কিট সংকটে ফেনীতে নমুনা সংগ্রহ বন্ধ

  যতন মজুমদার, ফেনী ২৪ জুন ২০২০, ২২:৫২:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

ফেনীতে কিট সংকটের কারণে নমুনা পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। ৫ দিন ধরে নমুনা পরীক্ষা বন্ধ থাকায় সংক্রমণ ঝুঁকিও বাড়ছে। পরীক্ষাগারে আটকে আছে আরও ১ হাজার ২৭৩ জনের সংগৃহীত নমুনা।

জেলা করোনা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সমন্বয়ক ডা. শরফুদ্দিন মাহমুদ জানান, ফেনীতে এখন করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ সীমায় রয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে নমুনা সংগ্রহের আবেদন। বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। কিন্তু হঠাৎ কিট সংকটে রোগী শনাক্তকরণ কাজ থমকে গেছে। শনাক্ত না হওয়ায় রোগী নিজের অজান্তে তার সোসাইটিতে বিচরণ করে সংক্রমণ বাড়াচ্ছে। গত ১৯ জুন থেকে কিট সংকটের কারণে ফেনীতে নমুনা সংগ্রহ বন্ধ থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

তিনি জানান, ১৬ এপ্রিল ফেনীতে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ফেনী থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশন্স ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হতো। কিন্তু সেখানে চট্টগ্রাম বিভাগের ছয় জেলার নমুনা পরীক্ষার কারণে সব সময় জটলা লেগে থাকত। ফলাফল পেতে ১০-১২ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত।

এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজে করোনা নমুনা পাঠানোর জন্য বলা হয়। এ কলেজে রিপোর্ট পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমে এলেও হঠাৎ ১৯ জুন থেকে কিট না থাকায় নমুনা পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়া হয়।

অপরদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ফেনী থেকে এ পর্যন্ত করোনা উপসর্গে ভোগা ৪ হাজার ৫৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৭১ জনের ফলাফল এসেছে। যার মধ্যে ৬৫৩ জনের করোনা পজিটিভ। এখন পর্যন্ত পরীক্ষাগারে ১ হাজার ২৭৯ জনের নমুনা আটকে আছে।

ফলাফল প্রাপ্তদের মধ্যে মারা গেছেন ১৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৩৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালে আইসোলেশনে ভর্তি আছেন ৪৫ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে ১৩ জনকে। বাকি রোগীরা নিজ গৃহে আইসোলেশন করে স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শে চিকিৎসাধীন।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) মো. ইকবাল হোসেন ভূঞা জানান, কিট সংকট থাকায় নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ থেকে নমুনা পাঠাতে নিষেধ করা হয়েছে। ১৯ জুন থেকে নমুনা সংগ্রহ বন্ধ রেখেছি। কিট পাওয়া গেলে পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

জেলা ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা যুগান্তরকে জানান, কিট পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। অফিসিয়াল ও নন-অফিসিয়ালভাবে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা চলছে। আশা করা যায় শিগগিরই কিটের ব্যবস্থা হবে।

নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের ল্যাব ইনচার্জ ডা. ফজলে এলাহী জানান, প্রতিদিন ফেনী থেকে আসা ১৮০ থেকে ১৯০টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আমরা দিয়ে আসছিলাম। কিন্তু গত কয়েকদিন কিট না থাকায় তাদের নমুনা পাঠাতে বারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমাদের ল্যাবে ফেনীর ১ হাজার ২৭৯ জনের নমুনা পড়ে আছে। কিট পাওয়া গেলে আবারও কার্যক্রম চালু করা হবে।

এ দিকে সংক্রমণ ঠেকাতে ফেনীর ১০ এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করা হলেও কিছু কিছু এলাকায় তা মানা হচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস্তার মোড়ে বাঁশ লাগিয়ে পথ বন্ধ করা হলেও তদারকি না থাকায় স্থানীয়রা নিজের ইচ্ছে মতো ঘোরাফেরা করছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত