যশোরে রেড জোনে ঢিলেঢালা লকডাউন

  যশোর ব্যুরো, কেশবপুর ও অভয়নগর প্রতিনিধি ২২ জুন ২০২০, ২২:৩৪:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যশোর জেলার ১৯টি এলাকাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার থেকে ওই এলাকায় সাধারণ ছুটি শুরু হয়েছে। আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে ছুটি।

প্রথম দিনে রেড জোন এলাকায় লকডাউন ঢিলেঢালাভাব দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা কমেনি। আগের মত স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে।

জানা যায়, যশোরের অভয়নগর উপজেলার চলিশিয়া, পায়রা ও বাঘুটিয়া ইউনিয়ন, নওয়াপাড়া পৗরসভার ২, ৪, ৫, ৬, ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড, চৌগাছা পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ড, ঝিকরগাছা পৌরসভার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড, কেশবপুর পৌরসভার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড, যশোর পৌরসভার ৪ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড, সদর উপজেলার আরবপুর ও উপশহর ইউনিয়ন, বেনাপোল পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড ও শার্শা ইউনিয়নকে রেড জোন ঘোষণা করে সাধারণ ছুটি দেয়া হয়েছে। সোমবার প্রথমদিন রেড জোন এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকলেও লকডাউন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। অনেকটা ঢিলেঢালাভাবে লকডাউন হয়েছে।

কেশবপুর পৌরসভার বাসিন্দা মশিয়ার রহমান জানান, এই ওয়ার্ডে অর্ধেক এলাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র। ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ। অধিকাংশ মানুষ বেকার জীবন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় কাউন্সিলর আতিয়ার রহমান বলেন, লকডাউন করার পর তারা হতদরিদ্র ৩৬টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সরবরাহ করেছি। এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ দিন মজুর। তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত খাদ্য সরবরাহের দাবি করছি।

অভয়নগরের চলিশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, লকডাউন মানছে না সাধারণ জনগণ। গ্রামের মোড়ে মোড়ে বসানো চায়ের দোকানে চলছে বেচাকেনা। প্রশাসনের গাড়ি দেখলে দোকানপাট বন্ধ করে দৌঁড়ে পালায়। গাড়ি চলে গেলে আবার শুরু হয় বেচাকেনা।

নওয়াপাড়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এমএম আলাউদ্দিন জানান, নওয়াপাড়া শহরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রেখে সাধারণ জনগণ চলাফেরা করছে দেদারছে। অনেক দোকানে গোপনে চলছে বেচাকেনা। ক্রেতারা আসলে দোকানে মধ্যে প্রবেশ করে বাইরে দিকে থেকে তালা লাগিয়ে ভিতরে চলছে বেচাকেনা। তাছাড়া শহরে আসা অনেকেই ব্যবহার করছেন না মাস্ক। উপজেলা প্রশাসন গাড়ি নিয়ে শহরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জানাজানি হলে সবাই সতর্কতার রূপ ধারণ করে।

অভয়নগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএম রফিকুল ইসলাম জানান, জনগণ লকডাউন মানতে চায় না। যতক্ষণ প্রশাসনের লোকজন থাকে ততক্ষণ মানুষ স্বাভাবিক থাকে। প্রশাসন চলে গেলে আগের অবস্থায় ফিরে যায় জনগণ। সচেতন ছাড়া লকডাউন কার্যকর করা কোনোক্রমেই সম্ভব না। জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন থেকে সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বাড়ানো হয়েছে।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান পপি জানান, শুক্রবার পৌর শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডে লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে। এই ওয়ার্ডে ৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়। তার মধ্যে যশোর ২৫০ শয্যার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও তার স্ত্রীও রয়েছেন।

এছাড়াও সোমবার থেকে পৌরসভার ৪ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং সদর ইউনিয়ন লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, রেড জোন এলাকায় অফিস আদালত ছুটি ঘোষণা হয়েছে। ওই এলাকায় লকডাউন কার্যকরে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পৌরসভা মাইকিং করবে। সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, লকডাউন এলাকার বাসিন্দাদের ত্রাণ সহায়তা করা হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত