কক্সবাজারের শতাধিক গ্রাম পানির নিচে

  কক্সবাজার প্রতিনিধি ১৮ জুন ২০২০, ১৯:১৮:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

টানা ৩ দিনের বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে জেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। করোনার মধ্যে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি দুর্বিসহ করে তুলেছে জেলাবাসীর জনজীবন। করোনার রেড জোন ঘোষণা করে জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় চলছে লকডাউন।

কক্সবাজার শহরেই অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল পৌর শহরের বিভিন্ন অলি-গলি ও বাসা-বাড়িতে ঢুকে জলমগ্ন হয়ে পড়ায় মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। এমনিতেই কক্সবাজার পৌর শহরের সবকটি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করে চলছে লকডাউন।

কক্সবাজার জেলার সদর, রামু, টেকনাফ, উখিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলার শতাধিক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে আছে। এর মধ্যে রামু উপজেলার বাঁকখালী নদী, সোনাইছড়ি এবং উখিয়ার রেজু খালের পানি বেড়ে যাওয়ায় আশপাশের ১৮ থেকে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

একইভাবে উখিয়া উপজেলার গোয়ালিয়া, খুনিয়াপালং, রত্না পালং, কোটবাজার, জালিয়া পালং, সোনাইছড়ি, রুমখাঁ মনিরমার্কেট, ঘিলাতলী, আদালত ভবন এলাকা, ভূমি অফিস, উখিয়া বাজার, খাদ্য গুদাম, বালুখালী, রাহমতের বিল, আঞ্জুমানপাড়া, তুতুরবিল, জালিয়া পালং-এর পাইন্যাশিয়া, সোনারপাড়া, হলদিয়া পালংয়ের একাংশ, রত্নাপালংয়ের চাকবৈঠা, ডিগলিয়া পালংসহ প্রায় ৩২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

উখিয়ার সাংবাদিক শহীদ রুবেল জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এমন বৃষ্টি পানির আর পাহাড়ি ঢল অন্যান্য বছর লক্ষ্য করা যায়নি।

টেকনাফের সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন ভুলু জানান, টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের ১০/১২টি গ্রামসহ উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রাম পানিবন্দি রয়েছে।

চকরিয়ার সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম ও আবদুল মজিদ জানান, চকরিয়ার ২৫টির অধিক গ্রাম এখনও পানির নিচে রয়েছে।

পেকুয়ার সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন জানান, উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা, কাঁকড়াসহ আরও বেশ কয়েকটি এলাকা বর্তমানে পানির নিচে রয়েছে।

মহেশখালী উপজেলা যুবলীগ নেতা আহসান উল্লাহ আহসান জানান, উপজেলার ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, কুতুবজুম, কালারমারছড়া, হোয়ানকসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ১০-১৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কুতুবদিয়ার সাংবাদিক ইফতেখার সাজিদ জানান, উপজেলার তাবলেরচর, উত্তর ধুরুং, দক্ষিণ ধুরুং, আলী আকবর ডেইলসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে প্লাবনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানির নিচে রয়েছে। পাশাপাশি বেড়িবাঁধও ভেঙ্গে গেছে।

বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রামু, নাইক্ষ্যংছড়ি, মহেশখালী, সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ভেঙ্গে গেছে। রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ জানান, ভারি বর্ষণে তার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার চলাচলের প্রধান সড়ক ও শত শত বসতঘর পানিতে ডুবে গেছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সোলতান জানান, বৃষ্টির পানিতে তার ইউনিয়নসহ সদর উপজেলার প্রায় ৩৫টির অধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তার বাড়িটিও পানির নিচে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩নং সর্তক সংকেত বহাল রয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের কোনো আশঙ্কা নেই।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা যুগান্তরকে বলেন, কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টির কারণে জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ওই প্লাবিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনদের তালিকা প্রণয়নে ইতিমধ্যে মাঠে জেলা প্রশাসনের কাজ শুরু হয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে সহযোগিতা পৌঁছে দেয়া হবে।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে প্লাবিত এলাকার লোকজনদের শুকনো খাবারসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকারিভাবে যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণও মজুদ রয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত