শরণখোলায় ডাক্তার নিয়োগে বৈষম্য
jugantor
শরণখোলায় ডাক্তার নিয়োগে বৈষম্য

  শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি  

১৩ জুন ২০২০, ০১:৩৬:০২  |  অনলাইন সংস্করণ

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈষ্যম্যের শিকার হচ্ছে। জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে আটটিতেই ১১ জনের অধিক সংখ্যক ডাক্তার নিয়োগ থাকলেও শরণখোলা উপজেলায় মাত্র পাঁচ জন। এর মধ্যে থেকে ৩ জুন একজনকে খুলনায় বদলী করা হয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে ফকিরহাটে ১৭ জন, মোল্লাহাটে ১১ জন, চিতলমারিতে ১২ জন, রামপালে ১২ জন, মোংলায় ১২ জন, বাগেরহাট সদরে ২২ জন, কচুয়ায় ১৩ জন, মোরেলগঞ্জে ১২ জন ডাক্তার নিয়োগ রয়েছে।

অথচ শরণখোলায় মাত্র পাঁচজন ডাক্তার কর্মরত আছেন। এই পাঁচজনের মধ্যে থেকে আবার করেনার কারণে দুইজনকে রিজার্ভ রাখতে হয়। গত তিন দিন ধরে একজন শারীরিকভাবে অসুস্থ। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। বর্তমানে করোনাভাইরাস আক্রান্তের দিক থেকে জেলার মধ্যে শরণখোলা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী চিকিৎসা সেবা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

এদিকে গত ছয় মাস আগে সিরাজুল ইসলাম নামের একজন ডাক্তার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করে আন্তরিকভাবে রোগী দেখায় সাধারণ মানুষ তার প্রতি আস্থা ফিরে পান। কিন্তু ৩ জুন খুলনার উপ-পরিচালকের দফতর থেকে ডা. সিরাজুলকে র‌্যাব-৬ এর করোনা আইসোলেশন সেন্টারে বদলী করা হয়। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তা ও রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, চিকিৎসক সংকটের মধ্যে ডা. সিরাজুল ইসলাম সাধারণ মানুষের কাছে একজন ভাল ডাক্তার হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। তার কাছে মানুষ বেশি চিকিৎসা সেবা নিতে আসার কারণে ডাক্তার সংকট কিছুটা হলেও সমাধান হতো। এ মুহূর্তে তাকে বদলি করায় এলাকাবাসীর ক্ষতি হয়ে গেছে।

উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাহিমা আক্তার হাসি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিনের পর দিন ডাক্তার সংকট থাকার কারণে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবিলম্বে চিকিৎসক নিয়োগের বৈষম্য দুর করার দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি গত আট মাস আগে যোগদান করে এখানে মাত্র দুইজন ডাক্তার পাই। এখন পাঁচজনের মধ্যে থেকে করোনা পরিস্থিতিতে দুইজন ডাক্তারকে পালাক্রমে রিজার্ভ রাখতে হয়। একজন ডাক্তারকে জরুরি বিভাগ ও ইনডোরের ভর্তি রোগী দেখতে হয়। অপর একজনের পক্ষে আউটডোরের রোগী দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

জানতে চাইলে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডাক্তার হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিটি উপজেলায় একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, একজন ডেন্টিস্ট ও পাঁচজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থকার নিয়ম। এরপরে ইউনিয়ন ভিত্তিক ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যেহেতু কোনো উপজেলায় নাই তাই ইউনিয়ন কোটা ছাড়া শরণখোলায় ডাক্তার দেয় হয়নি।

শরণখোলায় ডাক্তার নিয়োগে বৈষম্য

 শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি 
১৩ জুন ২০২০, ০১:৩৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার নিয়োগে দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈষ্যম্যের শিকার হচ্ছে। জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে আটটিতেই ১১ জনের অধিক সংখ্যক ডাক্তার নিয়োগ থাকলেও শরণখোলা উপজেলায় মাত্র পাঁচ জন। এর মধ্যে থেকে ৩ জুন একজনকে খুলনায় বদলী করা হয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে ফকিরহাটে ১৭ জন, মোল্লাহাটে ১১ জন, চিতলমারিতে ১২ জন, রামপালে ১২ জন, মোংলায় ১২ জন, বাগেরহাট সদরে ২২ জন, কচুয়ায় ১৩ জন, মোরেলগঞ্জে ১২ জন ডাক্তার নিয়োগ রয়েছে।

অথচ শরণখোলায় মাত্র পাঁচজন ডাক্তার কর্মরত আছেন। এই পাঁচজনের মধ্যে থেকে আবার করেনার কারণে দুইজনকে রিজার্ভ রাখতে হয়। গত তিন দিন ধরে একজন শারীরিকভাবে অসুস্থ। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। বর্তমানে করোনাভাইরাস আক্রান্তের দিক থেকে জেলার মধ্যে শরণখোলা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী চিকিৎসা সেবা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

এদিকে গত ছয় মাস আগে সিরাজুল ইসলাম নামের একজন ডাক্তার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করে আন্তরিকভাবে রোগী দেখায় সাধারণ মানুষ তার প্রতি আস্থা ফিরে পান। কিন্তু ৩ জুন খুলনার উপ-পরিচালকের দফতর থেকে ডা. সিরাজুলকে র‌্যাব-৬ এর করোনা আইসোলেশন সেন্টারে বদলী করা হয়। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তা ও রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, চিকিৎসক সংকটের মধ্যে ডা. সিরাজুল ইসলাম সাধারণ মানুষের কাছে একজন ভাল ডাক্তার হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। তার কাছে মানুষ বেশি চিকিৎসা সেবা নিতে আসার কারণে ডাক্তার সংকট কিছুটা হলেও সমাধান হতো। এ মুহূর্তে তাকে বদলি করায় এলাকাবাসীর ক্ষতি হয়ে গেছে।

উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাহিমা আক্তার হাসি বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিনের পর দিন ডাক্তার সংকট থাকার কারণে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবিলম্বে চিকিৎসক নিয়োগের বৈষম্য দুর করার দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমি গত আট মাস আগে যোগদান করে এখানে মাত্র দুইজন ডাক্তার পাই। এখন পাঁচজনের মধ্যে থেকে করোনা পরিস্থিতিতে দুইজন ডাক্তারকে পালাক্রমে রিজার্ভ রাখতে হয়। একজন ডাক্তারকে জরুরি বিভাগ ও ইনডোরের ভর্তি রোগী দেখতে হয়। অপর একজনের পক্ষে আউটডোরের রোগী দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

জানতে চাইলে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডাক্তার হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিটি উপজেলায় একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, একজন ডেন্টিস্ট ও পাঁচজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থকার নিয়ম। এরপরে ইউনিয়ন ভিত্তিক ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যেহেতু কোনো উপজেলায় নাই তাই ইউনিয়ন কোটা ছাড়া শরণখোলায় ডাক্তার দেয় হয়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১