রংপুরে করোনার নমুনা ও ফল নিয়ে ভোগান্তি

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো ৩০ জুন ২০২০, ২৩:০৮:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

রংপুর মেডিকেল কলেজে স্থাপিত করোনাভাইরাস শনাক্তে পিসিআর ল্যাবে নমুনা ও ফল পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে করোনা পরীক্ষাকারীদের।

একটিমাত্র ল্যাবে প্রতিদিন দুই শিফটে ১৮৮টির বেশি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায়, প্রতিদিন বাড়ছে নমুনার প্রদানকারীদের নমুনার জট। এ পরিস্থিতির মধ্যে সংগৃহীত সাড়ে ৯ হাজার জনের নমুনা ফলাফল আটকে রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, করোনা পরীক্ষার নমুনা দেয়া ও ফল প্রাপ্তি নিয়ে তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেক ভোগান্তির পর নমুনা দিতে পারলেও ফল পাওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকার কারণে মারাত্মক বিড়ম্বনায় পড়েছে নমুনা প্রদানকারীরা। নমুনা দেয়ার পর ন্যূনতম ৭ দিন থেকে ১৫ দিনও অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

আবার নমুনা দেয়ার পর সন্দেহভাজনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক হলেও তা নিশ্চিত করার কোনো প্রচেষ্টা নেই। ফলে নমুনা জমা দেয়া ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাপন করায় এবং তাদের গতিবিধি সীমিত না করার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি আশংকাজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন বলেন, টেস্ট করতে সময় লাগছে। এরপর করোনা পজিটিভ না নেগেটিভ সেটা বুঝতেও সময় লাগছে। এতে করে বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর শালবন মহল্লার এক বাসিন্দা তিনি নমুনা প্রদানের ৯ দিন পর জানতে পারেন তিনি করোনা পজিটিভ। এ সময়কালে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কোনো পরামর্শ না দেয়ায় তিনি ৯ দিন ধরেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছেন। বাজার-হাটসহ সব কাজের জন্য তিনি বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন।

তিনি নিজেই এখন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার মাধ্যমে এ সময়কালে অনেকেই সংক্রমিত হয়েছেন। এ অবস্থার কারণে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ছে বলে অনেকেই মনে করেন।

রমেক সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট সাড়ে ১২ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ২৪ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। সাড়ে ৯ হাজার নমুনা এখনও জমা পড়ে আছে ল্যাবরেটরিতে। এ সব নমুনা ঢাকায় নিয়ে পরীক্ষার আবেদন করার এখনও সুরাহা হয়নি।

রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নূরন্নবী লাইজু বলেন, ১ কোটি মানুষের মাঝে শুধু ১৮৮টি পরীক্ষা খুবই অপ্রতুল। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০০ জন করে আসে, অতিরিক্ত সংগৃহীত নমুনা ল্যাবে জমা আছে। জমাপড়া নমুনা ঢাকায় নিয়ে পরীক্ষার অনুরোধ জানিয়ে আইইডিসিআরকে চিঠি দেয়া হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

রংপুরের সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায় বলেন, জেলায় করোনাভাইরাসে ১৩ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ৯ জনের করোনা নিশ্চিত হয়েছেন মৃত্যুর পর সংগৃহীত নমুনা থেকে। রংপুরে আরও একটি পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হলে আমরা এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত