ঘুড়িতে বিনোদন খুঁজছেন কর্মহীনরা

  মাসুদ রানা, মহম্মদপুর (মাগুরা) ৩০ জুন ২০২০, ২২:২৮:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারীতে দেশজুড়ে বিরাজ করছে অস্থির পরিবেশ ও আতঙ্ক। বন্ধ রয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঠিক এমন সময় মানসিক একটু শান্তি আসায় মাগুরার মহম্মদপুরের আকাশে উড়ছে রঙ-বেরঙের ঘুড়ি।

শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার অনেক কর্মহীনরা থেমে নেই এ বিনোদনে। বিকাল হলেই শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী, যুবক, বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ প্রতিদিনই নেমে পড়েন বাহারি রঙের ঘুড়ি ওড়াতে। দিন-রাত তাদের বাহারি রঙের ঘুড়ি শোভা পাচ্ছে আকাশজুড়ে।

লাল, নীল, সাদা আর হলুদ রাঙা ঘুড়ি সেখানে যেন দুলে দুলে ভাসছে। ছোট বড় নাটাই হাতে ভাগ হয়ে চলছে ঘুড়ির লড়াই। বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা হলে রঙ-বেরঙের আলো লাগানো ঘুড়িতে পুরো আকাশ আলোকিত হয়ে পড়ছে। কিশোর-তরুণদের উচ্ছ্বল মনে কি আনন্দ!

গ্রামবাংলার চিরায়ত ঘুড়ি নিয়ে মেতে ওঠার এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতি নদীর পাড় ও শেখ হাসিনা সেতুতে। বাঙালির ঐতিহ্য ঘুড়ি উড়ানোর এ উৎসব নিত্যদিনই অনন্য এক বিনোদনের খোরাক আগত দর্শনার্থীদের। তাদের পাশাপাশি কিশোর-তরুণদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হচ্ছে মধুমতির পাড়।

সরেজমিন দেখা যায়, শেখ হাসিনা সেতু ও সেতু সংলগ্ন মধুমতি নদীর পাড়ে রোজকার বিকালে ঘুড়ি উড়ানোর রঙিন উৎসবে মেতে উঠছে কিশোর-তরুণসহ নানা বয়সী মানুষ। রঙিন ঘুড়ির সুতোয় বয়স্করা কৌশোরের উন্মাদনায় ফিরে যান। প্রতিটি ঘুড়ির সঙ্গে তাদের উচ্ছ্বল মনও যেন উড়ে বেড়ায়। পাক খেয়ে ঘুড়ি উপরে উঠে যাওয়ার দৃশ্য দর্শনার্থীরাও উপভোগ করেন।

করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ঘরে অবস্থানের কারণে অনেকের মধ্যে অবসাদ ভর করেছে। মধুমতি পাড়ে ও শেখ হাসিনা সেতুতে এসে তারা অবসাদ যেন ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন। মুক্ত আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে অনেকের মানসিক যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলে মুক্তি মিলছে বলে জানা যায়।

আমিনুর রহমান ডিগ্রি কলেজের এক ছাত্র বলেন, দীর্ঘদিন কলেজ বন্ধ। দীর্ঘদিন মাঠে খেলাধুলা করা হয় না। সব সময় রুমেই থাকি। একঘেয়েমি কাটাতে এখন বিকাল হলেই শেখ হাসিনা সেতুতে এসে ঘুড়ি উড়াই।

তরুণ ও কিশোররা জানায়, স্কুল বন্ধের সময় ঘুড়ি উড়ানোর কাজে ব্যস্ত থাকি। আকাশে ঘুড়ি উড়াতে অনেক ভালো লাগে।

কর্মহীন যুবক মেহেদী হাসান বলেন, ঘুড়ি ওড়ানোটা নেশা না হলেও করোনার কারণে ঘুড়ি উড়িয়ে সময় কাটাচ্ছি। বিকালটা অনেক আনন্দে কেটে যাচ্ছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত