত জুতা ঘরে ঢোকাবেন না- দরজার বাইরে রাখুন।

দরজা খোলা বা বন্ধ করার পর ডোরনব, হ্যান্ডেল, কলিংবেলের সুইচ ও লিফটের বাটন ইত্যাদি জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করুন।

যেহেতু এখন প্রতিদিনই ঘরের বাইরে যেতে হবে তাই অবশ্যই ঘরে ফেরার পর সম্ভব হলে দিনে কয়েকবার ব্লিচিং মিশ্রিত পানি বা অন্য কোনো জীবাণুনাশক দিয়ে ঘরের মেঝে পরিষ্কার করুন।

ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করলে গাড়ির চাকায় জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।

সবকিছু খুলে গেলেও খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার চেষ্টা করুন। কর্মক্ষেত্রে যেতে হলেও এর বাইরে অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা, শপিং, জনকোলাহল, সামাজিক অনুষ্ঠান ও পাবলিক টয়লেট ইত্যাদি ব্যবহার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে কিছুক্ষণ পর পর কুসুম গরম পানি, আদা-লেবুর রস-এলাচ-দারুচিনি-লং দিয়ে তৈরি রং চা ও লেবু পানি পান করুন। লবণ মিশ্রিত কুসুম গরম পানি দিয়ে গার্গল করুন।

সহমর্মী হউন। করোনাকাল কতদিন থাকবে কেউ জানে না। আবার আপনি যে আক্রান্ত হবেন না তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই অন্যের প্রতি সহমর্মী হউন।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত