মৃত্যুর পর চাদরও জুটলো না লাশের ভাগ্যে

  নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ০৬ জুলাই ২০২০, ২৩:১৪:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

কখনও কিটের অভাবে টেস্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ব্যক্তিগত অর্থায়ন ছাড়া চালু করা সম্ভব ছিল না নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট। আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীরা অনেক সময় চেয়েও পান না চাদর কিংবা বালিশ কভার।

নারায়ণগঞ্জ করোনা হাসপাতালের এমন চালচিত্রে নতুন করে ফুটে উঠেছে আরেকটি মর্মস্পর্শী অব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্রের মধ্য দিয়ে। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটায় হাসপাতালের ২২নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া ব্যবসায়ী সমর কুমার সাহার (৫৫) লাশটি কয়েক ঘণ্টা পরে ছিল জরুরি বিভাগের বাইরে। রোগীর সঙ্গে থাকা বাড়ির চাদরেই অর্ধঢাকা অবস্থায় অনেকটা বেওয়ারিশ লাশের মতোই স্ট্রেচারে ছিল সমর কুমারের লাশ।

সন্তানহীন এই বৃদ্ধের একমাত্র ভাগ্নে অরবিন্দ সাহার শত আকুতিও কানে তোলেননি ওই সময় কর্তব্যরত কেউ। এমনকি হাসপাতালের পক্ষ থেকে লাশের প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখিয়ে একটি সাদা চাদর চেয়েও জুটেনি করোনার কাছে হেরে যাওয়া এই ব্যবসায়ীর ভাগ্যে। শেষ পর্যন্ত ওরা ১১ জন নামের স্বেচ্ছাসেবী করোনাযোদ্ধা সংগঠনের সদস্যরা এসে লাশটি সৎকারের জন্য নিয়ে যান। তবে লাশ নেয়ার জন্য একটি লাশবাহী ব্যাগ চেয়েও পাননি এই সংগঠনের সদস্যরা।

জানা গেছে, শহরের আমলাপাড়া এলাকার ভাড়াটিয়া সমর কুমার পেশায় একজন হোসিয়ারি ব্যবসায়ী। সন্তানহীন সমর কুমারের দেখভাল করতেন তার ভাগ্নে অরবিন্দ সাহা। গত ১ জুলাই বিকাল সাড়ে ৪টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে নগরীর খানপুর ৩শ’শয্যা বিশিষ্ট (করোনা হাসপাতাল) হাসপাতালে ভর্তি হন সমর কুমার সাহা। ২জুলাই তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পরে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জুলাই দিবাগত রাত আড়াইটায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত সমর কুমার সাহার ভাগ্নে অরবিন্দ সাহা যুগান্তরকে জানান, মামার মৃত্যুর খবর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার মোবাইল ফোনে জানালে আমি সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে যাই। উনি হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ২২নং ওয়ার্ডের ২০নং বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখি ওয়ার্ডের বাইরে স্ট্রেচারের ওপর মামার লাশ রেখে দেয়া হয়েছে। এ সময় মৃত্যুর কারণ ও শেষ অবস্থা জানতে চাইলে ওয়ার্ডের ডাক্তার বা নার্স কেউই কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি একটি সাদা চাদর চেয়েও পাইনি।

তিনি বলেন, আমার একার পক্ষে লাশ নামানো সম্ভব নয় জানিয়ে সাহায্যের জন্য বললে এমন একজন লোককে সাহায্যের জন্য দেয়া হয় যিনি নিজেও পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। অনেক কষ্টে লাশটি নিচে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর আমি লাশটি ঢাকবার জন্য একটি সাদা চাদর চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে একটি চাদরও দেয়া হয়নি। লাশ নেয়ার জন্য একটি লাশের ব্যাগ চাইলে জানিয়ে দেয়া হয় তাদের কাছে ব্যাগও নেই।

তিনি আরও জানান, রিপন ভাওয়ালের উদ্যোগে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওরা ১১ জনের একজন সদস্যের বাড়ি গিয়ে বিষয়টি জানালে ভোর পৌনে ৫টার দিকে তাদের টিম হাসপাতালে আসে। হাসপাতালে এসে দেখে আমার মামার লাশটি অর্ধঢাকা অবস্থায় জরুরি বিভাগের বাইরে বেওয়ারিশ লাশের মতো পরে আছে।

এদিকে ‘ওরা ১১ জন’ এর সমন্বয়ক রিপন ভাওয়াল জানান, আমরা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে এসে দেখি করোনা রোগীর লাশ বেওয়ারিশের মত পরে আছে। জরুরী বিভাগে থাকা একজনকে লাশের ব্যাগ চাইলে তিনি বললেন হাসপাতাল থেকে ব্যাগ দেয়া হয় না।

রিপন ভাওয়াল ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, এই হাসপাতাল ও চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান অর্ধ কোটি টাকার ওপরে ব্যক্তিগতভাবে ব্যয় করছেন শুধুমাত্র চিকিৎসা সেবা থেকে যাতে মানুষ বঞ্চিত না হয়। সেখানে সকাল সাড়ে ৫টা বাজে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ১ জন ছাড়া কাউকেই খুঁজে পেলাম না।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় জানান, আমরা তো শুধু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা যারা দাহ করবে তাদেরকে জানাবো। বাকিটা তো তারা করবে। ব্যাগও তারাই নিয়ে আসবে। শুধু জানানোটা আমাদের দায়িত্ব। আর লাশ ফেলে রাখার ব্যাপারটি সঠিক নয়, কারণ মৃত ব্যক্তির আত্মীয়ের কাছে লাশ বুঝিয়ে দিয়ে মৃত্যুর প্রমাণ পত্র দেয়া হয়েছে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত